| আমাদের নিবেদন
হাজার বছর ধরে যে কিতাবটি জননন্দিতের শিরোপা পেয়ে এসেছে, সেই কালজয়ী গ্রন্থ ‘তাফসীর ইবনে কাছীর’-এর বাংলা অনুবাদে আমি কোনোদিন ভূমিকা লিখবো তা কখনো ভাবতেও পারিনি। গতকাল পর্যন্ত যা ছিলো কল্পনাতীত, আজ তাই হলো আমাদের জন্যে একটি বিরল সৌভাগ্য ও সম্মানের প্রতীক। আল্লাহ তায়ালা এই সৌভাগ্যকে শুধু আমাদের পরকালের জন্যেই বরাদ্দ করে রাখুন। আমীন। শুধু তাফসীর ইবনে কাছীরের কথাই বলি কেন- আমি অধম তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারিনি যে, ধীরে ধীরে যমানার চক্রবালে আল্লাহ তায়ালা আমাকে তাঁর কিতাবের এতো কাছে নিয়ে আসবেন। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত, এই ১৫ বছরে আমার ছোটো কলমটি ৫টি বড়ো তাফসীরের বাংলা অনুবাদের ভূমিকা লেখার সুযোগ পাবে- একথা কল্পনা করার সাহসও আমার কখনো হয়নি। এ সত্ত্বেও আমার মন আমাকে বলতো, কোরআন কারীমের সাথে যখন কারো পথচলা শুরু হয়, তখন কোরআনের ভালোবাসা তাকে এই পথের শেষ মনযিল না হলেও কিছুটা পথ পাড়ি দেয়ার সুযোগ করে দেয়। নব্বইর দশকের গোড়ার দিকে আমরা স্বামী স্ত্রী দু’জন মিলে একটি দুসাহসিক সফরের পরিকল্পনা করেছিলাম। এ যেন আরব্য উপন্যাসের কাল্পনিক নায়ক সিন্দাবাদের বার বার নিঝুম দ্বীপের অভিযানে বের হওয়া। দৈত্য দানবগুলো আসে বার বার, শুধু আঘাত হানে সিন্দাবাদকেই। জাহাজের মাস্তুল ভেংগে খানখান হয়ে যায়, ফররুখের সাত সাগরের মাঝি সিন্দাবাদ পুনরায় ভাংগা মাস্তুলে পাল তোলে। দৃপ্ত ঈমান তার, মনযিল যেহেতু তার জানা- তাই কোনো বাধাই তাকে হতোদ্যম করতে পারে না। আল কোরআন একাডেমী লন্ডন-এর যাত্রা শুরু হলো- তাও আবার শেরেক ও কুফরের তীর্থভূমি লন্ডন শহরে। সম্ভবত এটাই নিয়ম। শেরেক ও কুফরীর পংকিলতা না থাকলে তাওহীদের আলোকরশ্মি কাকে মিটিয়ে দেবে? দিক দিগন্ত আলোকিত করে তা কিভাবে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে সামনের পানে? নমরূদ ও আযরের মূর্তি নির্মাণের কালচার না থাকলে নবী ইবরাহীমের কঠিন আঘাত কাকে ধ্বংস করবে? কোন্ পাথরের মূর্তির গায়ে আঘাত হানার জন্যে নমরূদের আগুনের কু-লীতে বসে আল্লাহর নবী জান্নাতের অমিয় সুধা পান করবেন! ফেরাউনের জ্বালানো জাতীয়তাবাদের আগুনে নীল নদের গোটা উপত্যকা না জ্বললে তুর পাহাড়ে প্রাপ্ত মূসার নূর কাকে নিষ্প্রভ করে দেবে? এটাই যেন ইতিহাস, এটাই যেন ইতিহাসের কন্ট্রাস্ট। ১৯৯৫ সালের ৬ জানুয়ারীর দিবাগত রাতটি ছিলো লায়লাতুল মেরাজ। ইসলামী ক্যালেন্ডারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ রাতের একটি। সেই মনোরম সন্ধ্যায়ই আমরা ঢাকার বায়তুল মোকাররম মাসজিদ মিলনায়তনে নিবেদন করছিলাম মহান কোরআন গবেষক সাইয়েদ কুতুব শহীদের ২২ খ-ে সমাপ্ত প্রায় ৮ হাজার পৃষ্ঠার এ যুগের শ্রেষ্ঠ তাফসীর ‘ফী যিলালিল কোরআন’-এর আমপারার বর্ণাঢ্য প্রকাশনা অনুষ্ঠান। কোরআনের ছায়াতলে’ অর্থাৎ ফী যিলালিল কোরআনের ঐতিহাসিক প্রকাশনা নিয়ে বাংলার যমীনে শুরু হলো আল কোরআন একাডেমী লন্ডন-এর পয়লা কদম, কিন্তু এ কদম রাখার জন্যে যে আরো কিছু উপসর্গ প্রয়োজন, এটা আমরা