কোরআনের পাতায় কেয়ামতের দৃশ্য

৳ 300.00

কেয়ামতের কথা ভাবতেই কলজেটাতে ভীষণ একটা কম্পন অনুভব করি। শুধু আমার কথাই বা বলি কেন। কেয়ামতের ভাবনা আসলে সবাইকেই ভাবিয়ে তোলে। ভাবতে কেমন লাগে- আমাদের এ আয়োজন একদিন শেষ হয়ে যাবে, আকাশ যমীন, পাহাড় পর্বত, মহাদেশ মহাসাগর সব বিলীন হয়ে যাবে, চাঁদ সুরূজ গ্রহতারা মিল্কিওয়ে গেলাক্সি ব্লাকহোল সব নিমিষে ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর শুরু হবে সৃষ্টি প্রক্রিয়ার নেক্সট ও ফাইনাল চ্যাপ্টার। চূড়ান্ত এই দৃশ্যপটের ঘটনা দুর্ঘটনা ও হিসাব কিতাবের নাম হচ্ছে- কেয়ামত।
কোরআনের পাতায়

কেয়ামতের দৃশ্য

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

 

কোরআনুল কারীমের বিশেষ দুটো আয়াত দিয়েই এই লেখাটা আমি শুরু করছি। আয়াত দু’টোতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন- ‘হে মানুষ তোমরা আল্লাহ তা’য়ালাকে ভয় করো, অবশ্যই কেয়ামতের কম্পন (হবে) একটি ভয়াবহ ঘটনা। সেদিন (কিন্তু) তোমরা তা (নিজেরাই) দেখতে পাবে, (সেদিন তোমরা দেখবে) বুকের দুধ খাওয়াচ্ছে এমন প্রতিটি নারী (ভয়াবহ আতঙ্কে)- তার দুধ খাওয়ানো শিশু সন্তানটিকে ভুলে যাবে- প্রতিটি গর্ভবতী (সেদিনের ভয়াবহতায়) তার গর্ভস্থিত বস্তুর বোঝা ফেলে দেবে, মানুষদের (যখন) তুমি দেখবে (তখন তোমার মনে হবে) তারা সবাই নেশাগ্রস্থ; কিন্তু আসলে তারা কেউই নেশাগ্রস্থ নয় বরং (এটা হচ্ছে এক ভীতিকর আযাব, আর) আল্লাহ তা’য়ালার আযাব অত্যন্ত কঠোর।’

এগুলো হচ্ছে সূরা আল হজ্জের প্রথম দু’টি আয়াত। এখানে আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতির সামনে একটি কঠিন দিনের চিত্র এঁকেছেন, সেদিনটির নাম কেয়ামত। কোরআনুল কারীমের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা এ দিনটিকে যেসব নামে অভিহিত করেছেন কেয়ামত তার মধ্যে একটি। কেয়ামত শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দাঁড়ানো; কিন্তু কিসের জন্যে দাঁড়ানোকে কোরআনের পরিভাষায় কেয়ামত বলা হয়েছে- তার পটভূমিকা আলোচনা করলেই কেয়ামত দিবসের ব্যাপারে কোরআনের অসংখ্য অগণিত আয়াতের যথার্থ মর্ম আমরা অনুধাবন করতে পারবো। কেয়ামতের গুরুত্ব বুঝানোর জন্যে আল্লাহ তা’য়ালা কোরআনুল কারীমে প্রায় ৫০০ আয়াতে এ কথাটি বলেছেন। আল্লাহ তা’য়ালা সাড়ে ৬ হাজারের ওপর আয়াত দিয়ে যে কিতাবটি নাযিল করেছেন তার মধ্যে প্রায় অর্ধসহস্র আয়াতই তিনি নাযিল করেছেন। এই একটি মাত্র বিষয়কে কেন্দ্র করে। কোরআনের সচেতন পাঠকের অবচেতন মনে স্বাভাবিকভাবেই এ প্রশ্নটি জাগবে যে, এমন কি আছে এতে- যে মাত্র এই একটি বিষয়ের জন্যেই স্বয়ং রাব্বুল আলামীনকে প্রায় ৫০০ টির ওপর আয়াত নাযিল করতে হয়েছে। হাঁ, কোরআনের সেসব সচেতন পাঠকদের এই প্রশ্নেরই জবাব হচ্ছে আমাদের পরিবেশিত ‘কোরআনের পাতায় কেয়ামতের দৃশ্য’।

আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর এই মাখলুকাতের সব কিছুই আমাদের জন্যে জোড়ায় জোড়ায় ইহকাল ও পরকাল- এই দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। পয়দা করেছেন। সৃষ্টি প্রক্রিয়ার এই মূল সূত্র মোতাবেক আমাদের সময়কেও তিনি সময়টা হচ্ছে আমাদের ইহকাল, আর মৃত্যু পরবর্তী যে অনন্ত জীবন তা হচ্ছে পরকাল। পরকালের এই জীবনের জন্যে আল্লাহ তা’য়ালা কোরআন মাজীদে ‘আখেরাত’ নামের আরেকটি সুন্দর পরিভাষা ব্যবহার করেছেন। আমরা বাংলাভাষী মানুষরাও এই মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্যে এই পরিভাষাটিই বেশী ব্যবহার করি। আসলে মানুষের ইহকাল হচ্ছে তার অর্জনের, আর পরকালের অনন্ত অসীম জীবন হচ্ছে অর্জিত সবকিছু উপভোগ করার। মানুষের সে অনন্ত জীবনের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে তার মৃত্যু, আর মৃত্যু পরবর্তী জীবনের সূচনাটাই হচ্ছে কেয়ামত।

আদি পিতা হযরত আদম থেকে পাথবাতে যে মানব সভ্যতার সূচনা হয়েছে কেয়ামত হচ্ছে তার চূড়ান্ত সমাপ্তি। কেয়ামতের দিন মানব জাতির সকল সদস্যকে আল্লাহ তা’য়ালা তার দুনিয়ার জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, অর্জন ও হারানোর কথা বলবেন। শুধু বলবেন- এটুকুই নয়- আল্লাহ তা’য়ালা সেদিন সূক্ষ্ম হিসাব করে প্রত্যেকটি আদম সন্তানকে তার পুরোপুরি পাওনাও বুঝিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা’য়ালা কোরআনের পাতায় আমাদের জন্যে এ দিনের হিসাব কিতাব, পাওয়া না পাওয়া ও পুরস্কার শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। এই তথ্যগুলো এতো ব্যাপক এতো বিস্তারিত যে- কোরআনের একটা বড়ো অংশ জুড়ে এর আলোচনা পর্যালোচনাগুলোই ছড়িয়ে আছে। এ আলোচনায় বারবার এ বিষয়টি আমাদের দেখানো হয়েছে যে, কেয়ামতের দিন বহু মানব সন্তানকে আল্লাহ তা’য়ালা যেমন এ দিনের বীভৎসতা থেকে বাঁচিয়ে দেবেন, তেমনি মানবজাতির একটি বড়ো অংশকে তিনি তাদের কার্যকলাপের জন্যে কঠোর শাস্তিও দেবেন, কিন্তু সে তো হচ্ছে বিচার আচারের পরের ঘটনা- এই বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত যাওয়ার যে দীর্ঘ অপেক্ষা, অপেক্ষার এ সময়টাতে মাথার ওপর মাত্র ১ বিঘত পরিমাণ কিংবা তার চেয়েও কম দূরত্বে সূর্যের প্রখর অবস্থান ইত্যাদি বিষয়ের যে খণ্ড চিত্রগুলো আল্লাহ তা’য়ালা এখানে পেশ করেছেন তা এতোই ভয়াবহ যে- মানব সন্তানের পক্ষে এটা দেখা শোনা দূরে থাক- তার কল্পনাশক্তিও এ পর্যন্ত পৌঁছুতে পারবে না।

