কোরআন মাজীদ : সহজ সরল বাংলা অনুবাদ (১২ নং)

৳ 450.00

কোরআন মাজীদ: সহজ সরল বাংলা অনুবাদ (১২ নং)

(বড় কোলকাতা অক্ষরে ডান দিকে আরবী ও বাম দিকে অনুবাদ সম্বলিত)

কোরআনরেএইঅনুবাদটিআমাদরেসময়রেএকটিগুরুত্বর্পূণগ্রন্থ।এটি‘আলকোরআনএকাডমেীপাবলকিশেন্স’-এরডাইরক্টেরজনোরলেহাফজেমুনরিউদ্দীনআহমদ-এর বিরামহীনসাধনারফসল- বাংলাভাষায়কোরআনেকারীমরেসহজওসাবলীলঅনুবাদ।জনপ্রয়িকলকাতাফন্টরেআরবীর্বণমালাদিয়ে একেসাজানোহয়ছে।জীবনরেপ্রতটি দিক ও বিভাগেযারাকোরআনরেশিক্ষাকে কাজেলাগাতেচানকোরআনরেএইসহজসরলঅনুবাদগ্রন্থটিতাদরের্দীঘদনিরেএকটিপ্রয়োজনপূরণকরবেবলেআমরা বিশ্বাস করি। সম্মানতিওলামায়েকরোমওসুধীইসলামী চিন্তাবিদসহ দেশেরর্সবস্তররেমানুষরেপ্রশংসাধন্যঐতহ্যিবাহীইসলামীসংস্কৃতরিঅবয়ব দিয়ে তৈরীরংগীনকভাররেএইঅনুবাদগ্রন্থটিতেকোরআনরেওপর তৈরীনানা দুর্লভতথ্যসম্বলতিএকটিস্বতন্ত্রপ্রতবিদেনও সন্নিবেশকরাহয়ছে।

কোরআন মাজীদ  সহজ সরল বাংলা অনুবাদ

সূরা ‘আল ক্বামার’ মক্কায় অবতীর্ণ কোরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। আল্লাহ তায়ালা এই সূরায় একটি বিশেষ আয়াত চার বার উল্লেখ করেছেন। সে বিশেষ আয়াতটির অর্থ- অবশ্যই আমি শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যে কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি, অতএব আছে কি তোমাদের মাঝে কেউ এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার?

বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ কোরআন পাঠকের মতো আমার মনকেও এক সময় এই আয়াতটি দারুণভাবে নাড়া দিয়েছিলো। বিশেষ করে যখন দেখলাম, আল্লাহ তায়ালার নাযিল করা আলোর এই একমাত্র উৎসটির ভাষান্তর করতে গিয়ে মানুষরা একে সহজ করার বদলে অনেক কঠিন ও দুর্বোধ্য করে ফেলেছে। যে ‘আলো’ একজন পথিককে আঁধারে পথ দেখাবে তা যদি নিজেই স্বচ্ছ না হয়, তাহলে পথিক তো আঁধারেই হোঁচট খেতে থাকবে।

