| আমাদের নিবেদন
হাজার বছর ধরে যে কিতাবটি জননন্দিতের শিরোপা পেয়ে এসেছে, সেই কালজয়ী গ্রন্থ ‘তাফসীর ইবনে কাছীর’-এর বাংলা অনুবাদে আমি কোনোদিন ভূমিকা লিখবো তা কখনো ভাবতেও পারিনি। গতকাল পর্যন্ত যা ছিলো কল্পনাতীত, আজ তাই হলো আমাদের জন্যে একটি বিরল সৌভাগ্য ও সম্মানের প্রতীক। আল্লাহ তায়ালা এই সৌভাগ্যকে শুধু আমাদের পরকালের জন্যেই বরাদ্দ করে রাখুন। আমীন। শুধু তাফসীর ইবনে কাছীরের কথাই বলি কেন- আমি অধম তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারিনি যে, ধীরে ধীরে যমানার চক্রবালে আল্লাহ তায়ালা আমাকে তাঁর কিতাবের এতো কাছে নিয়ে আসবেন। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত, এই ১৫ বছরে আমার ছোটো কলমটি ৫টি বড়ো তাফসীরের বাংলা অনুবাদের ভূমিকা লেখার সুযোগ পাবে- একথা কল্পনা করার সাহসও আমার কখনো হয়নি। এ সত্ত্বেও আমার মন আমাকে বলতো, কোরআন কারীমের সাথে যখন কারো পথচলা শুরু হয়, তখন কোরআনের ভালোবাসা তাকে এই পথের শেষ মনযিল না হলেও কিছুটা পথ পাড়ি দেয়ার সুযোগ করে দেয়। নব্বইর দশকের গোড়ার দিকে আমরা স্বামী স্ত্রী দু’জন মিলে একটি দুসাহসিক সফরের পরিকল্পনা করেছিলাম। এ যেন আরব্য উপন্যাসের কাল্পনিক নায়ক সিন্দাবাদের বার বার নিঝুম দ্বীপের অভিযানে বের হওয়া। দৈত্য দানবগুলো আসে বার বার, শুধু আঘাত হানে সিন্দাবাদকেই। জাহাজের মাস্তুল ভেংগে খানখান হয়ে যায়, ফররুখের সাত সাগরের মাঝি সিন্দাবাদ পুনরায় ভাংগা মাস্তুলে পাল তোলে। দৃপ্ত ঈমান তার, মনযিল যেহেতু তার জানা- তাই কোনো বাধাই তাকে হতোদ্যম করতে পারে না। আল কোরআন একাডেমী লন্ডন-এর যাত্রা শুরু হলো- তাও আবার শেরেক ও কুফরের তীর্থভূমি লন্ডন শহরে। সম্ভবত এটাই নিয়ম। শেরেক ও কুফরীর পংকিলতা না থাকলে তাওহীদের আলোকরশ্মি কাকে মিটিয়ে দেবে? দিক দিগন্ত আলোকিত করে তা কিভাবে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে সামনের পানে? নমরূদ ও আযরের মূর্তি নির্মাণের কালচার না থাকলে নবী ইবরাহীমের কঠিন আঘাত কাকে ধ্বংস করবে? কোন্ পাথরের মূর্তির গায়ে আঘাত হানার জন্যে নমরূদের আগুনের কু-লীতে বসে আল্লাহর নবী জান্নাতের অমিয় সুধা পান করবেন! ফেরাউনের জ্বালানো জাতীয়তাবাদের আগুনে নীল নদের গোটা উপত্যকা না জ্বললে তুর পাহাড়ে প্রাপ্ত মূসার নূর কাকে নিষ্প্রভ করে দেবে? এটাই যেন ইতিহাস, এটাই যেন ইতিহাসের কন্ট্রাস্ট। ১৯৯৫ সালের ৬ জানুয়ারীর দিবাগত রাতটি ছিলো লায়লাতুল মেরাজ। ইসলামী ক্যালেন্ডারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ রাতের একটি। সেই মনোরম সন্ধ্যায়ই আমরা ঢাকার বায়তুল মোকাররম মাসজিদ মিলনায়তনে নিবেদন করছিলাম মহান কোরআন গবেষক সাইয়েদ কুতুব শহীদের ২২ খ-ে সমাপ্ত প্রায় ৮ হাজার পৃষ্ঠার এ যুগের শ্রেষ্ঠ তাফসীর ‘ফী যিলালিল কোরআন’-এর আমপারার বর্ণাঢ্য প্রকাশনা অনুষ্ঠান। কোরআনের ছায়াতলে’ অর্থাৎ ফী যিলালিল কোরআনের ঐতিহাসিক প্রকাশনা নিয়ে বাংলার যমীনে শুরু হলো আল কোরআন একাডেমী লন্ডন-এর পয়লা কদম, কিন্তু এ কদম রাখার জন্যে যে আরো কিছু উপসর্গ প্রয়োজন, এটা আমরা তখনও অনুভব করতে শুরু করিনি। একটি অনুবাদ টীম, প্রোডাকশন টীম, প্রিন্টিং সেটআপ, অফিস ও আমাদের নিজেদের থাকার ঘর- সব মিলিয়ে প্রয়োজন বিশাল পরিমাণ অর্থের। চোখে মুখে আমরা অন্ধকার