| সুন্নতে নববী ও আধুনিক বিজ্ঞান
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা কোরআনে কারীমের সূরা আল বাকারার প্রথম আয়াতে বলেছেন, ‘এই কেতাব শুধু-তাদেরই পথ দেখাবে যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে’। অতপর যারা ভয় করে তাদের যে বিস্তারিত পরিচয় তিনি এখানে তুলে ধরেছেন তার প্রথম কথাই হচ্ছে- ‘যারা গায়বের ওপর ঈমান আনে’।
কোরআনে কারীমের এ আয়াত মোতাবেক একজন পরহেযগার মোত্তাকী লোকের প্রথম বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে তিনি গায়বের ওপর ঈমান আনবেন। আভিধানিক আরবী ভাষায় ‘গায়ব’ হচ্ছে ঠিক ‘হাযির’-এর প্রতিশব্দ। যা আমার সামনে আছে, যাকে আমি আমার চোখ দিয়ে দেখতে পারি, হাত দিয়ে ধরতে পারি, কান দিয়ে শুনতে পারি তাই ‘হাযির’। আবার এর বিপরীত যা আমার সামনে নেই, যা আমি চোখ দিয়ে দেখি না, হাত দিয়ে ধরতে পারি না, কান দিয়ে শুনতে পাই না তাই ‘গায়ব’। এই বাহ্যিক আভিধানিক অর্থের পেছনে ‘গায়ব’ শব্দের ব্যাপক কিছু ব্যবহারিক অর্থও আছে। সে আলোকে ‘গায়ব’ শুধু তাই নয়-যা দেখা যায় না, ধরা যায় না ও শোনা যায় না। সে অর্থে- পাঁচটি ইন্দ্রীয় শক্তির ধরাছোঁয়ার বাইরের বিষয়ই হচ্ছে গায়ব।
কথাটা আরেকটু পরিষ্কার করে বলি, যেমন মক্কা মদীনা আমি দেখি না বলে তা আমার কাছে ‘গায়ব’, কিন্তু যারা তা দেখেছেন তাদের কাছে তা ‘গায়ব’ নয়। কোরআনের বর্ণিত ‘গায়ব’ হচ্ছে এমন কিছু, যা মানুষ দেখেনি, শুনেনি- যার কল্পনাও সে করতে পারেনি। যেমন জান্নাত জাহান্নাম- এগুলো শুধু যে কেউ দেখেনি তাই নয়- এগুলোর কল্পনা করাও কোনো মানব সন্তানের পক্ষে সম্ভব নয়। কোরআনে ‘গায়ব’ নামে যে পরিভাষা ব্যবহৃত হয়েছে তার সত্যিকার ভাবার্থ সম্ভবত তাই। আর এমনি ‘গায়বী’ বিষয়ের ওপর ঈমান আনাকেই কোরআনে আল্লাহ তায়ালা পরহেযগার ব্যক্তির প্রথম বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহ তায়ালার এই আয়াতের আলোকে ইসলামী আকীদা বিশ্বাস ও শরা শরীয়তের কোথাও মুসলমানদের ‘যুক্তির’ পেছনে ধাওয়া করার অবকাশ নেই। আল্লাহ তায়ালা একথা বলেননি- যারা জেনে বুঝে বিজ্ঞানের মানদন্ডে চুলচেরা পর্যালোচনা করে ঈমান আনে তারাই পরহেযগার, মোত্তাকী ব্যক্তি। আসলে যত্রতত্র যুক্তি খোঁজার এই মানবীয় চরিত্রের কথা আল্লাহ তায়ালা সম্যক অবগত রয়েছেন বলেই তিনি শুরুতেই তার মন থেকে এ বিষয়টি ঝেড়ে মুছে সাফ করে দিতে চান। মানব সন্তানের প্রতি তাই তার স্রষ্টার প্রথম দাবী হচ্ছে তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে আগে- না দেখে- হাঁ, গায়বের ওপর একবার বিশ্বাস স্থাপন করার পর তুমি তোমার মানসিক স্বস্তির জন্যে যুক্তির সন্ধান করলে করতে পারো।
হযরত ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর সমীপে আরয করলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি কিভাবে মৃতকে জীবিত করো আমাকে একটু দেখিয়ে দাও। আল্লাহ তায়ালা বললেন, তুমি কি বিশ্বাস করো না যে, আমি মৃতকে জীবন দান করতে পারি! ইবরাহীম (আ.) বললেন, অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি। তবে দেখতে পেলে আমার মনটা একটু স্বস্তি পেতো। তারপর আল্লাহ তায়ালা মৃতকে জীবিত করার প্রক্রিয়াটা তাকে দেখালেন।