তখনও অনুভব করতে শুরু করিনি। একটি অনুবাদ টীম, প্রোডাকশন টীম, প্রিন্টিং সেটআপ, অফিস ও আমাদের নিজেদের থাকার ঘর- সব মিলিয়ে প্রয়োজন বিশাল পরিমাণ অর্থের। চোখে মুখে আমরা অন্ধকার দেখলাম। যিলালের প্রকাশনার উৎসাহ ও আনন্দে এ অন্ধকার আমরা টেরই করতে পারিনি। প্রকাশনা অনুষ্ঠান শেষে আমরা উভয়ে পুনরায় লন্ডনে ফিরে এলাম। অর্থ সংগ্রহের জন্যে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের জানতুল্য মেয়ে জামিলার নামে কেনা ফরেস্ট গেইট এলাকার ১৯নং-এর বরকতপূর্ণ বাড়িটি বিক্রি করে দিলাম। মাত্র বছর দুয়েক সময়ের ব্যবধানে আল্লাহ তায়ালা কেনা দামের চেয়ে ৩ গুণ বেশী অর্থ তাঁর নিজ হাতে আমাদের ঝুলিতে ঢেলে দিলেন। কোরআনের এই বিস্ময়কর মোজেযা আমাদের দেহে নতুন প্রাণের সঞ্চার করলো। কালবিলম্ব না করে আমরা সেই সলিসিটরের অফিসে বসে পুরো চেকটাই ঢাকায় ইসলামী ব্যাংকে পাঠিয়ে দিলাম। মনে হলো সূরা আবাসার ‘অতপর তিনি তাঁর চলার পথ সহজ করে দিলেন’ এই আয়াতটি আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্যেই নাযিল করেন। সত্যি সত্যিই আমাদের দয়াবান মালিক আমাদের জন্যে কোরআনের পথে এগিয়ে চলা আসানই করে দিলেন। ১৫টি বছরের সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দিতে আমরা আরো ৪টি বিশ্বমানের তাফসীরকে আমাদের ভাষায় পরিচিত করাবার চেষ্টা করেছি। তারপরও যখন আমি আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে থরে থরে সাজানো বিশ্ব তাফসীর সাহিত্যের দিকে তাকাই, তখন রীতিমতো বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই, বিনয়ের সাথে বলি- হে আল্লাহ, আল কোরআন একাডেমী লন্ডনকে তুমি শক্তি দাও, সাহস দাও এই দুর্লভ সাহিত্যের পাশে দাঁড়াবার। তাফসীর ফী যিলালিল কোরআনের প্রকাশনা শেষ না হতেই দেশ বিদেশ থেকে আমাদের কাছে তাগিদ আসতে শুরু করে হাজার বছরের জনপ্রিয় তাফসীর ইবনে কাছীরের একটি মানসম্পন্ন বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করার। ‘ফী যিলালিল কোরআন’ প্রকাশনার প্রচুর ক্লান্তি এবং অবসাদ নিয়েও আমরা ইতিহাস বিখ্যাত এই তাফসীরটির বাংলা অনুবাদে হাত দিলাম। এ ময়দানে পা রাখার পর আমি যেসব তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তা বলার জন্যে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ লেখা প্রয়োজন। কোরআনের সাথে কোরআনের কিছু অনুসারীর আচরণ আমাকে ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছে। আপনি বিশ্বাস করুন, আমাদের দেশের একশ্রেণীর পেশাদার অনুবাদক ও তাদের রদ্দি মালের প্রকাশকদের কাছে বাজারের দু’দশটি নোট বইর চাইতে কোরআনের অনুবাদ ও কোরআনের তাফসীরের মর্যাদা এক চুল পরিমাণও বেশী নয়। কিছুদিন আগে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ছোটো সাইজের একটি কোরআনের অনুবাদের প্রতি আমার নযর পড়লো। আমি রীতিমতো হতবাক হয়ে গেলাম, পুরো বইটা আমাদের ‘কোরআন মাজীদ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’-এর জাস্ট ডুপ্লিকেট কপি। কিছুক্ষণের জন্যে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেললাম, যে