দেখলাম। যিলালের প্রকাশনার উৎসাহ ও আনন্দে এ অন্ধকার আমরা টেরই করতে পারিনি। প্রকাশনা অনুষ্ঠান শেষে আমরা উভয়ে পুনরায় লন্ডনে ফিরে এলাম। অর্থ সংগ্রহের জন্যে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের জানতুল্য মেয়ে জামিলার নামে কেনা ফরেস্ট গেইট এলাকার ১৯নং-এর বরকতপূর্ণ বাড়িটি বিক্রি করে দিলাম। মাত্র বছর দুয়েক সময়ের ব্যবধানে আল্লাহ তায়ালা কেনা দামের চেয়ে ৩ গুণ বেশী অর্থ তাঁর নিজ হাতে আমাদের ঝুলিতে ঢেলে দিলেন। কোরআনের এই বিস্ময়কর মোজেযা আমাদের দেহে নতুন প্রাণের সঞ্চার করলো। কালবিলম্ব না করে আমরা সেই সলিসিটরের অফিসে বসে পুরো চেকটাই ঢাকায় ইসলামী ব্যাংকে পাঠিয়ে দিলাম। মনে হলো সূরা আবাসার ‘অতপর তিনি তাঁর চলার পথ সহজ করে দিলেন’ এই আয়াতটি আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্যেই নাযিল করেন। সত্যি সত্যিই আমাদের দয়াবান মালিক আমাদের জন্যে কোরআনের পথে এগিয়ে চলা আসানই করে দিলেন। ১৫টি বছরের সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দিতে আমরা আরো ৪টি বিশ্বমানের তাফসীরকে আমাদের ভাষায় পরিচিত করাবার চেষ্টা করেছি। তারপরও যখন আমি আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে থরে থরে সাজানো বিশ্ব তাফসীর সাহিত্যের দিকে তাকাই, তখন রীতিমতো বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই, বিনয়ের সাথে বলি- হে আল্লাহ, আল কোরআন একাডেমী লন্ডনকে তুমি শক্তি দাও, সাহস দাও এই দুর্লভ সাহিত্যের পাশে দাঁড়াবার। তাফসীর ফী যিলালিল কোরআনের প্রকাশনা শেষ না হতেই দেশ বিদেশ থেকে আমাদের কাছে তাগিদ আসতে শুরু করে হাজার বছরের জনপ্রিয় তাফসীর ইবনে কাছীরের একটি মানসম্পন্ন বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করার। ‘ফী যিলালিল কোরআন’ প্রকাশনার প্রচুর ক্লান্তি এবং অবসাদ নিয়েও আমরা ইতিহাস বিখ্যাত এই তাফসীরটির বাংলা অনুবাদে হাত দিলাম। এ ময়দানে পা রাখার পর আমি যেসব তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তা বলার জন্যে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ লেখা প্রয়োজন। কোরআনের সাথে কোরআনের কিছু অনুসারীর আচরণ আমাকে ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছে। আপনি বিশ্বাস করুন, আমাদের দেশের একশ্রেণীর পেশাদার অনুবাদক ও তাদের রদ্দি মালের প্রকাশকদের কাছে বাজারের দু’দশটি নোট বইর চাইতে কোরআনের অনুবাদ ও কোরআনের তাফসীরের মর্যাদা এক চুল পরিমাণও বেশী নয়। কিছুদিন আগে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ছোটো সাইজের একটি কোরআনের অনুবাদের প্রতি আমার নযর পড়লো। আমি রীতিমতো হতবাক হয়ে গেলাম, পুরো বইটা আমাদের ‘কোরআন মাজীদ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’-এর জাস্ট ডুপ্লিকেট কপি। কিছুক্ষণের জন্যে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেললাম, যে দেশে তথাকথিত কোরআনের লোকেরা কোরআনের সাথে এ আচরণ করে, সেখানে কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠা কোরআনের চর্চা তো দূরের কথা- আল্লাহর গযব যে এখনো পড়েনি তাই আমাদের সৌভাগ্য। আমি এর আগেও বলেছি, আল কোরআন একাডেমী লন্ডন প্রকাশিত কোরআনের অনুবাদে আমি কোনো কপিরাইট রাখিনি, যে কোনো ব্যক্তিই তা ব্যবহার করতে পারেন। যেখানে