কোরআনের পাতায় আল্লাহ তায়ালার শেখানো এই পদ্ধতির পরিবর্তে আজ আমরা সম্পূর্ণ এক ভিন্ন তরিকায় সত্যের সন্ধান করতে শুরু করেছি। আল্লাহ তায়ালার কোনো আয়াত কিংবা রসূল (স.)-এর কোনো হাদীস আমাদের সামনে এলে আগে আমরা যুক্তি তথা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যার আলোকে তা যাচাই বাছাই করতে চাই। আল্লাহর নবী যখন মে’রাজ থেকে এসে সাহাবীদের সামনে তাঁর দীর্ঘ সফরের কাহিনী বর্ণনা করলেন, তখন হযরত আবু বকর সাথে সাথেই বললেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন- এটাই আমার কাছে বড়ো কথা। এক কাফের নেতা বললো, হে আবু বকর, আসলেই কি তুমি বিশ্বাস করো যে, কোনো রকম বাহ্যিক বাহন ছাড়াই মোহাম্মদ এ স্বল্প সময়ে মহাকাশের বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে পুনরায় তুমি বিশ্বাস করো যে, কোনো রকম বাহ্যিক বাহন ছাড়াই মোহাম্মদ এ স্বল্প সময়ে মহাকাশের বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে পুনরায় যমীনে ফিরে এসেছেন। সাথে সাথেই তিনি বললেন, অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি। তিনি আল্লাহর নবী, তাঁর কথা’ বিশ্বাস করার জন্যে এটুকুই আবু বকরের জন্যে যথেষ্ট ছিলো, এ কারণেই ইতিহাস তাকে নাম দিয়েছে ‘সিদ্দীকে আকবর’।
আজ আমরা চৌদ্দশ’ বছর পরে এসে তাঁর মে’রাজের এ মহাকাশ পরিভ্রমণকে নানা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা দিয়ে পেশ করার কসরত করছি। বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক কোথাও কিছু পাওয়া গেলে সাথে সাথে তার ব্যাপারে আপত্তিকর কিছু মস্তবা জুড়ে দিতেও আমরা দ্বিধা করি না।
আল কোরআন একাডেমী লন্ডন তার প্রকাশিত কোরআন, কোরআনের অনুবাদ, কোরআনের তাফসীর, কোরআন ও সীরাতমুখী সাহিত্যের পাতায় এ কথাটা অত্যন্ত স্পষ্ট করে পেশ করেছে যে, কোরআনের আয়াত ও রসূলের হাদীসকে মানুষের, উদ্ভাবিত জ্ঞানের আলোকে যাচাই বাছাই করার আমরা নীতিগতভাবে বিরোধী। আমরা বিশ্বাস করি, স্থায়ী ও অমোঘ একটা সত্যকে অস্থায়ী ও নিত্য পরিবর্তনশীল স্থল মানবীয় জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে যাচাই করা যায় না। বিজ্ঞানের কিছু সূত্র অনুধাবনের জন্যে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বিধান নাযিল করেননি। কোরআনের আয়াত ও রসূলের হাদীসকে বিজ্ঞানের আলোকে যাচাই করার এই ফ্যাশন আমাদের ধীরে ধীরে যুক্তিনির্ভর একটি জনগোষ্ঠীতে পরিণত করবে। যেখানে মানবীয় মূল্যবোধ, নীতিনৈতিকতা একদিন সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে।
আমরা বিশ্বাস করি, বিজ্ঞানের অবাধ আলোচনা ও যুক্তির নিষ্টকণ্টক পর্যালোচনা মানব সভ্যতার ক্রমবর্ধমান উৎকর্ষের জন্যে একান্ত জরুরী, তবে তা কোনো অবস্থায়ই আমাদের ‘গায়ব’-এর ওপর ঈমান আনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
‘সুন্নতে নববী ও আধুনিক বিজ্ঞান’ বইটি পাঠকরদের হাতে তুলে দেয়ার আগে আমি এ কয়টি কথা অত্যন্ত খোলাখুলিভাবে বলা জরুরী মনে করেছি। কোরআন ও বিজ্ঞান, হাদীস ও বিজ্ঞান বিষয়গুলো নিয়ে ইদানীং প্রয়োজনের চাইতে একটু বেশীই আমরা উৎসাহী হয়ে পড়েছি। কোরআন হাদীসের শাশ্বত বিষয়গুলোকে বিজ্ঞানের কতিপয় অস্থায়ী উপকরণের সাথে সামঞ্জস্যশীল বানাতে গিয়ে মাঝে মাঝে আমরা এমনি তালগোল পাকিয়ে ফেলি যে, মূল সত্যই আমাদের দৃষ্টির বাইরে থেকে যায়।
মনে রাখতে হবে, কোরআন হাদীস কোনো বিজ্ঞানের বই নয়। এর কোনো বিষয় যদি বিজ্ঞানের আবিষ্কার উদ্ভাবনীর সাথে মিলে যায় তাহলে সেটা হবে বিজ্ঞানেরই সাফল্য, আর তা একজন মুসলমানের মনে কিছুটা স্বস্তিই যোগাবে মাত্র। তার মৌলিক ঈমান আকীদায় তা কিন্তু কোনো প্রভাব ফেলবে না, কেননা তার ঈমানের মূল ভিত্তি হলো ‘গায়ব’- বিজ্ঞানের উদ্ভাবিত কোনো সূত্র নয়। আবার যদি কোথাও কোরআন ও হাদীসের কোনো চিরন্তন বিধি-বিধানের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের উদ্ভাবিত কোনো বিষয়ের গরমিল দেখা যায় তাহলে তাকে জ্ঞান বিজ্ঞানের ব্যর্থতা ও দীনতাই বলতে হবে। অপেক্ষা করতে হবে সেদিনের- যেদিন বিজ্ঞান তার আবিষ্কার উদ্ভাবনীকে কোরআন হাদীসের কাছাকাছি। নিয়ে আসবে।
এই কথাগুলো সামনে রেখে আপনি যদি আমাদের প্রকাশিত ‘সুন্নতে নববী ও আধুনিক বিজ্ঞান’ বইটি পড়তে শুরু করেন তাহলে আপনার মনে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সুন্নতে রসূলের কোনো দ্বন্দু লাগবে না।
‘সুন্নতে নববী ও আধুনিক বিজ্ঞান’ বিষয় নিয়ে যে দুর্লভ সংগ্রহ বিখ্যাত চিকিৎসক হাকীম তারেক মাহমুদ চুগতাই করেছেন তা রীতিমতো বিস্ময়কর। তিনি তার পরিশ্রমলব্ধ গবেষণায় একথা প্রমাণ করেছেন যে, আল্লাহর নবীর কোনো কথা ও কাজ বিজ্ঞানের যুক্তির বাইরে ছিলো না।
এই কামনা করি।
বর্তমান পুস্তকটির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুন্নতে নববীর আরো কাছাকাছি নিয়ে আসুন,
আহকার হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০০
সাইজ: ৫.৫ × ৮. ৫ ইঞ্চি কভার: হার্ড কভার প্রিন্ট: সাদা কালো কাগজ: ৫৫ গ্রাম অফসেট ওজন: ০.৭ কেজি |
| অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।
ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে) |
| শর্তাবলি:
যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে ফর্মা মিসিং হয় কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয় এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি। |
![Sunnata N. Cover [Converted] copy সুন্নতে নববী ও আধুনিক বিজ্ঞান](https://alquranacademypublications.com/wp-content/uploads/2026/02/Sunnata-N.-Cover-Converted-copy-600x925.jpg)
সুন্নতে নববী ও আধুনিক বিজ্ঞান
৳ 150.00
‘কোরআন ও বিজ্ঞান’ বিষয়ের ওপর আমাদের দেশে অনেক বই পুস্তক রচিত হলেও আজ পর্যন্ত সুন্নতে রসূলের বিষয়গুলোকে বিজ্ঞানের আবিস্কার উদ্ভাবনীর আলোকে পর্যালোচনা করার মতো পুস্তক সম্ভবত বাংলাদেশে এই প্রথম। এই গবেষণাধর্মী বইটিতে রসূলে আকরাম (স.)-এর দৈনন্দিন জীবনে পালন করা সুন্নাতসমূহের আলোকে বিজ্ঞানের প্রাপ্ত বিষয়গুলোর একটি সুন্দর আলোচনা পেশ করা হয়েছে। বইটি হাদীসে রসূলের প্রতিটি ছাত্রের জন্যে একান্ত প্রয়োজনীয়।
- Book Author: হাফেজ মুনীর উদ্দীন আহমদ

![Shefa O Rahmat [Converted] আল কোরআন: মোমেনদের শেফা ও রহমত](https://alquranacademypublications.com/wp-content/uploads/2026/02/Shefa-O-Rahmat-Converted-300x400.jpg)



Reviews
There are no reviews yet.