ইসলামী আন্দোলন সংকট ও সম্ভাবনা

৳ 280.00

আরব দুনিয়ার জীবন্ত ইসলামী আন্দোলন- ইখওয়ানুল মোসলেমুন এর প্রথম সারির নেতা সাইয়েদ কুতুব শহীদের কতিপয় অমূল্য রচনার সংগ্রহ। তিনি তার তাফসীর গ্রন্থের পাতায় ইসলামী আন্দোলনের চরিত্র বৈশিষ্ট, কর্মী ও নেতাদের প্রয়োজনীয় গুণাবলী নিয়ে যে সব আলোচনা সমালোচনা লিপিবদ্ধ করেছেন তা জানা প্রতিটি আন্দোলন কর্মীর একান্ত প্রয়োজন। রসূলের পরিচালিত ইসলামী আন্দোলনকে সামনে রেখেই তিনি কোরআনের উপস্থাপিত আন্দোলনের এই কর্মসূচী পেশ করেছেন। এতে একদিকে যেমন আন্দোলনের সমস্যার কথা আছে, তেমনি আছে সে সমস্যা থেকে উত্তরনের পথ নির্দেশও।

আমাদের কিছু কথা

 

বর্তমান বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনসমূহের আসল সমস্যাটা কি- একথাটা আপনি যদি কাউকে জিজ্ঞেস করেন তাহলে সবার কাছ থেকেই আপনি প্রায় একই। ধরনের জবাব শুনতে পাবেন। যাদের জিজ্ঞেস করবেন তারা যেখানেই থাকুন না কেন, বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত আন্দোলনসমূহের যেটির সাথেই তারা সম্পৃক্ত থাকুন না কেন, তাদের জবাবে খুব বেশী একটা গরমিল হবে না। তাদের একদল। লোক আপনাকে তাদের আন্দোলনের বিপুল সম্ভাবনার কথা শুনাবেন, শুনাবেন সারা দেশে তাদের জনবলের কথা। দেশের আপার চেম্বার, লোয়ার চেম্বার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকারখানাসমূহের সমিতি ও ইউনিয়নে তাদের কয়জন সদস্য। রয়েছে, মাঠ পর্যায়ে কতোগুলো পরিষদ, কাউন্সিল ও পৌরসভা তাদের দখলে। আছে সেসব পরিসংখ্যানও আপনাকে শুনাতে ত্রুটি করবেন না।

 

আবার তার পাশাপাশি আরেকটি দল রয়েছে- যাদের সাথে কথা বললে তারা আপনাকে তাদের আন্দোলনের শুধু সংকটের কথাই বলবেন- তাদের অর্জিত কিছু কিছু সফলতাকে কিভাবে পাশ্চাত্যের দানব ও তাদের দেশী তস্কররা ধুলায় মিশিয়ে। দিয়েছে- তার করুণ কাহিনীও তারা আপনাকে বলবেন। আন্দোলনের এই শ্রেণীর লোকেরা কিন্তু বিগত অর্ধশতক ধরে পাশ্চাত্যের শেখানো বিভিন্ন তন্ত্রের সিঁড়ি। বেয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলো। এই স্বপ্নস্বাধ তাদের সেদিনই ভেংগে তছনছ হয়ে গেছে যেদিন তারা টের পেলো যে, যে তন্ত্রের ওপর ভর করে তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলো, নির্মমভাবে তাই তাদের পিঠে ছুরিকাঘাত করেছে। যাকে তারা বন্ধু ভেবেছিলো আসলে তা ছিলো পাশ্চাত্যেরই দুগ্ধপোষা এক বিষধর সাপ। সম্বিত ফিরে পাবার পর তারা টের পেলো এই তন্ত্রেরই বিষাক্ত ছোবলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে ১০/১২ লক্ষ আলজেরীয় মুসলমান ও লক্ষাধিক তুর্কী মুসলমানদের তথাকথিত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নস্বাধ।

 