এই ওপেন লাইসেন্স দেয়া আছে সেখানে এই প্রতারণার প্রয়োজনটা কি ছিলো? হাঁ, আমি বলছিলাম তাফসীর ইবনে কাছীরের অনুবাদের কথা। ২০০১ সালে এমনি একজন পেশাদার অনুবাদক তাফসীর ইবনে কাছীর অনুবাদের জন্যে আমাদের সাথে বাকায়দা চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তির শর্তে উল্লিখিত পারিশ্রমিকের অনেক বেশী টাকা দিয়েও তার অনূদিত পা-ুলিপি আমরা ছাপতে পারিনি। কেন পারিনি, সে কথাটাই এখন আমি আপনাদের বলছি। প্রথমদিকে ভুলে ভরা তার অনূদিত পা-ুলিপি সংশোধন করতেই আমাদের ৩ বছর সময় লেগে গেলো। দেশের ৪ জন বিশিষ্ট অনুবাদক হাফেজ মাওলানা আবু নাঈম, হাফেজ মাওলানা আহমদ রফিক, মাওলানা লুৎফর রহমান ও হাফেজ মাওলানা সাদ আল মামুন-এর হাতে যখন সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হলো, তখন দেখা গেলো মূল অনুবাদকের এক বিরাট অংশই কাগজের পাতায় আর অবশিষ্ট নেই। পা-ুলিপির মার্জিনে, লাইনের ভেতরে একটি অক্ষরও আর বসানোর স্কোপ নেই। তারপর আছে প্রতি পৃষ্ঠায় একাধিক সংযোজিত পট্টি, যেটা তিনি মেহেরবানী করে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ৪ জন যোগ্য ব্যক্তির দিবানিশি পরিশ্রমের পর এলো এবার আমার দেখার পালা। পা-ুলিপিটা হাতে নিয়ে আমি মারাত্মক একটা হোঁচট খেলাম। মূল আরবীর সাথে মিলাতে গিয়ে রীতিমতো ভয়ে আঁতকে উঠলাম। অনুবাদক ভদ্রলোক তাফসীর ইবনে কাছীরের মূল কিতাবের ধারে কাছেও যাননি। কোরআন ও কোরআনের তাফসীরের সাথে এই শ্রেণীর মানুষদের চরম বেআদবী ও ঔদ্ধত্বপূর্ন আচরণ আমাদের রীতিমতো উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত করে তোলে। এমতাবস্থায় একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা তাফসীর ইবনে কাছীরের বাংলা অনুবাদ প্রকল্প থেকে অত্যন্ত বেদনার সাথে নিজেদের গুটিয়ে নিলাম। ইতিমধ্যে এসব কসরত করতে গিয়ে আমাদের খরচের পরিমাণ যে কতো লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে সে হিসাবটা সম্ভবত হিসাব রক্ষকের টেবিলে এখনও জমা আছে। জাতির হাতে প্রতিশ্রুতিমতো তাফসীর ইবনে কাছীর দিতে না পারায় আমরা হতাশায় ভেংগে পড়লাম। এতো বড়ো যুলুম- তাও আবার আল্লাহর কিতাবের সাথে! নীরবে নিভৃতে কোরআনের মালিকের কাছেই অনুযোগ অভিযোগের কথা বললাম। দেখতে দেখতে দেয়ালে ২০০৯ সালের ক্যালেন্ডারের পাতা ঝুলতে শুরু করলো। দয়াবান মালিক আমাদের আবার সাহস যোগালেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কোরআনের তাফসীরটার সাথে সদ্য ছেঁড়া এই বন্ধনটাকে আমরা আবারো জোড়া দিতে চাইলাম। শুরু হলো নতুন উদ্যোগে তাফসীর ইবনে কাছীরের অনুবাদ, সম্পাদনা ও অক্ষর বিন্যাসের কাজ। সম্মানিত অনুবাদক, পরিশ্রমী টাইপ সেটার, ধৈর্যশীল ম্যানেজমেন্টের বছরখানেকের দিবানিশি পরিশ্রম আজ আমাদের ফল দেবে- এই ভরসায় আশার ঝুড়ি নিয়ে আমরা কোরআনের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা এ যাবৎ যে তাফসীরগুলোর বাংলা অনুবাদ আপনাদের কাছে পেশ করেছি সেগুলো হচ্ছে, সাইয়েদ কুতুব শহীদের ‘তাফসীর ফী যিলালিল কোরআন’, মাওলানা শাব্বীর আহমদ ওসমানীর ‘তাফসীরে ওসমানী’, মাওলানা আবু সলিম আবদুল হাই-র ‘আসান তাফসীর’ এবং সর্বশেষে মুসলিম মিল্লাতের হাদীস বিশেষজ্ঞ মনীষী আল্লামা এমাদ উদ্দীন ইবনে কাছীরের অমর সৃষ্টি ‘তাফসীর ইবনে কাছীর’। ইনশাআল্লাহ অচিরেই আরো দুটো শীর্ষমানের তাফসীরের বাংলা অনুবাদ বাজারে আসছে- একটি হচ্ছে তাফসীর শাস্ত্রের জনক হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের প্রথম লিখিত তাফসীর ‘তাফসীর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস’ ও দ্বিতীয়টি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কোরআন সাধক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের ‘তরজুমানুল কোরআন’। এ তাফসীরগুলোর ৩টির মূল ভাষা হচ্ছে আরবী, বাকী ৩টির ভাষা উর্দু। ভিন্ন ভাষা থেকে তাফসীর অনুবাদের বড়ো একটা সমস্যা হচ্ছে কোরআনের অনুবাদটা নিয়ে। আরবী ভাষায় কোরআনের তাফসীরে কোরআনের কোনো অনুবাদ থাকার তো প্রশ্ন আসে না, কিন্তু আমাদের বাংলা পাঠকদের জন্যে তাফসীরের গভীরে ডুব দেয়ার আগে কোরআনের মূল ‘মতন’ বা পাঠের একটা অনুবাদ প্রয়োজন। অন্যের তাফসীরে আমাদের বাংলা অনুবাদ বসাতে গিয়ে আমাদের নানা বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়। আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এ দেশের কোটি কোটি মানুষের জন্যে কোরআনের যে সহজ সরল বাংলা অনুবাদটি পেশ করেছে, তার প্রতি এখানকার সুধী ইসলামী চিন্তাবিদদের অকুণ্ঠ ভালোবাসার কারণে আমরা আমাদের প্রকাশিত সব কয়টি তাফসীরে কোরআনের এই অনুবাদটিই ব্যবহার করেছি। একই অনুবাদ ৬টি ভিন্ন ভিন্ন শতকে লেখা ৬টি ভিন্নমানের তাফসীরে পেশ করতে গিয়ে কিছু সমস্যা যে হচ্ছে না তাও নয়। কোনো একটি বিশেষ শব্দের অনেক অনুবাদের মাঝে আয়াতটি নাযিলের ঐতিহাসিক পটভূমিকা ও সাহাবায়ে কেরামের ব্যাখ্যার আলোকে যে অনুবাদটির ওপর আল্লামা এমাদ উদ্দীন ইবনে কাছীর গুরুত্ব দিয়েছেন, তার জায়গায় দেখা গেলো ৭০০ বছর পরের লেখা সাইয়েদ কুতুব শহীদ অন্য কোনো হাদীসের আলোকে অন্য একটি অনুবাদকে তার তাফসীরে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার হয়তো দেখা গেলো, ভারতীয় উপমহাদেশে শায়খুল ইসলাম মাওলানা শাব্বীর আহমদ ওসমানী আরেকটি অনুবাদকে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন। উপমহাদেশের আরেক প্রথিতযশা কোরআনসাধক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের ‘তরজুমানুল কোরআন’-এ এসে দেখা গেলো, সে একই শব্দের প্রসারতা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এতে অন্য একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। এই অবস্থায় ৬টি বিশ্বমানের তাফসীরের পাতায় কোরআনের একই বাংলা অনুবাদ দিতে গিয়ে আমরা জায়গায় জায়গায় যে হোঁচট খেয়েছি- আল্লাহ তায়ালার সাহায্য নিয়ে তা আমরা যথাসাধ্য সমাধান করার চেষ্টা করেছি। তারপরও যদি কোথাও তাফসীর পড়তে গিয়ে আমাদের পরিবেশিত অনুবাদের সাথে এর কিছু অমিল আপনার কাছে পরিলক্ষিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাকে আমার ব্যর্থতা বলতে হবে। বিজ্ঞ মোফাসসের কোরআন নিসন্দেহে আমাদের চাইতে হাজার গুণ বেশী বুঝেছেন। সময়মতো জানতে পারলে পরবর্তী মুদ্রণের আগেই আমরা আশা করি এর একটি সমাধান পেশ করতে পারবো। আমি জানি, আমার পাঠকরা ভাবছেন, বাজারে তাফসীর ইবনে কাছীর-এর বাংলা অনুবাদ মওজুদ থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন আবার তা বের করতে বদ্ধপরিকর হলাম। জানি না আমি কি বলবো এবং কিভাবে বলবো! আসলে তাফসীর ইবনে