মুক্তো দিয়ে গেঁথেছি মালা

৳ 100.00

মুক্তো দিয়ে যে মালা এখানে বিচারপতি তকি ওসমানী আমাদের জন্যে গেঁথেছেন তার তুলনা তা নিজেই। এই পুস্তক রচনা করে এই মালাটি তিনি সত্যিকার অর্থে জাতির গলায়ই পরাতে চেয়েছেন। ইতিহাসের বিশাল ভান্ডার খুঁজে খুঁজে তিনি অনবদ্য কিছু কাহিনী এক জায়গায় জড়ো করেছেন। এ শুধু সুখপাঠ্যই নয়- আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্যে একটি আলোকবর্তিকাও বটে।

Category:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

 

নাসাঈ শরীফে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের সময় একটা শক্ত পাথর খননের কাজে বাধা সৃষ্টি করছিলো, সাহাবায়ে কেরাম এটা ভাংগার চেষ্টা করেও ভাঙতে পারছিলেন না। এ সময় রসূল (স.) নিজে সেখানে তাশরীফ আনলেন এবং পর পর তিনটি আঘাত করে পাথরটিকে টুকরো টুকরো করে ফেললেন। প্রতিটি আঘাতের সময় তাঁর যবান মোবারকে কোরআনের এ আয়াতটি উচ্চারিত হচ্ছিলো-

 

‘ন্যায় ও ইনসাফ (-এর আলোকে) তোমার মালিকের কথাগুলো পরিপূর্ণ হয়ে গেলো এবং তাঁর এ কথা পরিবর্তন করার কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা তিনি সর্বজ্ঞ।’ (সূরা আল আনয়াম, আয়াত ১১৫)

 

সাহাবায়ে কেরাম তাঁর কাছে এ আয়াত পড়ার রহস্য জানতে চাইলে, তিনি বললেন, আমি যখন পাথরে প্রথম আঘাত করলাম, তখন আমাকে বাদশাহ কেসরার শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ দেখানো হয়েছে, আমি তা নিজের চোখে দেখেছি। সাহাবারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ। দোয়া করুন, আমরা যেন তা জয় করতে পারি। রসূল (স.) দোয়া করলেন। অতপর বললেন, দ্বিতীয় আঘাতে আমাকে কায়সারের শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ দেখানো হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম তাও জয়ের জন্যে দোয়া করতে বললেন, রসূল (স.) দোয়া করলেন। সর্বশেষে বললেন, তৃতীয় আঘাতে আমি আবিসিনিয়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা দেখলাম। তোমরা আবিসিনীয়দের সাথে বাড়াবাড়ি করো না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের ওপর বাড়াবাড়ি না করে। তুর্কীরাও যতোক্ষণ তোমাদের উত্ত্যক্ত না করে তোমরা তাদের নিজ অবস্থার ওপর ছেড়ে দেবে।’

 

মুসলিম শরীফের আরেক হাদীসে রসূল (স.) বলেছেন, উত্তম যুগ হচ্ছে আমার যুগ- যে যুগে আমি বর্তমান আছি, এরপর উত্তম যুগ হবে তাদের যারা আমার পরে আসবে। অতপর তাদের যুগ হবে উত্তম যারা এর পর আসবে। এরপর এমন এক যুগ আসবে যখন মানুষদের সাক্ষ্যদানের জন্যে ডাকা হবে না- তারা নিজেরাই গিয়ে সাক্ষ্য দেবে। খেয়ানতকারী প্রচুর হবে- আমানতদার থাকবে না। মানুষ মানত করবে; কিন্তু তা আদায় করবে না।

 

এ হাদীস দুটি আমাদের সামনে মুসলিম উম্মার দুটি আলাদা আলাদা সময়ের চিত্র

 

তুলে ধরেছে। রসূল (স.) এখানে তাঁর সাথীদের এ কথাটা বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, আল্লাহ তায়ালা সহায় সম্বলহীন করে যেমনি তোমাদের পরীক্ষা নেবেন, তেমনি তোমাদের রাজ সিংহাসন দান করেও পরীক্ষা নেবেন। মানুষের অবস্থা কখনো এক রকম থাকে না, তাই প্রতিটি পবির্তনশীল অবস্থায়ই তাকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

মাত্র কয়দিন আগে এ সিরিজের আরেকটি বইয়ের আমি ভূমিকা লিখেছি। বইটির লেখক ছিলেন উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন, মোফাসসেরে কোরআন মুফতী মোহাম্মদ শফী (রহ.)। মুফতী সাহেবেরই সুযোগ্য সন্তান, পাকিস্তান শরীয়া কোর্টের সম্মানিত সদস্য বিচারপতি তকী ওসমানী- যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান বটে। জ্ঞানে গুণে একে অপরের সার্থক পরিপূরক। হযরত ওমর (রা.)-এর ছেলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর খলিফা না হলেও সম্মান, মর্যাদায় ছিলেন পিতার যথার্থ উত্তরসুরি। আসলে পিতার স্থান সন্তান খুব কমই পরণ করতে পারে। ইতিহাসের সব কয়জন মানুষ তো উপমহাদেশের শেষ্ঠ সন্তান মহাকবি ইকবালের ছেলে ডঃ জাভেদ ইকবাল- জ্ঞানে গুণে ইয়াকুবের ছেলে ইউসুফ নন- আবার সবাই ইবরাহীমের ছেলে ইসমাঈলও নন। আল্লামা ইকবাল না হলেও পিতার স্থান কিছুটা হলেও তো পুরণ করতে পেরেছেন।