দেশে তথাকথিত কোরআনের লোকেরা কোরআনের সাথে এ আচরণ করে, সেখানে কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠা কোরআনের চর্চা তো দূরের কথা- আল্লাহর গযব যে এখনো পড়েনি তাই আমাদের সৌভাগ্য। আমি এর আগেও বলেছি, আল কোরআন একাডেমী লন্ডন প্রকাশিত কোরআনের অনুবাদে আমি কোনো কপিরাইট রাখিনি, যে কোনো ব্যক্তিই তা ব্যবহার করতে পারেন। যেখানে এই ওপেন লাইসেন্স দেয়া আছে সেখানে এই প্রতারণার প্রয়োজনটা কি ছিলো? হাঁ, আমি বলছিলাম তাফসীর ইবনে কাছীরের অনুবাদের কথা। ২০০১ সালে এমনি একজন পেশাদার অনুবাদক তাফসীর ইবনে কাছীর অনুবাদের জন্যে আমাদের সাথে বাকায়দা চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তির শর্তে উল্লিখিত পারিশ্রমিকের অনেক বেশী টাকা দিয়েও তার অনূদিত পা-ুলিপি আমরা ছাপতে পারিনি। কেন পারিনি, সে কথাটাই এখন আমি আপনাদের বলছি। প্রথমদিকে ভুলে ভরা তার অনূদিত পা-ুলিপি সংশোধন করতেই আমাদের ৩ বছর সময় লেগে গেলো। দেশের ৪ জন বিশিষ্ট অনুবাদক হাফেজ মাওলানা আবু নাঈম, হাফেজ মাওলানা আহমদ রফিক, মাওলানা লুৎফর রহমান ও হাফেজ মাওলানা সাদ আল মামুন-এর হাতে যখন সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হলো, তখন দেখা গেলো মূল অনুবাদকের এক বিরাট অংশই কাগজের পাতায় আর অবশিষ্ট নেই। পা-ুলিপির মার্জিনে, লাইনের ভেতরে একটি অক্ষরও আর বসানোর স্কোপ নেই। তারপর আছে প্রতি পৃষ্ঠায় একাধিক সংযোজিত পট্টি, যেটা তিনি মেহেরবানী করে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ৪ জন যোগ্য ব্যক্তির দিবানিশি পরিশ্রমের পর এলো এবার আমার দেখার পালা। পা-ুলিপিটা হাতে নিয়ে আমি মারাত্মক একটা হোঁচট খেলাম। মূল আরবীর সাথে মিলাতে গিয়ে রীতিমতো ভয়ে আঁতকে উঠলাম। অনুবাদক ভদ্রলোক তাফসীর ইবনে কাছীরের মূল কিতাবের ধারে কাছেও যাননি। কোরআন ও কোরআনের তাফসীরের সাথে এই শ্রেণীর মানুষদের চরম বেআদবী ও ঔদ্ধত্বপূর্ন আচরণ আমাদের রীতিমতো উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত করে তোলে। এমতাবস্থায় একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা তাফসীর ইবনে কাছীরের বাংলা অনুবাদ প্রকল্প থেকে অত্যন্ত বেদনার সাথে নিজেদের গুটিয়ে নিলাম। ইতিমধ্যে এসব কসরত করতে গিয়ে আমাদের খরচের পরিমাণ যে কতো লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে সে হিসাবটা সম্ভবত হিসাব রক্ষকের টেবিলে এখনও জমা আছে। জাতির হাতে প্রতিশ্রুতিমতো তাফসীর ইবনে কাছীর দিতে না পারায় আমরা হতাশায় ভেংগে পড়লাম। এতো বড়ো যুলুম- তাও আবার আল্লাহর কিতাবের সাথে! নীরবে নিভৃতে কোরআনের মালিকের কাছেই অনুযোগ অভিযোগের কথা বললাম। দেখতে দেখতে দেয়ালে ২০০৯ সালের ক্যালেন্ডারের পাতা ঝুলতে শুরু করলো। দয়াবান মালিক আমাদের আবার সাহস যোগালেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কোরআনের তাফসীরটার সাথে সদ্য ছেঁড়া এই বন্ধনটাকে আমরা আবারো জোড়া দিতে চাইলাম। শুরু হলো নতুন উদ্যোগে তাফসীর ইবনে কাছীরের অনুবাদ, সম্পাদনা ও অক্ষর বিন্যাসের কাজ। সম্মানিত