কাছীরের প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে এটা আমরা করেছি, তা আমাদের একার নয়- আমাদের ইতিহাসের বিগত সাড়ে ৭শ’ বছর ধরে এই গ্রহের হাজার হাজার কোটি মানুষ এই তাফসীরের প্রতি এভাবেই তাদের হৃদয়ের ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছে। এই বরকতময় তাফসীরটি প্রকাশিত হবার পর থেকে গত সাড়ে ৭শ’ বছরে আরবে আজমে প্রকাশিত এমন একটি তাফসীরও সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না, যাতে কোনো না কোনোভাবে ইবনে কাছীরের উদ্ধৃতি স্থান পায়নি। তাফসীর ইবনে কাছীরের উদ্ধৃতিই যেন পরবর্তী মোফাসসেরদের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতার একটা বড়ো দলীল। বাংলা পাঠকদের কাছে ইবনে কাছীর পেশ করার পেছনে আরেকটি বড়ো কারণ ছিলো- তাফসীরকারের অনবদ্য হাদীস সাধনা থেকে উপকৃত হওয়া। একান্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সাথে আল্লামা এমাদ উদ্দীন ইবনে কাছীর হাদীসের যে মণিমুক্তা দিয়ে তার অমর তাফসীরটি সাজিয়েছেন, তাকে যথাসম্ভব অক্ষত রেখে মূল আরবী থেকে বাংলাভাষীদের উপকৃত হবার পথ উন্মুক্ত করে দেয়াই ছিলো আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আল কোরআন একাডেমী লন্ডন-এর অনুবাদ ও প্রকাশনা টীম এ কাজটি কতো যোগ্যতা ও সফলতার সাথে আঞ্জাম দিতে পেরেছেন সে বিচারের ভার আমি আপনাদের ওপরই অর্পণ করলাম। সুধী পাঠক জানেন, ইবনে কাছীর আমাদের তাফসীর সাহিত্যের একটি প্রাচীন তাফসীর, প্রায় ৭০০ বছর আগের লেখা। আমাদের সমৃদ্ধ তাফসীর সাহিত্যের ইতিহাসটাই হচ্ছে এমন যে, যে যুগে যে সমস্যা মানুষের চিন্তাশক্তিকে আচ্ছন্ন করে রাখে কোরআনের বিজ্ঞ মোফাসসেররা কোরআন থেকে সে বিশেষ সমস্যার সমাধান বের করার জন্যেই বেশী সচেষ্ট থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই এই তাফসীরের পাতায় সেসব সমস্যার কোনো উল্লেখ নেই যেগুলো আজ মুসলিম উম্মাহ ও আরো বড়ো পরিসরে বিশ্বমানব সম্প্রদায়ের জীবন ও সভ্যতাকে বিনাশ করে দিয়েছে। যেসব চিন্তা দর্শন আধুনিক মন মগযে যমানার হাজারো জাহেলিয়াতের বীজ ঢুকিয়ে দিয়েছে, তার যথাযথ জবাব পাওয়ার জন্যে পাঠকদের এ শতকের অন্য তাফসীরগুলোর দিকে তাকাতে হবে, আর এ আধুনিক যুগ জিজ্ঞাসার একটি তথ্য ও তত্ত্বনির্ভর বড়ো তাফসীর আমরা কয়েক বছর আগেই আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছি। তেমনি একটি আধুনিক তাফসীরের পাশাপাশি আমরা আমাদের ইতিহাসের এই প্রাচীন তাফসীরটির বাংলা অনুবাদ কেন বের করতে গেলাম- এই নিবেদনে সে সম্পর্কেও মনে হয় দু একটি লাইন বলা দরকার। একথা এর আগেও একাধিকবার বলা হয়েছে, ইবনে কাছীর হচ্ছে সম্পূর্ণ হাদীসভিত্তিক তাফসীর, আর হাদীসভিত্তিক হওয়ার কারণে কেউ যদি ভবিষ্যতে কোরআনের কোনো আধুনিক তাফসীর লিখতে চান তাহলে তাকে অবশ্যই সেসব আয়াত কিংবা শব্দের হাদীস প্রদত্ত ব্যাখ্যাটা আগে জানতে হবে। যার ওপর কোরআন নাযিল হয়েছে সে কোরআনের ব্যাখ্যা যদি স্বয়ং তাঁর কাছ থেকেই শোনা যায়, তাহলে কোরআন নিয়ে ভাবীকালের গবেষকদের মাঝে আর কোনোদিনই কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হবে না। তাছাড়া আল্লামা এমাদ উদ্দীন ইবনে কাছীরের সেকালের তাফসীর ইবনে কাছীর এবং এ কালের তাফসীর সাইয়েদ কুতুব শহীদের ‘ফী যিলালিল কোরআন’-এর সাথে