কোরআনের পাতায় আল্লাযীনা আমানু.

৳ 50.00

মানব সন্তানের মাঝে সে লোকগুলোই অধিক সৌভাগ্যবান, যারা আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান এনেছে। এ সৌভাগ্যবান মানুষদের নিয়ে আল্লাহ তায়ালা যেসব কথা বলেছেন তারই এক অনবদ্য সংগ্রহ হচ্ছে আমাদের এই বই। পাঠকদের সুবিধার্থে আমরা এর সাথে আয়াতগুলোর সহজ সরল বাংলা অনুবাদও পেশ করেছি। চার রংঙের কভারে বইটির ছাপা ও পরিবেশনা চমৎকার।
কোরআনের পাতায় আল্লাযীনা আমানু…

 

‘আল্লাযীনা আমানু’ কোরআনে কারীমের ছোট্টো দু’টো শব্দ। আল্লাযীনা মানে ‘যারা’, আর আমানু মানে ঈমান এনেছে। ছোট্টো হলেও এ শব্দগুলোর মাঝে যে এক বিশাল পৃথিবী লুকিয়ে আছে তা কি আমরা সত্যি সত্যিই অনুভব করতে পারছি?

 

হযরত ঈসা আলাইহে ওয়া সাল্লামের আগমনের ৫৭০ বছর পরের কথা।

 

পৃথিবী যখন জাহেলিয়াতের নির্মম পেষণে কাতরাচ্ছিলো, মানবতা যখন প্রতিনিয়ত স্বঘোষিত সমাজ অধিপতিদের দ্বারা পিষ্ট হচ্ছিলো- তখন আল্লাহর এক অকুতোভয় বান্দা সাফা পর্বতের উপত্যকায় দাঁড়িয়ে শুধু আরব আজমই নয়- সমগ্র মানব সন্তানদের অন্ধকারকে পেছনে রেখে আলোর দিকে বেরিয়ে আসতে বললেন।

 

মানবরচিত সমস্ত বিধি-নিষেধকে দু’পায়ে দলে মানুষের কাঁধ থেকে মানুষের গোলামীর ভারী শেকল খুলে ফেলতে তিনি মানব সন্তানদের প্রতি আহ্বান জানালেন। তিনি বললেন- ‘হে মানুষ, তোমরা ঈমান আনো সৃষ্টিকূলের মালিক আল্লাহ তায়ালার প্রতি।

 

দীর্ঘ দিন ধরে যারা জাহেলিয়াতের যাতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছিলো তারা যেন এই আহ্বানের মাঝে তাদের মুক্তির পয়গাম শুনতে পেলো। ধনী নির্ধন, মনিব গোলাম, নারী পুরুষ, যুবক কিশোরদের আলোকিত মানুষরা নবীর ওপর ঈমান আনলো, আর কায়েমী স্বার্থবাদীরা তাদের শেরক ও কুফরেই নিমজ্জিত থেকে গেলো।

 

দেখতে দেখতে দুনিয়ার মানুষগুলো দুটি দলে ভাগ হয়ে গেলো। একটি হলো কোরআনের আলোয় আলোকিত মানুষদের কাফেলা, যারা আল্লাহ তায়ালা ও তার রসূলের ওপর ঈমান এনেছে, আরেকটি দল যারা কুফরী ও শেরক আকড়ে থেকেছে। ন্যায় অন্যায়, হক বাতিলের এ লড়াইয়ের চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি পক্ষ। একটি ‘আল্লাযীনা আমানু’ যারা ঈমান এনেছে, আকেরটি ‘আল্লাযীনা কাফার’, যারা কুফরী করেছে।

 

যারা আল্লাহ তায়ালা ও তার রসূলের ওপর ঈমান এনেছে তারা নিসন্দেহে মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কেননা আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণাপত্রে তারা স্বাক্ষর করেছেন। তার সৃষ্টিকূলের সবচেয়ে বড়ো সত্যকে তারা মেনে নিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা এ দলের লোকদের জান্নাতুল ফেরদাউসের সুরম্য বালাখানায় স্থান দেবেন।

 

অপরদিকে কুল মাখলুকাতে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হচ্ছে- যে সৃষ্টি কৌশলের পরতে পরতে আল্লাহ তায়ালার দৃশ্যমান এসব বস্তুকে অবজ্ঞা করে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাকেই অস্বীকার করেছে। আল্লাহ তায়ালা এদের জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। জাহান্নামের আগুন তেজ করার জন্যে ফেরেশতারা তাতে হাঁপর দিতে শুরু করেছেন।

 

আল্লাযীনা আমানু কথাটা কোরআনে কয়েক ষ্টাইলে নাযিল করা হয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় বলা হয়েছে- ‘ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানু’ হে মানুষ তোমরা যারা ঈমান এনেছো। কোথায়ও বলা হয়েছে- ‘ইন্নাল্লাযীনা আমানু’ নিসন্দেহে যারা ঈমান এনেছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় শুধু ‘আল্লাযীনা আমানু’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা অসংখ্যবার এই ঈমান আনার কথাটি বলেছেন।

 

যারা ঈমান এনে আলোকিত মানুষের কাফেলায় শামিল হয়েছেন আমাদের এ বর্তমান পুস্তকটি তাদের জন্যে।

 

‘যারা ঈমান এনেছে’ একথাটি দিয়ে নাযিল হওয়া আয়াতগুলোকে যথাসম্ভব আমরা এই পুস্তকে এক জায়গা জড়ো করেছি। জানিনা আমাদের অযোগ্যতা অবহেলায় সব কয়টি আয়াত আমরা একত্রিত করতে পেরেছি কি না, তবু যে সব আয়াতকে আমরা একত্রিত করতে পেরেছি তা যে বর্তমান বিষয়ের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ। আশাকরি বিদগ্ধ পাঠক তা সহজেই অনুভব করতে পারবেন।

 

যে উদ্দেশ্যে বইটি আমরা প্রকাশ করছি তাতো আমাদের মালিক মনিবই ভালো জানেন। আল্লাহর যমীনের একটি মানুষও যদি এই পুস্তক পড়ে ঈমান আনয়নকারী এ কাফেলায় শামিল হয় তাহলে আমাদের যে সময় ও অর্থ এর পেছনে ব্যয়িত হয়েছে তা স্বার্থক মনে করবো।

 

বিনীত

 

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

লন্ডন

জমাদিউস সানি ১৪২৮

জুলাই ২০০৭

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

সাইজ: ৫.৫ × ৮.৫ ইঞ্চি

কভার: হার্ড কভার

প্রিন্ট: সাদা কালো

কাগজ: ৫৫ গ্রাম অফসেট

ওজন: ০.২ কেজি

অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।

ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে)

শর্তাবলি:

যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে

ফর্মা মিসিং হয়

কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয়

এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “কোরআনের পাতায় আল্লাযীনা আমানু.”

Your email address will not be published. Required fields are marked *