কেয়ামত দিবসে হিসেবের নথিপত্র বুঝে নেয়ার জন্যে দুনিয়ার হিসেবে শত শত বছর আল্লাহর আদালতে দাঁড়িয়ে থেকে বিচারের রায় অর্থাৎ নিজ নিজ আমলনামা বুঝে নিয়ে অনন্ত জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটা হচ্ছে সেদিনের সবচাইতে বড়ো ঘটনা, এই প্রক্রিয়ার সাথেই মানব সন্তানের সে ঐতিহাসিক ফাইলটি গুছিয়ে নেয়ার পালা সম্পন্ন হবে যেটা শুরু হয়েছিলো প্রথম মানব আদি পিতা হযরত আদমের পৃথিবীতে অবতরণের দিন থেকে। অনন্ত জীবনের শুরু থাকে- শেষ থাকে না। শেষ থাকে না বলেই এটাকে বলা হয় অনন্ত। এই অনন্ত জীবনে মানব জাতির ঠিকানা হচ্ছে দুটো। কোরআনের ভাষায় এক ঠিকানা হচ্ছে জান্নাত আরেক ঠিকানা। হচ্ছে জাহান্নাম। বাংলা ইংরেজী আরবী উর্দু ফারসী হিন্দীসহ অধিকাংশ ভাষায় একই বর্ণ দিয়ে উভয় ঠিকানার লিখন অনুলিখন ও বর্ণনা শুরু হলেও জান্নাত জাহান্নাম সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী ও বিপরীতমুখী দুটো ঠিকানা। এক ঠিকানা হচ্ছে আযাবের ভীতিকর বীভৎস ও কঠোর শাস্তির। আরেকটি হচ্ছে পরম পাওয়া ও পরিতৃপ্তির। জান্নাতের সুখ প্রাচুর্য ও আরাম আয়েশের যেমন সীমা পরিসীমা নেই, তেমনি জাহান্নামের শাস্তি, কঠোরতা ও ভয়াবহতারও কোনো সীমা সরহদ নেই। এই দুই প্রান্তের দুই প্রান্তিকতা নিয়ে আল্লাহর নবী আমাদের শুধু এটুকু বলেছেন। যে- জান্নাত জাহান্নামের এসবকিছু কোনো মানুষের চোখ দেখেনি, কান শোনেনি, এমনকি কোনো মানুষের কল্পনাশক্তি এগুলো কল্পনাও করতে পারেনি। আসল কথা হচ্ছে, কোনো চোখের পক্ষে এগুলো দেখা, কোনো কানের পক্ষে এগুলো শোনা এবং কোনো মানবীয় কল্পনার পক্ষে এর ধারনা করাও সম্ভব নয়।

এমনি একটি কঠিন দিনের নাম হচ্ছে কেয়ামত। এ কেয়ামত দিবসের বিপদজনক পরিস্থিতি সম্পর্কিত কোরআনুল কারীমের সূরা আল হজ্জের দুটো আয়াত আমি ইতিপূর্বে উলেখ করেছি। কোরআনের পাতায় এ ধরনের আরো অসংখ্য আয়াত রয়েছে। সূরা আল মোযযাম্মেলে বলা হয়েছে, এই দিনের ভয়াবহতা কিশোরদের বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে, সূরা আবাসায় বলা হয়েছে সেদিনের কঠিন পরিস্থিতিতে ভাই তার ভাই থেকে পালাতে চাইবে, পালাতে চাইবে তার বাবার কাছ থেকে- মায়ের কাছ থেকে। বান্দাহর সেদিনের অসহায়ত্বের কথাটি আল্লাহ তা’য়ালা সূরা আল হাক্কায় এভাবে বলেছেন, আজ আমার সব কিছুই হারিয়ে গেছে, আজ আমার অর্থ সম্পদ প্রভাব প্রতিপত্তি কোনোই কাজে লাগলো না। ঠিক এ সময় মহা বিচারকের ঘোষণা আসবে- ‘তাকে ধরো, তাকে সত্তর গজের শেকল পরিয়ে জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করো।’