আগামীকালের কোরআন সাধকদের একটা সেতুবন্ধনও আমার মনে হয় নির্মিত হওয়া প্রয়োজন। নতুন পুরাতনের এমনি এক সম্মেলন ও সমন্বয়ের মাঝ দিয়েই আমাদের কোরআন সাধনার রাজপথ আরো সুন্দর হবে, এটাই আমরা আশা করি। কয়েক বছর আগে আমি লন্ডনে দেখলাম, রিয়াদভিত্তিক একটি প্রকাশনা সংস্থা তাফসীর ইবনে কাছীরের সংক্ষেপিত একটি সংস্করণ বের করেছে। যারা এটা করেছেন তাদের বক্তব্য হলো, এই তাফসীরে নাকি অনেক রিপিটেশান আছে। তাদের মতে সেগুলো নাকি পাঠকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটায়। তাই তারা এগুলো কাটছাঁট করে এর একটি আধুনিক সংস্করণ বের করেছেন। বিশ্বব্যাপী এই বরকতপূর্ণ তাফসীরটির লক্ষ কোটি নিষ্ঠাবান পাঠকের মাঝে বিষয়টি অবশ্যই কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যুগশ্রেষ্ঠ পণ্ডিত আল্লামা এমাদ উদ্দীন ইবনে কাছীরের তাফসীরটাকে এভাবে কেটেছেঁটে ছোটো করার এই নৈতিক অধিকার তারা কোথায় পেলেন? আপনি যদি মনে করেন, এতে পুনরাবৃত্তি আছে, অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস আছে, তাহলে ইবনে কাছীরকে ইবনে কাছীরের জায়গায় ছেড়ে দিয়ে পারলে কোরআনের আরেকটি তাফসীর আপনি প্রণয়ন করুন। একজন মহান কোরআন সাধক, যিনি অনেক আগেই পরপারে চলে গেছেন, তার অমর সৃষ্টিটা নিয়ে টানাটানি না করে নতুন একটি তাফসীর লিখলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। যতো বড়ো প্রতিষ্ঠানই এ কাজটা করুক না কেন, কোরআনের প্রতি, কোরআনের তাফসীরের প্রতি, সর্বোপরি কোরআন সাধক মনীষী আল্লামা এমাদ উদ্দীন ইবনে কাছীরের প্রতি তারা মোটেই সুবিচার করেননি। রিয়াদভিত্তিক আরব ওনারশিপের এশীয় ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি পুনরায় ভেবে দেখবেন আশা করি। পুনরাবৃত্তির বিষয়টি নিয়ে আরেকটি কথা বলা একান্ত জরুরী। কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসংগে যে হাদীসগুলো এই মহান ব্যক্তি এ তাফসীরে উদ্ধৃত করেছেন- রেওয়ায়াতের দৃষ্টিতে তার সবগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রামাণ্যতা এক সমান নয়, এ অবস্থায় একই প্রসংগের বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনাসমৃদ্ধ হাদীসগুলো যদি এক জায়গায় এনে তার অবস্থানটা পাঠকদের সামনে পরিষ্কার করে তুলে না ধরা হয়, তাহলে হতে পারে হাদীসশাস্ত্রে আমাদের স্থূল জ্ঞানের কারণে একটি অনির্ভরযোগ্য হাদীসকেই আমরা নির্ভরযোগ্য ভাবতে শুরু করবো। আবার দেখা যাবে, আমাদের জ্ঞানগরিমার অপরিপক্বতার কারণে একটি বিশ্বস্ত হাদীসকেও আমরা পরিত্যক্ত মনে করতে শুরু করবো। এই কাজটা করে উম্মতের যে খেদমত আল্লামা ইবনে কাছীর আঞ্জাম দিয়েছেন, তার তুলনা ইতিহাসে দ্বিতীয়টি আছে কি না সন্দেহ। এমনি একটি বড়ো খেদমত আজ আমাদের আধুনিক গবেষকদের হাতে এসে রীতিমতো পংগু হয়ে পড়লো। আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এই যুগশ্রেষ্ঠ তাফসীরটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করছে, একথাটা দেশে বিদেশে জানাজানি হওয়ায় ইতিমধ্যেই পাঠকদের মাঝে যে উচ্ছ্বসিত সাড়া দেখা যাচ্ছে, তাতে আমি অভিভূত হয়ে গেছি। সবকয়টি খ- বের হওয়ার আগে প্রতিদিন আমাদের ঢাকা ও লন্ডন অফিসে কোরআনপিপাসু পাঠকরা ফোন করতেন, জানতে চাইতেন, কবে তাদের অপেক্ষার মেয়াদ কবে শেষ হবে? কবে তারা তাদের এই প্রিয় তাফসীরটির বহু প্রতীক্ষিত এই বাংলা অনুবাদ হাতে নিতে পারবেন। আজ আপনাদের হাতে সেই মহামূল্যবান তাফসীরটির সবকয়টি খ-ের বাংলা অনুবাদ তুলে দিতে পেরে আমি কুল কায়েনাতের খালেক আল্লাহ রাব্বুল ইযযতের দয়ার দুয়ারে হাজার বার সাজদায় মাথা নোয়াই। আলহামদু লিল্লাহ, বিশ্বমানের তাফসীরগুলোর বাংলা অনুবাদের যে মহান ব্রত নিয়ে ১৯৯৫ সালের দিকে আমাদের এ দুটি মানুষের চারটি কদম সামনের দিকে ধাবিত হয়েছিলো, তার বড়ো একটি মাইলফলক সকল যুগের সকল তাফসীরের শীর্ষ তাজ- আল্লামা এমাদ উদ্দীন ইবনে কাছীর নামে ছিলেন দ্বীনের মযবুত খুঁটি। তার জান্নাতী পিতার ‘কাছীর’ নামটির বদৌলতে মনে হয় আল্লাহ তায়ালা কোরআন ও হাদীসের ‘কাছীর’ পরিমাণ এলেম ও হেকমত তাকে দান করেছেন। এ যেন ‘নামের’ সাথে ‘কামের’ এক অপূর্ব সংগতি, এক অদ্ভুত মিল। ছোটো বেলায় আমিও আমার জান্নাতী পিতাকে ঘন্টার পর ঘন্টা কোরআনের পাতায়, এই তাফসীরের পাতায় ডুবে থাকতে দেখেছি। সবাই বলতো, আমার আব্বা ছিলেন আমার জন্যে ঠিক আমার মায়ের মতো। আব্বা যখন কোরআনের পাতায় ডুবে থাকতেন, দেখতাম মা ডাকছেন- ‘এই আসছি’ বলে আব্বা আবারও কোরআনের তাফসীরের অথৈ সাগরে ডুবে যেতেন। কাঠাল কাঠের রেহালটিতে কোরআন রেখে আব্বা যেতেন মাসজিদে মালিকের সামনে মাথা রাখতে। এ সময় তারই তর্জনী ধরে আমিও এগিয়ে যেতাম তার সাথে। আমার আব্বার সাধনার সে তাফসীরের বাংলা অনুবাদ আজ আমার টেবিলে। এমনকি আব্বার পড়ার চশমাটাও আজ আমার কাছে। সবই আছে- নেই শুধু তিনি। হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, তুমি অসীম দয়া ও করুণা দিয়ে আমার আব্বা হযরত মওলানা মানসুর আহমদ ও আমার আম্মা জামিলা খাতুনের কবরকে জান্নাতের সুরম্য কক্ষ বানিয়ে দিয়ো। কোরআনের সাথে আমার ও আমার জীবনসাথী খাদিজা আখতার রেজায়ীর পথ চলা শুরু হয়েছিলো বলতে গেলে প্রায় একই সময়ে। ৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে আমরা উভয়ে বহু ঐতিহাসিক ঘটনার নীরব সাক্ষী, পুরনো ঢাকার কারকুন বাড়ি লেনের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় লিখতে শুরু করি। এই লেখাই আবার আমাদের মিলিয়ে দিলো সেই দশকের শেষের দিকে র্যাংকিন স্ট্রীট থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকের পাতায়। কাগজের পাতা থেকে এক সময় আমরা জীবনের পাতায় কদম রাখলাম। এরই সূত্র ধরে ৯০-এর দশকের শুরুতে আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের পরিম-লে বসে আমরা আমাদের উভয়ের জীবনের পরিশিষ্টটাকে কোরআনের আশ্রয়ে কাটিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে নারীকুল শিরোমণি খাদিজার ঈমান আমানের বরকতে হেরা গুহার ‘একরা বেসমে রাব্বেকাল্লাযী খালাক’- এই দ্যুলোকে ভূলোকে আলোর মেলা বসিয়েছিলো, সেই শ্রেষ্ঠ নারীর পদাংক অনুসরণকারিণী এই খাদিজাকে নিয়ে আল্লাহ তায়ালা আমার কোরআনের পথ চলাকে কবুল করুন- এই কামনা করি। যারা তার মুখে প্রথম কোরআনের বর্ণমালা তুলে দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা খাদিজার সে জ্ঞানতাপস পিতা আলহাজ্জ মোহাম্মদ রেজা মিয়া ও শিক্ষার আলো বিতরণকারিণী মা যোবায়দা খাতুনকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। তাফসীর ইবনে কাছীর-এর প্রকাশনার এ ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমার বিদগ্ধ পাঠকদের সাথে নিয়ে আমরা এই জাতির বাংলা ভাষায় কথা বলে এমন ৩৪ কোটি মানুষের সামনে সবাইকে কোরআনের কাছে আসার ও কোরআনকে সবার কাছে রাখার একটি বিনয়ী নিবেদন রাখতে চাই। কোনো জাতির কাছে যতোদিন আল্লাহর কিতাব মজুদ থাকে, ততোদিন সে জাতির চূড়ান্ত ভাগ্যলিপি সেই কিতাবের সাথে ওতপ্রোতভাবেই সম্পৃক্ত থাকে। আল্লাহর কিতাবকে অবমাননা করে পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো জাতিই আল্লাহর গযব থেকে রেহাই পায়নি। গত ৪ হাজার বছর ধরে ইহুদীরা যদি লাঞ্ছনা, অপমান, হত্যা, অপহরণের পাশাপাশি দাম্ভিক বীর বখতে নসরের গণহত্যা ও নাৎসী নেতা হিটলারের গ্যাস চেম্বারের গযব থেকে রেহাই না পেয়ে থাকে, তাহলে ওঁত পেতে বসে থাকা যমানার বখতে নসর ও হিটলারদের হাত থেকে আমাদেরও কেউ বাঁচাতে পারবে না। ভবিষ্যতের সে চরমতম গ্লানি থেকে বাঁচার জন্যে সময় থাকতে আমাদের সবাইকে কোরআনের মালিকের কাছে আশ্রয় নিতে হবে। তাফসীর ইবনে কাছীরের লক্ষ লক্ষ নিবেদিতপ্রাণ পাঠকদেরকে কোরআনের হাতে সঁপে দিয়ে এবারের মতো এই মজলিস থেকে আমি বিদায় নেবো। আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ- ভিন্ন কোনো মজলিসে, সম্ভবত ভিন্ন কোনো তাফসীরের ভূমিকায়, সে পর্যন্ত- ‘ফাল্লাহু খায়রুন হাফেযাঁও ওয়া হুয়া আরহামুর রাহেমীন’।
কোরআনের অধম কর্মী হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ লন্ডন |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩৬
সাইজ: ৬.৫ × ৯.৪ ইঞ্চি কভার: হার্ড কভার প্রিন্ট: সাদা কালো কাগজ: ৫৫ গ্রাম অফসেট ওজন: ১.২ কেজি |
| অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।
ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে) |
| শর্তাবলি:
যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে ফর্মা মিসিং হয় কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয় এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি। |

তাফসীর ইবনে কাছীর (সূরা আয যোখরুফ – সূরা আত তাহরীম) তাফসীর ইবনে কাছীর ৭ম খণ্ড
৳ 1,000.00
প্রায় হাজার বছর ধরে জনপ্রয়িতার শীর্ষে অবস্থানকারী গ্রন্থ- তাফসীর ইবনে কাছীর। মুসলিম মিল্লাতে আজ পর্যন্ত ইবনে কাছীরের মতো গ্রহণযোগ্যতা মনে হয় অন্য কোনো তাফসীর গ্রন্থের ভাগ্যেই জোটেনি। পৃথিবীর যে ভাষায় কোরআনের যে তাফসীরই প্রকাশতি হয়েছে তাতে কোনো না কোনোভাবে তাফসীর ইবনে কাছীরের উদ্ধৃতি এসেছে। তাফসীরে ইবনে কাছীরের উদ্ধৃতিই যেন পরবর্তী তাফসীরকারকদের গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ। তাফসীরে ইবনে কাছীরের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি একটি হাদীসভিত্তিকি তাফসীর। কোরআনে কারীমের আয়াত ও শব্দগুলোর এই হাদীসভিত্তিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণই এই তাফসীর গ্রন্থটিকে অন্যন্য সাধারণ জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রদান করছে। বাংলাভাষায় এই প্রথম আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স একে সরাসরি আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করছে। সর্বমোট ৮ খন্ডে সমাপ্ত
- Book Author: হাফেজ মুনীর উদ্দীন আহমদ





Reviews
There are no reviews yet.