কোরআন লওহে মাহফুযের অধিপতি আল্লাহ তায়ালার কালাম। এর ভাষাশৈলী শিল্প সৌন্দর্য সবই আল্লাহ তায়ালার একান্ত নিজস্ব। এ কারণেই বিশ্বের সব কোরআন গবেষকই মনে করেন, এই মহান গ্রন্থের যথার্থ অনুবাদ ও ভাষান্তর কোনোটাই মানব সন্তানের পক্ষে সম্ভব নয়। যাঁর কাছে এই বিস্ময়কর গ্রন্থটি নাযিল করা হয়েছিলো তাঁকে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বলেই তাঁর পক্ষে এই কিতাবের মর্মোদ্ধার করা সম্ভবপর হয়েছিলো। এ কারণেই কোরআন যাদের সর্বপ্রথম সম্বোধন করেছিলো-রসূল (সা.)-এর সে সাহাবীরাও কোরআনের কোনো বক্তব্য অনুধাবনের ব্যাপারে মতামত দেয়ার আগে রসূল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করে নিতেন। যদিও তারা নিজেরা সে ভাষায়ই কথা বলতেন-যে ভাষায় কোরআন নাযিল হয়েছিলো। সম্ভবত এ কারণেই সাহাবায়ে কেরামদের বিদায়ের বহুকাল পরও ভিন্ন ভাষাভাষী কোরআনের আলেমরা কোরআনের অনুবাদ কাজে হাত দিতে সাহস করেননি, কিন্তুদিনে দিনে কোরআনের আলো যখন আরব উপদ্বীপ ছাড়িয়ে অনারব জনপদে ছড়িয়ে পড়লো, তখন ভিন্ন ভাষাভাষীদের সামনে কোরআনের বক্তব্য তুলে ধরার জন্যে ¯’ানীয় জনগোষ্ঠীর ভাষাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকলো না। এমনি করেই অসংখ্য আদম সন্তানের অগণিত ভাষায় কোরআন অনুবাদের যে স্রোত ধারা শুরু হলো-আমাদের মায়ের ভাষা বাংলায়ও একদিন এর প্রভাব পড়লো। কোরআনের পণ্ডিত ব্যক্তিরা একে একে এগিয়ে এলেন নিজেদের স্ব-স্ব জ্ঞান গরিমার নির্যাস দিয়ে এই অনুবাদ শিল্পকে সাজিয়ে দিতে।

একথা স্বীকার করতেই হবে, উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর শত শত বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভাষা হিসেবে আরবীর পরেই ফার্সী ও উর্দূর ¯’ান। স্বাভাবিকভাবেই এখানে কোরআন অনুবাদের কাজও তাই এ দুটো ভাষায়ই বেশী হয়েছে। সুলতানী আমলের শুরু থেকে মুসলমান শাসক নবাবরা যখন সংস্কৃত ভাষার সীমিত গণ্ডি থেকে বাংলা ভাষাকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর পরিমন্ডলে নিয়ে এলেন, তখন থেকেই মূলত এই ভূখণ্ডে কোরআনের বাংলা অনুবাদের ব্যাপক প্রয়োজন অনুভূত হতে লাগলো।

৪৭ ও ৭১ সালের পরপর দুটো পরিবর্তনের ফলে এ ভূখণ্ডের মুসলমানরা নিজেদের ভাষায় কোরআন বুঝার একটা বড়ো পরিসরে পা রাখার সুযোগ পেলো। অল্প কিছুদিনের মাঝেই এখানে কোরআনের বেশ কয়েকটি অনুবাদ বেরুলো। বাংলাদেশের মতো পশ্চিম বংগেও এ সময়ের মধ্যে কোরআনের কয়েকটি অনুবাদ প্রকাশিত হলো। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুবাদক ও প্রকাশকরা তাদের অনুবাদকর্মকে ‘কোরআনের বাংলা অনুবাদ’ না বলে ‘বাংলা কোরআন মাজীদ’ বলে পেশ করার প্রয়াস চালিয়েছেন। কোরআনের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থের গায়ে ‘বাংলা কোরআন মাজীদ’ লেখার এই মানসিকতা কিন্তুউভয় বাংলায় পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই বিষয়টিকে বাদ দিলে উভয় বাংলায় অনূদিত ও প্রকাশিত কোরআনের প্রতিটি গ্রন্থই নানা বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। আল্লাহ তায়ালার কিতাবের মর্মকথা মানুষের কাছে পৌঁছানোর কাজে যে যতোটুকু অবদান রেখেছেন আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে সে পরিমাণ ‘জাযায়ে খায়ের’ দান করুন।