আমি জানি, এ পর্যন্ত পড়েই আপনি জানতে চাইবেন, বর্তমান বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনসমূহের তাহলে মূল সমস্যাটা কি? সমস্যাটা যে আসলে কোথায় এটা আজ সবারই প্রশ্ন। অনেকেই বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পথে বড়ো বাধা হচ্ছে পাশ্চাত্যের দস্যু সভ্যতা- যা মানুষদের মনুষ্যত্বের সর্বোচ্চ স্তর থেকে এনে পশুত্বের সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে দিয়েছে। কেউ বলেন, ইসলামী আন্দোলনের বড়ো সংকট হচ্ছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায় তাদের অনুপস্থিতি। কেউ আবার বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের অভাবই হচ্ছে আসলে ইসলামী আন্দোলনের বড়ো সমস্যা। আমি জানি না, আপনি আমার সাথে একমত হবেন কি না- আমি যদি বলি, এর কোনোটাই চলমান বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনসমূহের সমস্যা কিংবা সংকট নয়। আজ ইসলামী আন্দোলনের সবচাইতে বড়ো সংকট হচ্ছে বিশ্বব্যাপী এই আন্দোলনের পরিচালকদের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, নীতি নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়নে নির্মম ব্যর্থতা ও তা বাস্তবায়নে তাদের পশ্চাতমুখী মানসিকতা। এর সাথে আবার রয়েছে এই শতকে জন্ম নেয়া বিশাল প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়াবহতা, যার দূষিত প্রভাবে আমরা ভেতরে বাইরে অল্প বিস্তর সবাই প্রভাবিত।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আর্থ সামাজিক পরিবেশে পাশ্চাত্য সভ্যতার মানসিক গোলামীর পটভূমিতে আরব আজমে যে কয়টি ইসলামী আন্দোলন জন্ম নিয়েছে, তার প্রতিটি আন্দোলনকে পর্যালোচনা করলে সম্ভবত এ সত্যটিই আমাদের সামনে। প্রমাণিত হবে যে, উপরে বর্ণিত কোনোটাই আসলে ইসলামী আন্দোলনের সমস্যা কিংবা সংকট নয়। আজ ইসলামী আন্দোলনের সংকট খুঁজে বের করা ও তা থেকে উত্তরণের পন্থা খুঁজতে হলে আমাদের কিছুক্ষণের জন্যে দলীয় আনুগত্য ও তথাকথিত বিজয়গাথার ওপরে উঠে চিন্তা করতে হবে।

 

বিগত শতকে পাশ্চাত্য সভ্যতার লেবরেটরিতে যে তন্ত্রমন্ত্রগুলো জন্ম নিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের নেতারা সত্যিকার অর্থে তাদের প্রিয় সংগঠনকে তার বিষবাষ্প থেকে মুক্ত রাখতে পারেননি। আমাদের কালের রেনেসাঁ আন্দোলনের একজন শীর্ষ নেতা আল্লামা ইকবাল বর্তমান সময়ের যে তিনটি মতবাদকে মানবতার জন্যে বিষের চেয়েও বেশী ধ্বংসাত্মক বলে অভিহিত করেছিলেন সেগুলো হচ্ছে, উগ্র জাতীয়তাবাদ ও তথাকথিত মুক্ত অর্থনীতি ধন বিলাসী অবাধ পুঁজিবাদ, পুঁজিবাদের রাজনৈতিক লেবাসধারী ধর্মহীন গণতন্ত্র ও সদ্য মৃত রাষ্ট্রীয় পুঁজিতন্ত্র তথা সাম্যবাদ। আন্তরিক নিষ্ঠা থাকা সত্ত্বেও এগুলোর প্রভাববলয় থেকে কোনো একটি ইসলামী আন্দোলনের নেতারাই মুক্ত নন। তাই তারা তাদের আন্দোলনকেও এ প্রভাবমুক্ত রাখতে পারেননি। কোথাও তা আমাদের রাজনীতিকে গণতন্ত্রের অভিশাপ দিয়ে ব্যাধিগ্রস্থ করেছে, আবার কোথাও তা আমাদের অর্থনৈতিক দর্শনকে পাশ্চাত্যের জড়বাদিতার অক্টোপাসে আবদ্ধ করেছে।