 

আমাদের বর্তমান বইটির লেখক হচ্ছেন বিচারপতি তকী ওসমানী। পিতার মতো তিনিও ইতিহাসের আনাচে কানাচে ঘুরে ঘুরে কিছু অমূল্য রসদ যোগাড় করেছেন এবং সে রসদের সমগ্র ভান্ডার তিনি তুলে দিয়েছেন তারই আপনজন মুসলিম উম্মার নবপ্রজন্মের কাছে। যে প্রজন্ম নিজেদের ঐতিহাসিক পরিচয় নিয়ে গর্ব করার কিছুই পায় না। যে প্রজন্ম নিজের চেয়ে অন্যকে বেশী আপন ভাবে- তাদের হাতে ইতিহাসের এ পরিচ্ছন্ন দর্পণটি তুলে দিয়ে শ্রদ্ধেয় লেখক জাতির সত্যিই বড়ো একটি উপকার সাধন করেছেন। দ্বিধাদ্বন্দ্বে দোদুল্যমান মুসলমানরা বইটি পড়ে অন্তত বুঝতে পারবে, আমরা কেউই আসলে ইতিহাসের পরগাছা নই। অন্যের ওপর ভর করে বাঁচার জন্যে ইতিহাস আমাদের লালন করেনি। একটি সমৃদ্ধশালী অতীতের পাশাপাশি আমাদের একটি মযবুত ইতিহাস আছে। আমাদের বর্তমান যাই থাকুক না কেন, এ সমৃদ্ধশালী অতীতের ওপর দাঁড়িয়ে একটি প্রতিশ্রুতিশীল ভবিষ্যত আমরা গড়ে তুলতে পারবো, সে বিশ্বাসটুকুই আমাদের বর্তমান বইটির বাংলা রূপান্তর করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

 

নবী রসূলদের কথা, সাহাবায়ে কেরামের কথা, সোনালী যুগের সোনার মানুষদের কথা কার না ভালো লাগে? বিশেষ করে যেভাবে তিনি ঘটনাগুলো সাজিয়েছেন তাতে সর্বস্তরের মানুষেরই তা ভালো লাগবে। কতিপয় ঝরা মুক্তোকে জোড়া দিয়ে তিনি যে সুন্দর হারটি বানিয়েছেন, তার তুলনা তিনি নিজেই। তার আহরিত এ বইয়ের প্রতিটি ঘটনাই যেন ইতিহাসের এক একটি জীবন্ত প্রামাণ্য চিত্র।.

 

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কিংবা দখলী রাজত্বের যালেম রাজা উযীরদের সামনে আমাদের পূর্বপুরুষরা যে একদিনের জন্যেও আপস করেননি, পাশবিক অত্যাচার এসব সিংহ হৃদয় ওলামায়ে কেরাম ও ফোকাহায়ে এযামদের মুহূর্তের জন্যেও রসূলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেননি- তার অসংখ্য নযির ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এ বইয়ের ছত্রে ছত্রে। আজ প্রয়োজন শুধু এ থেকে মুসলমানদের শিক্ষা গ্রহণ করার।

 

ঘটনাগুলোর চমৎকার উপস্থাপনা এগুলোকে এতোই জীবন্ত করে তুলেছে যে, পড়তে পড়তে মনে হয় আমি যেন মক্কা মদীনা, বাগদাদ, সমরকন্দ, কাবুল, দিল্লী শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এমনি একখানি সুখপাঠ্য পুস্তক পাঠকদের হাতে দিতে পেরে আমি আল্লাহ তায়ালর শোকর আদায় করছি। হাফেজ আবু নায়ীমসহ আরো যারা এর প্রকাশনায় অবদান রেখেছেন তাদের সবাইর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এ সিরিজের অন্যান্য বইগুলোর প্রতি আমি আপনাদের আহ্বান জানাই।

 

গুনাহগার

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

লন্ডন

আগস্ট ২০০৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫০

সাইজ: ৫.৫ × ৮. ৫ ইঞ্চি

কভার: হার্ড কভার

প্রিন্ট: সাদা কালো

কাগজ: ৫৫ গ্রাম অফসেট

ওজন: ০.৩ কেজি

অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।

ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে)

শর্তাবলি:

যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে

ফর্মা মিসিং হয়

কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয়

এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “মুক্তো দিয়ে গেঁথেছি মালা”

Your email address will not be published. Required fields are marked *