আল্লাহ তা’য়ালা যেদিন আমাদের দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন সেদিনই আমাদের এ দিনের কথা বলে সাবধান করেছেন- কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ, বাক্যের মারপ্যাচ কিংবা কথার অস্পষ্টতা না রেখেই তিনি বলেছেন- এমন দিনটি অবশ্যই আসবে, আর যখন আসবে তখন কাউকেই আর তার কাজকর্মের সংশোধনের সুযোগ দেয়া হবে না।

এ দিনের প্রথম লক্ষণ হচ্ছে ইসরাফীলের হাতে হাজার কোটা বছর ধরে রাখা ধ্বংসের বিউগলটি বেজে উঠা, এটা বেজে উঠলে কারো তাওবা গৃহীত হবে না। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সে দিনটির ব্যাপারে আগেই সাবধান হতে বলেছেন, আর এ সাবধানতার জন্যেই তিনি প্রায় ৫০০ শ’ বার আমাদের একই কথা বলেছেন। কেয়ামতের সেই মহা ধ্বংসযজ্ঞ কখন কিভাবে শুরু হবে আল্লাহ তা’য়ালা তার কিছু কথা সরাসরি তাঁর কিতাবে- কিছু কথা তাঁর নবীর মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। এই বর্ণনাগুলোর ধারাবাহিকতা মানবীয় অন্তরকে এতো ভীত সন্ত্রস্ত করে ফেলে যে, মনে হয় গোটা মানবজাতি এই বিনাশী প্রক্রিয়ার সামনে শুধু নিজের অসহায়ত্বটুকু প্রকাশ করার জন্যেই দাঁড়িয়ে আছে। ফেরেস্তা ইসরাফীলের শিংগায় ফুঁ দেয়া, আকাশ থেকে ধ্বংসকারী বায়বীয় গ্যাস নেমে আসা, সমগ্র যমীনটাতে প্রবল কম্পন সৃষ্টি করে যাওয়া, বিরান প্রান্তরে পাহাড় পর্বতসমূহের তুলার মতো উড়তে থাকা, সাগরে আগুনের শিখা প্রজ্জলিত হওয়া- এগুলো হচ্ছে এর কতিপয় আগমনী লক্ষণ মাত্র। আকাশ যমীনের সমগ্র ব্যবস্থাপনা ভেংগে পড়ার মাধ্যমে এক সময়ে বইর পাতার মতো মানবসভ্যতাকে গুটিয়ে ফেলা হবে। আকাশের দুয়ার খুলে যাবে, মহাকাশ মহাবিশ্বের গ্রহ উপগ্রহ সব নিষ্প্রভ জ্যোতিহীন হয়ে যাবে, আলো বলতে থাকবে ওই একটাই, জ্যোতিও ওই একটাই, ক্ষমতার চূড়ান্ত অভিব্যক্তিও ওই একটাই। সব কিছু বিলীন হওয়ার পর ঘোষণা আসবে- ‘লেমানিল মুলকুল ইয়াওম’-বলো, সব ক্ষমতা আজ কার? ঘোষণার প্রতিধ্বনী হবে- ‘লিলাহিল ওয়াহেদিল কাহহার’- সবকিছুই প্রবল ক্ষমতাধর আল্লাহ তা’য়ালার জন্যে। মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ তা’য়ালার দয়াটুকুই সেদিন আমরা চাই।

কোরআনের এ আয়াত ছাড়াও প্রিয়নবী তাঁর অসংখ্য হাদীসে কেয়ামত দিবসের কঠোরতা নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। কেয়ামত দিবসের ওপর যারা ঈমান এনেছেন তাদের উচিৎ আল্লাহর কোরআনের এ আয়াতগুলোর পাশাপাশি আল্লাহর নবীর সে হাদীসগুলোর প্রতিও নযর দেয়া।