 

এই কঠিন ও অপছন্দনীয় কথাগুলো আমি চলমান বিশ্বের বিশেষ কোনো ভূখণ্ডের বিশেষ কোনো আন্দোলনের জন্যে বলিনি। আরব আজমের বলতে গেলে সব কয়টি আন্দোলনই আজ এই দুষ্ট ক্ষতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। রাজনীতির মাঠে অন্যদের মতো নিজেদের শক্তি প্রদর্শন, জনসভা ও মিছিলে জনসমাগম বৃদ্ধির কৃত্তিম ও অহেতুক প্রচেষ্টা এক সময় গোটা আন্দোলনের দাওয়াতী স্পীটটিকেই বিনষ্ট করে দেয়। এসব বিনষ্টের ছিটে ফোটা নিদর্শন দেখার জন্যে এখন কারোই হাই পাওয়ারের চশমা পরার দরকার হয় না।

 

সাইয়েদ কুতুব শহীদ গোটা দুনিয়ার ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ লক্ষ কর্মীর সামনে নিজের খুনের নযরানা দিয়ে এ কথাটাই পেশ করেছেন যে, সংকট থেকে উত্তরণের জন্যে ইসলামী আন্দোলনকে সর্বাগ্রে কোরআনের নির্ভেজাল রং দিয়ে। সাজাতে হবে, আর আন্দোলনকে কোরআনের রং দিতে হলে সবার আগে কোরআন থেকে রসূলের আন্দোলনকে খুঁজে বের করতে হবে। তাফসীর ফী যিলালিল কোরআনের ছত্রে ছত্রে শহীদ কুতুব এ মুক্তোগুলোই আমাদের জন্যে জমা করেছেন, আর সেগুলোকে বিগদ্ধ পাঠকদের জন্যে বিষয় আকারে সাজিয়ে দিয়েছেন বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক আমার স্নেহের হাফেজ মাওলানা আহমদ রফীক। আল্লাহ তায়ালা তাকে যথার্থ বিনিময় দান করুন।

 

এ মুক্তোগুলোর মাঝে রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের চরিত্র বৈশিষ্ট্য, এ আন্দোলনের শক্তির আসল উৎস, আল্লাহ তায়ালার সাহায্য পাবার পূর্বশর্তসহ বাতেলের সাথে আন্দোলনের অগ্রসেনানীদের যাবতীয় আপস ফর্মুলা পরিহা করার কঠোর তাগিদ। আরো রয়েছে নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, সমস্যা সংকটে নেতৃত্বের অসাধারণ মেধা প্রদর্শন, লোভ লালসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষায় নেতৃত্বে কঠোর ধৈর্যের আহবান সম্বলিত বহু মূল্যবান কথা। সর্বশেষে রয়েছে বিশ্বে প্রচলিত আন্দোলনসমূহের সাথে ইসলামী আন্দোলনের পার্থক্যের মানদন্ড এবং মানদন্ডের আলোকে ইসলামী আন্দোলনের সংকট উত্তরণের দিকনির্দেশনা।

 

সাইয়েদ কুতুব শহীদের জন্যে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের ফুল বাগিচায় এব মনোরম আসন সাজিয়ে দিন, আর আমাদের তার মূল্যবান লেখায় অনুপ্রাণিত হ নিজেদের আন্দোলনগুলোকে জঞ্জালমুক্ত করার শক্তি সাহস দিন, এই কাম করেই পাঠকদের তার বক্তব্যের দিকে ধাবিত হওয়ার আহবান জানাবো।

 

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

জানুয়ারী ২০২৫

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬

সাইজ: ৫.৫ × ৮.৫ ইঞ্চি

কভার: হার্ড কভার

প্রিন্ট: সাদা কালো

কাগজ: ৬১ গ্রাম অফ হোয়াইট

ওজন: ০.৪ কেজি

অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।

ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে)

শর্তাবলি:

যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে

ফর্মা মিসিং হয়

কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয়

এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “ইসলামী আন্দোলন সংকট ও সম্ভাবনা”

Your email address will not be published. Required fields are marked *