অনুবাদক, পরিশ্রমী টাইপ সেটার, ধৈর্যশীল ম্যানেজমেন্টের বছরখানেকের দিবানিশি পরিশ্রম আজ আমাদের ফল দেবে- এই ভরসায় আশার ঝুড়ি নিয়ে আমরা কোরআনের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা এ যাবৎ যে তাফসীরগুলোর বাংলা অনুবাদ আপনাদের কাছে পেশ করেছি সেগুলো হচ্ছে, সাইয়েদ কুতুব শহীদের ‘তাফসীর ফী যিলালিল কোরআন’, মাওলানা শাব্বীর আহমদ ওসমানীর ‘তাফসীরে ওসমানী’, মাওলানা আবু সলিম আবদুল হাই-র ‘আসান তাফসীর’ এবং সর্বশেষে মুসলিম মিল্লাতের হাদীস বিশেষজ্ঞ মনীষী আল্লামা এমাদ উদ্দীন ইবনে কাছীরের অমর সৃষ্টি ‘তাফসীর ইবনে কাছীর’। ইনশাআল্লাহ অচিরেই আরো দুটো শীর্ষমানের তাফসীরের বাংলা অনুবাদ বাজারে আসছে- একটি হচ্ছে তাফসীর শাস্ত্রের জনক হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের প্রথম লিখিত তাফসীর ‘তাফসীর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস’ ও দ্বিতীয়টি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কোরআন সাধক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের ‘তরজুমানুল কোরআন’। এ তাফসীরগুলোর ৩টির মূল ভাষা হচ্ছে আরবী, বাকী ৩টির ভাষা উর্দু। ভিন্ন ভাষা থেকে তাফসীর অনুবাদের বড়ো একটা সমস্যা হচ্ছে কোরআনের অনুবাদটা নিয়ে। আরবী ভাষায় কোরআনের তাফসীরে কোরআনের কোনো অনুবাদ থাকার তো প্রশ্ন আসে না, কিন্তু আমাদের বাংলা পাঠকদের জন্যে তাফসীরের গভীরে ডুব দেয়ার আগে কোরআনের মূল ‘মতন’ বা পাঠের একটা অনুবাদ প্রয়োজন। অন্যের তাফসীরে আমাদের বাংলা অনুবাদ বসাতে গিয়ে আমাদের নানা বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়। আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এ দেশের কোটি কোটি মানুষের জন্যে কোরআনের যে সহজ সরল বাংলা অনুবাদটি পেশ করেছে, তার প্রতি এখানকার সুধী ইসলামী চিন্তাবিদদের অকুণ্ঠ ভালোবাসার কারণে আমরা আমাদের প্রকাশিত সব কয়টি তাফসীরে কোরআনের এই অনুবাদটিই ব্যবহার করেছি। একই অনুবাদ ৬টি ভিন্ন ভিন্ন শতকে লেখা ৬টি ভিন্নমানের তাফসীরে পেশ করতে গিয়ে কিছু সমস্যা যে হচ্ছে না তাও নয়। কোনো একটি বিশেষ শব্দের অনেক অনুবাদের মাঝে আয়াতটি নাযিলের ঐতিহাসিক পটভূমিকা ও সাহাবায়ে কেরামের ব্যাখ্যার আলোকে যে অনুবাদটির ওপর আল্লামা এমাদ উদ্দীন ইবনে কাছীর গুরুত্ব দিয়েছেন, তার জায়গায় দেখা গেলো ৭০০ বছর পরের লেখা সাইয়েদ কুতুব শহীদ অন্য কোনো হাদীসের আলোকে অন্য একটি অনুবাদকে তার তাফসীরে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার হয়তো দেখা গেলো, ভারতীয় উপমহাদেশে শায়খুল ইসলাম মাওলানা শাব্বীর আহমদ ওসমানী আরেকটি অনুবাদকে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন। উপমহাদেশের আরেক প্রথিতযশা কোরআনসাধক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের ‘তরজুমানুল কোরআন’-এ এসে দেখা গেলো, সে একই শব্দের প্রসারতা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এতে অন্য একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। এই অবস্থায় ৬টি বিশ্বমানের তাফসীরের