কোরআন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর রসূল (সা.)-এর কাছে পাঠানো তাঁর বাণীসমূহের এক অপূর্ব সমাহার। সূদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে যে সব দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তার অধিকাংশই বলতে গেলে পারিপার্শ্বিকতা-তথা একেকটি ঐতিহাসিক পটভূমির বিশ্লেষণের সাথে জড়িত। এ কারণেই কোরআনের তাফসীরকাররা কোরআন অধ্যয়নের জন্যে সমসাময়িক পরিস্থিতি জানার ওপর এতো বেশী জোর দেন।

তারপরও কোরআনের মূল অনুবাদ কিন্তুসমসাময়িক কোরআন পাঠকদের কাছে জটিলই থেকে যায়। অনেক সময় মূল কোরআনের আয়াতের হুবহু বাংলা অনুবাদ করলে কোরআনের বক্তব্য পরিস্কার হয় না। সে ক্ষেত্রে কোরআনের একজন নিষ্ঠাবান অনুবাদককে অনুবাদের সাথে ভেতরের উহ্য কথাটি জুড়ে দিয়ে বক্তব্যের ধারাবাহিকতা মিলিয়ে দিতে হয়। আরবী ভাষার ব্যাকরণ ও বাক্যগঠন প্রক্রিয়ায় এগুলোর প্রচলন থাকলেও বাংলাভাষায় এ বিষয়গুলো কোরআনের পাঠককে মাঝে মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত করে ফেলে। তারা হেদায়াতের এই মহান গ্রন্থে ভাবের অসংলগ্নতা দেখে বর্ণনাধারার ‘মিসিং লিংক’ খোঁজার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণেই সচেতন অনুবাদকরা এ সব ক্ষেত্রে ব্যাখ্যামূলক কথার জন্যে ‘ব্রাকেট’ কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন ধরনের টাইপ ব্যবহার করে সেই মিসিং লিংকটাকে মিলিয়ে দেন। আমাদের মধ্যে যারা ‘তাফসীরে জালালাইন’ পড়েছেন তারা সেখানে এ বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্য করে থাকবেন। এই তাফসীরে উভয় তাফসীরকার তাদের ব্যাখ্যামূলক কথাকে ‘আন্ডার লাইন’ করে আল্লাহ তায়ালার কথা থেকে আলাদা করে নিয়েছেন। কোরআনে এ ধরনের আয়াতের সংখ্যা অনেক। এখানে উদাহরণ হিসেবে সূরা আল মায়েদা ৬, সূরা ইউসুফ ১৯, সূরা আর রাদ ৩১, সূরা আঝ ঝুমার ২২, সূরা ক্বাফ ৩-এর কয়েকটি আয়াতের প্রসংগ উল্লেখ করা যেতে পারে। এ আয়াতগুলোর অনুবাদের প্রতি তাকালে একজন পাঠক নিজেই এ বিষয়টি বুঝতে পারবেন, কি ধরনের ধারাবাহিকতার কথা আমি এখানে বলতে চেয়েছি। আমাদের এই গ্রন্থে অনুবাদের সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্যে আমি আল্লাহ তায়ালার মূল কথা থেকে ব্যাখ্যামূলক কথাকে আলাদা করার জন্যে এ ধরনের () ‘ব্রাকেট’ ব্যবহার করেছি। কোরআনের মালিককে হাযির নাযির জেনে আমরা যেমন চেষ্টা করেছি ব্রাকেটের ভেতর আল্লাহ তায়ালার কথা না ঢুকাতে-তেমনি চেষ্টা করেছি ব্যাখ্যামূলক কথাগুলো কোনো অবস্থায়ই ব্রাকেটের বাইরে না ছড়াতে। তারপরও যদি কোথাও তেমন কিছু ভুল ক্রটি থেকে যায় তা আগামীতে শুদ্ধ করে নেয়ার কঠিন প্রতিজ্ঞার পাশাপাশি আমার মালিককে বিনীত চিত্তে বলবো, হে আল্লাহ, আমার নিষ্ঠার প্রতি দয়া দেখিয়ে তুমি আমার সীমাবদ্ধতা ক্ষমা করে দিয়ো।

কিশোর বয়স থেকেই য