কেয়ামতের এ প্রলয়ংকরী দৃশ্যগুলোকে আমরা কোরআন ও হাদীসের পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের চোখের সামনেও রাখতে চাই, আর সেজন্যেই আমরা আমাদের সময়ের একজন শ্রেষ্ঠ মনীষী মোফাসসেরে কোরআন- সাইয়েদ কুতুব শহীদ- তার অমর গ্রন্থ তাফসীর ফী যিলালিল কোরআনে কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ আয়াত ও এ সম্পর্কিত হাদীসগুলোর যে ব্যাখ্যা পেশ করেছেন- সেগুলোকে আমরা এক জায়গায় জড়ো করেছি। সাইয়েদ কুতুব শহীদকে আল্লাহ তা’য়ালা কোরআন ও হাদীসের অগাধ জ্ঞান দান করেছেন। আল্লাহ প্রদত্ত এ জ্ঞান দিয়ে তিনি কোরআনুল কারীমকে কোরআনের পাঠকদের সামনে এমনভাবে পেশ করেছেন- যেন এই গ্রন্থে বর্ণিত বিষয়গুলোকে পাঠকের সামনে এক একটি জীবন্ত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

আল্লাহ তা’য়ালা মহা ধ্বংসের সেই অনিবার্য ঘটনা- তথা কেয়ামত দিবস নিয়ে যে আয়াতগুলো নাযিল করেছেন এবং কোরআনের বাহক প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সালাম এসব আয়াতের যে সব ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তার প্রায় সব কয়টি বিষয়েই শহীদ কুতুব কথা বলেছেন। কথা বলেছেন। তাফসীরের পাতার বাইরেও। এ বিষয়ে তিনি তার ‘মোশাহেদাতুল কেয়ামাহ ফিল কোরআন’ গ্রন্থেও অনেক জ্ঞানগর্ব আলোচনা করেছেন। এ গ্রন্থের পাতায় পাতায় যেসব মণি মুক্তা তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন তার সবগুলোকেই মোটামুটি এই গ্রন্থে একত্রিত করা হয়েছে।

এই গ্রন্থে আমরা কোরআনের ভালোবাসা সিক্ত হৃদয়গুলোকে কিছুক্ষণের জন্যে দুনিয়ার হৈ হুলোড় থেকে কেয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্যগুলোর সামনা সামনি করতে চেয়েছি। কোরআনের এ দৃশ্যগুলো এতোই জীবন্ত যে, এগুলো দেখলে মনে হয়। আসামীর কাটগড়ায় যেন গোটা মানব জাতি হাঁটু গেড়ে বসে আছে- বসে আছে মহা বিচারক আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামান্য একটু দয়া একটু করুণা পাওয়ার আশায়। সেদিনের হাঁটু গাড়া হাজার কোটী মানুষের ভীড়ে আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের প্রতি তাঁর করুণা বর্ষণ করুন- এই পুস্তকের সকল পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের সাথে আমিও বিনয়ের সাথে মালিকের দরবারে এই কামনা করি।

যার করুণার ভাণ্ডারে কোনো ঘাটতি নেই, যার দয়ার সাগরে কোনো অভাব নেই-তাঁর দয়া ও করুণা ভিক্ষা করেই আমি আমার পাঠকদের কাছ থেকে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ তা’য়ালা কেয়ামতের ভয়াবহতা ও বীভৎসতা থেকে আমাদের অব্যাহতি দান করুন। আমীন

 

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

রবিউল আউয়াল ১৪৩৮, ডিসেম্বর ২০১৬

লন্ডন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৬

সাইজ: ৫.৫ × ৮.৫ ইঞ্চি

কভার: হার্ড কভার

প্রিন্ট: সাদা কালো

কাগজ: ৬১ গ্রাম অফওয়াইট

ওজন: ০.৫ কেজি

অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।

ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে)

শর্তাবলি:

যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে

ফর্মা মিসিং হয়

কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয়

এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “কোরআনের পাতায় কেয়ামতের দৃশ্য”

Your email address will not be published. Required fields are marked *