পাতায় কোরআনের একই বাংলা অনুবাদ দিতে গিয়ে আমরা জায়গায় জায়গায় যে হোঁচট খেয়েছি- আল্লাহ তায়ালার সাহায্য নিয়ে তা আমরা যথাসাধ্য সমাধান করার চেষ্টা করেছি। তারপরও যদি কোথাও তাফসীর পড়তে গিয়ে আমাদের পরিবেশিত অনুবাদের সাথে এর কিছু অমিল আপনার কাছে পরিলক্ষিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাকে আমার ব্যর্থতা বলতে হবে। বিজ্ঞ মোফাসসের কোরআন নিসন্দেহে আমাদের চাইতে হাজার গুণ বেশী বুঝেছেন। সময়মতো জানতে পারলে পরবর্তী মুদ্রণের আগেই আমরা আশা করি এর একটি সমাধান পেশ করতে পারবো। আমি জানি, আমার পাঠকরা ভাবছেন, বাজারে তাফসীর ইবনে কাছীর-এর বাংলা অনুবাদ মওজুদ থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন আবার তা বের করতে বদ্ধপরিকর হলাম। জানি না আমি কি বলবো এবং কিভাবে বলবো! আসলে তাফসীর ইবনে কাছীরের প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে এটা আমরা করেছি, তা আমাদের একার নয়- আমাদের ইতিহাসের বিগত সাড়ে ৭শ’ বছর ধরে এই গ্রহের হাজার হাজার কোটি মানুষ এই তাফসীরের প্রতি এভাবেই তাদের হৃদয়ের ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছে। এই বরকতময় তাফসীরটি প্রকাশিত হবার পর থেকে গত সাড়ে ৭শ’ বছরে আরবে আজমে প্রকাশিত এমন একটি তাফসীরও সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না, যাতে কোনো না কোনোভাবে ইবনে কাছীরের উদ্ধৃতি স্থান পায়নি। তাফসীর ইবনে কাছীরের উদ্ধৃতিই যেন পরবর্তী মোফাসসেরদের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতার একটা বড়ো দলীল। বাংলা পাঠকদের কাছে ইবনে কাছীর পেশ করার পেছনে আরেকটি বড়ো কারণ ছিলো- তাফসীরকারের অনবদ্য হাদীস সাধনা থেকে উপকৃত হওয়া। একান্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার |

তাফসীর ইবনে কাছীর (সূরা আল মুলক – সূরা আন নাস) তাফসীর ইবনে কাছীর ৮ম খণ্ড
৳ 1,000.00
প্রায় হাজার বছর ধরে জনপ্রয়িতার শীর্ষে অবস্থানকারী গ্রন্থ- তাফসীর ইবনে কাছীর। মুসলিম মিল্লাতে আজ পর্যন্ত ইবনে কাছীরের মতো গ্রহণযোগ্যতা মনে হয় অন্য কোনো তাফসীর গ্রন্থের ভাগ্যেই জোটেনি। পৃথিবীর যে ভাষায় কোরআনের যে তাফসীরই প্রকাশতি হয়েছে তাতে কোনো না কোনোভাবে তাফসীর ইবনে কাছীরের উদ্ধৃতি এসেছে। তাফসীরে ইবনে কাছীরের উদ্ধৃতিই যেন পরবর্তী তাফসীরকারকদের গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ। তাফসীরে ইবনে কাছীরের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি একটি হাদীসভিত্তিকি তাফসীর। কোরআনে কারীমের আয়াত ও শব্দগুলোর এই হাদীসভিত্তিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণই এই তাফসীর গ্রন্থটিকে অন্যন্য সাধারণ জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রদান করছে। বাংলাভাষায় এই প্রথম আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স একে সরাসরি আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করছে। সর্বমোট ৮ খন্ডে সমাপ্ত
- Book Author: হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ
