মা’য়ালেম ফিত ত্বরীক

৳ 280.00

ইসলাম ও জাহেলিয়াতের হাজার হাজার বছরের এই দ্বন্দ্বে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নায়ক ও ভিলেনদের চরিত্র ছাড়া আর কোনোই তফাৎ ঘটেনি। এই মিশরেরই জেলখানার এক নির্মম প্রকোষ্ঠে বসে আল্লাহর নবী ইউসুফ (আ.) যা বলেছেন- সেই মিশরের জেলখানায় বসে সাইয়েদ কুতুবও একই কথা বলেছেন। কে বলবে এদের মাঝে ৫ হাজার বছরের বিরাট ব্যবধান রয়েছে।

আমাদের কিছু কথা

 

সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ আমাদের কালের একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ। বিগত শতকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকল মানুষের জীবন থেকে যুগ-যুগান্তরের পুঞ্জীভত শেরক ও জাহেলিয়াতকে নির্মল করার এক প্রতিবাদী যোদ্ধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন, কিন্তু যালেমরা এই আবির্ভাবকে বেশিদিন বরদাস্ত করতে পারেনি। মিশরের যমীনে তার পূর্বসূরীকে যেমন প্রাচীন জাহেলিয়াতের প্রবক্তারা সহ্য করেনি, তেমনি তার উত্তরসূরীরাও সহ্য করেনি আধুনিক জাহেলিয়াতের কুৎসিত চেহারা উন্মোচনকারী এই সংগ্রামী মানুষটিকে। তারা তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের মামলা হামলার উৎপাত শুরু করে দিলো। মজার ব্যাপার হলো, প্রায় ৫ হাজার বছর আগের মামলার সাথে কিন্তু বর্তমান মামলার নথিপত্র ও চার্জশীটের কোনোই তফাৎ নেই।

 

৫ হাজার বছর আগে ফেরাউনের লোকেরা নবী মুসাকে বলেছিলো, ‘তারা যমীনে দাংগা ফাসাদ সৃষ্টি করে মিশরের যমীন থেকে তাদের উৎখাত করতে চায়।’ (সূরা তুহা, ৫২) সাইয়েদ কুতুবকে ফেরাউনের উত্তরসূরী নাসেররা বললো, ‘তারা দাংগা ফাসাদের মাধ্যমে মিশরের ক্ষমতা দখল করতে চায়।’ সে দিনের মামলায় ফেরাউনের বিচারে মূসা ও তাঁর সাথীদের বিরুদ্ধে হত্যা করার ষড়যন্ত্র আনা হলো, আর এ দিনের বিচারে সাইয়েদ কুতুব ও তার সাথীদের ফাঁসির আদেশ শোনানো হলো। মামলার সমগ্র কার্যক্রমে পার্থক্য শুধু একটাই এবং তা হলো রায়দণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে ফেরাউন তার দলবলসহ নীল নদের পানিতে বিনাশ হয়ে গেলো, আর সাইয়েদ কুতুব শাহাদাতের অমীয় সূধা পান করে অমর হয়ে রইলেন।

 

কি অদ্ভুত মিল এই দু’টো মামলার। কে বলবে এর মাঝে ৫ হাজার বছরের দুস্তর ব্যবধান রয়েছে। আসলে আল্লাহর যমীনে আল্লাহর বান্দাহদের আল্লাহর গোলামীতে নিয়ে আসার কথা যারাই বলেছেন- দেশ ও কালের বিশাল ব্যবধান সত্ত্বেও এরা সবাই একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। আসহাবুল উখদূদ-এর লোকদের জীবন্ত পুড়ে মারা হলো ও আসহাবুল কাহাফের লোকেরা প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলায় অভিমান করে ৩ শত বছরের বেশী সময় ধরে গুহায় ঘুমিয়ে থাকলেন। নবী ইবরাহীম (আ.)-এর জন্যে আল্লাহ তায়ালা আগুনকে ফুলের বাগান বানালেন। নবী ঈসা (আ.)-এর জন্যে আল্লাহ তায়ালা এই শূলকে তার মহাকাশ যাত্রার মাধ্যম বানালেন- এসব ঘটনার মূল কথা ওই একটাই- ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দীর্ঘমেয়াদী দ্বন্দ্ব। ইসলাম বলে, এই যমীনের মালিক আল্লাহ তায়ালা। এই যমীনের সব কিছুর স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা। সুতরাং এ যমীনের বাসিন্দাদের তিনি যে সীমিত স্বাধীনতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তার যথার্থ প্রয়োগ করে আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্বের সামনে তাদের মাথানত করে চলতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই মানুষদের যিনি সৃষ্টি করেছেন তাদের জীবনের জন্যে আইন বিধান একমাত্র তিনিই রচনা করবেন।। মানুষের ওপর মানুষের কোনো গোলামী চলতে পারে না। কোনো ব্যক্তি মানুষ। কিংবা মানুষের কোনো সমষ্টি- তাদের আইনসভা, তাদের বিধানসভা কোনোটারই মানুষের জন্যে আইন ও বিধান রচনার অধিকার নেই।

 

অপরদিকে জাহেলিয়াত বলে, মানুষ এই পৃথিবীতে স্বাধীন। তাকে কারো কাছে কোনো কিছুর ব্যাপারেই জবাবদিহী করতে হবে না। সে নিজে কিংবা তার দল অথবা তার পার্লামেন্ট তার জন্যে আইন কানুন বানাবে। এই আইন বানাতে জাতীয়তাবাদ, কখনো সমাজবাদ, কখনো বা গণতন্ত্রের খোলস ব্যবহার করেছে। মূলত আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো কাছে তাঁর কোনো ক্ষমতাকে হস্তান্তর করা হচ্ছে সুস্পষ্ট শেরক এবং নিকৃষ্ট এক জাহেলিয়াত।

 

ইসলাম ও জাহেলিয়াতের হাজার হাজার বছরের এই দ্বন্দ্বে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নায়ক ও ভিলেনদের চরিত্র ছাড়া আর কোনোই তফাৎ ঘটেনি। এই মিশরেরই জেলখানার এক নির্মম প্রকোষ্ঠে বসে আল্লাহর নবী ইউসুফ (আ.) যা বলেছেন- সেই মিশরের জেলখানায় বসে সাইয়েদ কুতুবও একই কথা বলেছেন। কে বলবে এদের মাঝে ৫ হাজার বছরের বিরাট ব্যবধান রয়েছে।

 

জাহেলিয়াতের সাথে মুসলমানদের সাম্প্রতিক আচরণ দেখে আমার একটি গল্প মনে পড়ছে- এক জংগলে ছিলো এক হিংস্র বাঘের বাস। বাঘটি একবার ভাবলো, সবাই আমার কাজ কর্ম নিয়ে সমালোচনা করে, তাই নিজের স্বভাব চরিত্রে কিছু পরিবর্তন এনে অন্যদের সাথে যদি একটু আপোষ করা যায় তাহলে হয়তো সবার কাছে নিজেকে কিছুটা গ্রহণীয় করা যাবে। প্রস্তাবটা যখন সে অন্য পশুদের সামনে। রাখলো, তখন তারা বললো- না বাবা, তোমার ইয়া বড়ো বড়ো হিংস্র দাঁত, তোমাকে বিশ্বাস করা যায় না। বাঘ তাদের কাছে নিজেকে গ্রহণীয় করার জন্যে। নিজের দাঁতগুলো ভেংগে ফেললো। তারপরও পশুরা তাকে বিশ্বাস করতে পারলো না। তারা বললো তোমার দাঁত না থাকলে কি হবে, তোমার নখের থাবাটা কি কম ভীতিকর। বাঘ এবার তার নখগুলো ভেংগে দিয়ে বললো, এবার তো তোমাদের সাথে আমার মিশে যেতে কোনো বাধা নেই, এখন তো আমি আর ক্ষতিকর নই। ক্ষতিকর যা কিছু আমার মধ্যে ছিলো তার সবকিছুই তো আমি তোমাদের তালিকাভুক্তির’ প্রয়োজনে বাদ দিয়েছি। পশুরা বললো, না তারপরও সমস্যা আছে। বাঘ বললো, এখন আর কি সমস্যা! তোমরা যা যা চেয়েছো আমি তো তার সবটাই করেছি। তোমাদের তালিকায় নিজের নাম লেখানোর জন্যে তোমরা মাঝে আমি ব্যাপক পরিবর্তন এনেছি। এখন তো আর কোনো সমস্যাই থাকার যা যা শর্ত দিয়েছিলে আমি তার কোনটা পূরণ করিনি? আমার চিরন্তন স্বভাবের কথা নয়। পশুরা বললো, এখন সমস্যা হচ্ছে তোমার ওই নামটা। তমি দাঁত নখ কেটে যতোই হাজামত করে আমাদের দলভুক্ত হতে চাও না কেন, তোমার ওই বাঘ নামটার কি হবে? বনের রাজা এবার বিষণ্ণ মনে নিজেকে ধিক্কার দিতে থাকলো। এতো কাটসাট করেও তো ভাইদের মন পাওয়া গেলো না।

 

মুসলমানরা আজ সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক দিক থেকে যেমনি পরাজিত, তেমনি পরাজিত তারা মানসিক দিক থেকেও। সর্বত্রই আজ তারা ইনফিউরিটি কমপ্লেক্সে ভুগছে। অমুসলমান বন্ধুদের খুশী করার জন্যে মুসলমানরা আজ তাদের স্থায়ী কর্মসূচী থেকে ‘জেহাদ’ বাদ দিতে রাজী হয়ে গেলো। একদল- ‘দ্বীন প্রতিষ্ঠার’ শ্লোগান বাদ দিলো। আরেক ইসলামী দল ‘শাসনতন্ত্র’ বাদ দিতে রাজী হয়ে গেলো, কিন্তু এতোসব করেও কি বন্ধুদের প্রেম পাওয়া গেছে? না, তেমন তো মনে হচ্ছে না। যাদের খুশী করার জন্যে আজীবনের লালিত দ্বীন ঈমানের সাথে আপোস করতে আমরা রাজী হয়ে গেলাম, তারাই এখন বলছে, তোমরা যতোই বলো, তোমরা এখন আর ক্ষতিকর নও, কিন্তু তোমাদের ওই নামটার কি হবে?

 

এই কথাটাই কোরআন মাজীদ আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে আমাদের বলে দিয়েছে। কোরআন বলছে, ‘(হে মোহাম্মাদ, তুমি জেনে রেখো) এই ইহুদী নাসারারা কিন্তু কখনো তোমার ওপর সন্তুষ্ট হবে না- যতোক্ষণ না তুমি পুরোপুরি তাদের মিল্লাতের অনুসরণ করবে। (সূরা আল বাক্বারা, ১৪০)

 

আজ যেটাকে আমরা ‘হেকমত ও কৌশল’ বলছি এটা করেও আপনি আমি তাদের আপন হতে পারবো না। আমরা যে এখন আর ক্ষতিকর নই এই মর্মে সার্টিফিকেট পেতে হলে আমাদের আরো গোড়ায় হাত দিতে হবে। আমাদের ঈমান সেটা কি আমাদের করতে দেবে?

 

আমি মাঝে মাঝে ভাবি, ভেবে নিজের কাছে এই কথাটার কোনো জবাবই খুঁজে পাই না যে, যারা দীর্ঘদিন থেকে ইসলামী আন্দোলনের এই আপোসহীন কর্মসূচীর প্রাকটিক্যাল তরবিয়ত পাচ্ছেন, তারা বাতিলের পাতানো ষড়যন্ত্রের জালে ফেঁসে গেলেন কিভাবে। নিজেদেরকে কমপ্রোমাইজিং, লিবারেল ও মডারেট প্রমান করতে না পারলে ফান্ডামেন্টালিস্ট ও টেরোরিস্ট খেতাবে ভূষিত হবার আতংক। থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে আমরা প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও কি তাদের খুশী করতে পারছি? সৌদী আরব, মিশর সিরিয়াসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্য- ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়াসহ পুরো দূরপ্রাচ্য ও পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, কাশ্মীর শ্রীলংকাসহ সমগ্র উপমহাদেশের কোনো অংশের ইসলামী আন্দোলনই এই ইনফিউরিটী কমপ্লেক্স থেকে আজ মুক্ত নয়। পৃথিবীর ‘অনলি’ সুপার পাওয়ারের নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের হুংকার ও চোখ রাঙ্গানীতে সবাই এখন সন্ত্রস্থ।

 

৬০ এর দশকে যখন সাইয়েদ কুতুব ‘মায়ালেম ফিত তরীক’ লিখেছেন, তখন কিন্তু আরব আজমে কোথাও আপোসের এতো ছড়াছড়ি ছিলো না। ইসলামের জেহাদ কর্মসূচীর বিষয়ে আমাদের কিছু পরাজিত মানসিকতাসম্পন্ন লেখক গবেষকদের দৃষ্টিভংগির এক দু’টো কথা টের পেয়েই সাইয়েদ কুতুব এই পুস্তক রচনা করেছেন। একই সময়ে যিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামী আন্দোলনের। কর্ণধার ছিলেন সে আপোষহীন ও সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীও এই সময়ের ভেতর অনেক আপোসহীন পুস্তক রচনা করেছেন। আজ যদি তাফসীর ‘ফী যিলালিল কোরআন’ ও ‘মায়ালেম ফিত তরীক’ এবং ‘আল জেহাদ ফিল ইসলাম’ ও ‘আল্লাহর পথে জেহাদ’-এর সম্মানিত লেখক দ্বয় জীবিত থাকতেন, তাহলে জানি না তারা তাদের উত্তরসূরীদের এসব কর্মকাণ্ডকে কিভাবে মূল্যায়ন করতেন।

 

গোটা মুসলিম জাতির জীবনে- বিশেষ করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার দল ও সংগঠনসমূহের চিন্তার রাজ্যে ইদানীং যে ‘দূষণ’ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে তার

 

বিশাল ঢেউ মোকাবেলা করতে না পারলেও ‘মায়ালেম ফিত তরীক’-এর বাংলা অনুবাদ কিছুটা হলেও শহীদের উত্তরসূরী এ আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিজেদের কর্মসূচী পুনর্বিবেচনা করতে সাহায্য করবে- এই ক্ষীণ আশাটুকু মনে রেখেই আমরা দেশ, জাতি, আন্দোলন ও সংগঠনসমূহের এ ক্রান্তিকালে তাদের সবার

 

হাতে ‘মায়ালেম ফিত তরীক’-এর বাংলা অনুবাদ তুলে দিতে চাইলাম। ‘মায়ালেম ফিত তরীক’ একজন সাইয়েদ কুতুবকে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করিয়েছে;

 

কিন্তু হাজারো সাইয়েদ কুতুব যারা পথের সন্ধানে আজও দ্বিধাগ্রস্ত তারা হয়তো এই বইতে তাদের আরো কিছু দিন বেঁচে থাকার প্রেরণা খুঁজে পাবেন।

 

আজ যে মহান পুস্তকটি প্রকাশ করতে গিয়ে আমি এ কথাগুলো বললাম তার মূল আরবী নাম ‘মায়ালেম ফিত তরীক’ রাস্তায় বসানো মাইলফলক। ইতিহাসের যে কয়টি পুস্তক মানুষের ভাংগা গড়ায় মূল্যবান ভূমিকা পালন করেছে এই পুস্তকটি নিসন্দেহে তার মধ্যে অন্যতম। প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ ও কার্ল মার্কসের ‘দ্যাস কাপিটা’ এ কালের দু’টি বিখ্যাত বই। প্লেটো তার ‘রিপাবলিক’ বইতে জনগণের সার্বভৌমত্বের কথা বলেছেন, অপরদিকে কার্ল মার্কস-এর ‘দ্যাস কাপিটা’ জনগণের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে তার ওপর সমষ্টির সার্বভৌমত্বের কথা বলেছেন, আর ‘মায়ালেম ফিত তরীক’ বইতে সাইয়েদ কুতুব এই উভয় সার্বভৌমত্বকেই অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সার্বভৌমত্ব যেমন ব্যক্তির নয়- তেমনি তা সমষ্টিরও নয়। এটা একমাত্র সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার জন্যে। প্লেটো ও কার্ল মার্কসের বইতে গড়ার চাইতে ভাংগার উপকরণ বেশী বলে ফ্রাঞ্চ রেভ্যুলেশন ও রুশ রেজ্যুলেশনে কয়েক কোটি লোককে জীবন দিতে হয়েছে; কিন্তু ‘মায়ালেম ফিত তরীক’-এ সাইয়েদ কুতুব শহীদ যে গড়ার কর্মসূচী দিয়েছেন তা বাস্তবায়িত করার জন্যে দেড় হাজার বছর আগে প্রিয়নবী ()-এর ২০ বছরের ছোটো বড়ো ৮২টি যুদ্ধে ১ হাজারের চেয়ে বেশী লোককে প্রাণ দিতে হয়নি। এই বিধান বাস্তবায়নের

 

জন্যে আগামীকালের পৃথিবীতে অনর্থক কোনো মানুষকে জীবন দিতে হবে না। সাইয়েদ কুতুব শহীদ- ‘মায়ালেম ফিত তরীক’ বইতে যে আধুনিক জাহেলিয়াতের

 

কথা বলেছেন তার শিকার আজ আরব আজমের মুসলমান আমরা সবাই। এক সময় এই জাহেলিয়াত এসেছিলো মূর্তি পূজার রূপ ধারণ করে, এখন সেই জাহেলিয়াতই আমাদের কাছে এসেছে, বর্ণ, ভাষা, গোত্র ও ভৌগলিক জাতীয়তাবাদের নতুন রূপ ধরে। কোথায়ও আবার তা এসেছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, পুঁজিবাদ, সমাজবাদ ও গণতন্ত্রের লেবাস পরে; কিন্তু যে রূপে যে লেবাসেই আসুক না কেন- জাহেলিয়াত জাহেলিয়াতই।

 

ইসলাম ছাড়া অন্য সব মত ও পথই হচ্ছে জাহেলিয়াত। সাইয়েদ কুতুব শহীদের এই ‘জাহেলিয়াত দর্শন’ তাকে একজন আপোষহীন ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। আল্লাহ প্রদত্ত তার এই আপোষহীন ভূমিকাই তাকে শাহাদাতের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। কে জানতো শাহাদাতের যে রঙ্গীন স্বপ্ন তিনি এই পুস্তকের মাধ্যমে তার কোটি কোটি পাঠকের সামনে তুলে ধরেছিলেন, তা একদিন স্বয়ং তাকেই শাহাদাতের পেয়ালা পান করিয়ে দেবে।

 

আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই, সাইয়েদ কুতুবের নামে মিশরের আদালতে যখন শাহাদাতের পরোয়ানা লেখা হচ্ছিলো তখন দুশমনরা তার বিরুদ্ধে বারবার এই বই থেকেই উদ্ধৃতি পেশ করছিলো। আদালতের চার্জশীটে তারা বলেছে, সাইয়েদ কুতুব এই গ্রন্থে রাজতন্ত্র, সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দৃষ্টিতে এটা ছিলো প্রতিষ্ঠিত সমাজ সভ্যতার বিরুদ্ধে এক প্রচণ্ড বিদ্রোহ, আর এই বিদ্রোহের জন্যেই তারা তাকে ফাঁসি দিয়েছে।

 

এমনি একটি মহা বিপ্লবের ঘোষণাপত্র- আগামী দিনের পৃথিবী গড়ার অংগীকার হচ্ছে সাইয়েদ কুতুব শহীদের অমর গ্রন্থ ‘মায়ালেম ফিত তরীক’। এই কালজয়ী গ্রন্থটির বাংলা অনুবাদ পেশ করতে আমাদের একটু দেরীই হয়ে গেলো। আল্লাহ তায়ালা ‘আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স’কে বাংলা ভাষায় সাইয়েদ কুতুব শহীদের মহান তাফসীর ‘ফীল যিলালিল কোরআন’সহ তার অনেকগুলো মূল্যবান সাহিত্য কর্ম পেশ করার সৌভাগ্যে ধন্য করেছেন। সম্ভবত সে সুবাদেই এখানকার পাঠকরা এই সাড়া জাগানো পুস্তকটির বাংলা অনুবাদ আমাদের কাছ থেকেই আশা করেছিলো। আলহামদু লিল্লাহ একুট বিলম্ব হলেও আমরা সাইয়েদ কুতুব শহীদের ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘মায়ালেম ফিত তরীক’ গ্রন্থটির বাংলা অনুবাদ আপনাদের কাছে পেশ করতে যাচ্ছি। অনুবাদ করতে গিয়ে আমরা কিন্তু শহীদের দেয়া গ্রন্থের আরবী নামের রূহানী বরকত থেকে নিজেরা যেমন বঞ্চিত হতে চাইনি, তেমনি অন্যদেরও আমরা সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করতে চাইনি।

 

আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে মোহতারামা খাদিজা আখতার রেজায়ী এই অমর গ্রন্থে মূল লেখকের ভূমিকাসহ কিছু অংশ অনুবাদ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তার অনূদিত সে অংশকেই আমরা ‘আগামী বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নামে তাফসীর ফী যিলাযিল কোরআনের প্রথম দিকে সন্নিবেশিত করেছি। বর্তমানে মোহতারামার অনূদিত অংশের সাথে পুরো গ্রন্থটি আমরা আপনাদের খেদমতে পেশ করছি।

 

বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর পূর্তির ঐতিহাসিক উৎসব পালনের সময়গুলোকে আল্লাহ তায়ালা এই গ্রন্থের প্রথম প্রকাশনার জন্যে কবুল করেছেন-এ জন্যে আমি কোরআনের মালিক আল্লাহ তায়ালার দরবারে সাজদায় মাথা নত করছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবার জীবনকে ‘মা’য়ালেম ফিত তকরীকের’ আলোয় আলোকিত করুন।

 

বিনীত

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

নভেম্বর ২০২৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪০

সাইজ: ৫.৫ × ৮.৫ ইঞ্চি

কভার: হার্ড কভার

প্রিন্ট: সাদা কালো

কাগজ: ৬১ গ্রাম অফ হোয়াইট

ওজন: ০.৪ কেজি

অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।

ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে)

শর্তাবলি:

যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে

ফর্মা মিসিং হয়

কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয়

এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “মা’য়ালেম ফিত ত্বরীক”

Your email address will not be published. Required fields are marked *