হাজার সাল পহলে

৳ 100.00

‘হাজার সাল পহলে’ নাম দেখেই আমরা বিস্মিত হয়ে ভাবি, হাজার বছর আগের মানুষের কাহিনী থেকে আসলেই কি আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কিছু শেখার আছে। দারুল উলুম দেওবন্দের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ মানাযির আহসান গিলানী সংকলিত সে সময়কার ঐতিহাসিক পর্যটকদের মূল্যবান দলীল দস্তাবেজ দেখে আপনার ধারণা নিসন্দেহে বদলে যাবে। হাজার বছর আগেও যে এশিয়া আফ্রিকার বিস্তর এলাকা জুড়ে মুসলমানরা একটি কল্যাণমূখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছেন বইটি তারই প্রমাণ।
হাজার সাল পহলে

 

হযরত খিযির আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলা হয়, একবার তিনি নদীর পাড়ে উত্তাল তরংগমালার পাশে কয়েকজন জেলেকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা ভাই তোমরা এ নদীতে কতো বছর ধরে মাছ ধরো। তারা বললো, সে তো অনেক বছর, আমাদের আগে আমরা আমাদের পিতাকে দেখেছি- দেখেছি আমার পিতামহকে। আমরা তো আমাদের বংশ পরম্পরায় এ নদীতেই মাছ ধরি।

 

এক হাজার বছর পর হযরত খিযির পুনরায় সে জায়গায় হাযির হলেন, গিয়ে দেখলেন- নদীর সে উত্তাল ঢেউ তো দূরে থাক- নদীর কোনো অস্তিত্বই সেখানে অবশিষ্ট নেই- সেখানে আছে এখন শস্য শ্যামল ফসলের মাঠ। মাইলের পর মাইল ব্যাপী রয়েছে ফসলের সমারোহ। মাঠে কাজ করছে এমন কয়জন চাষীকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন- আচ্ছা বলতে পারো, এ ফসলের মাঠ যেখানে তোমরা চাষাবাদ করছো তার বয়স কতো হবে? তারা বললো, তা তো আমরা বলতে পারবো না, তবে আমরা আমাদের বাপ দাদাদের এখানেই কাজকর্ম করতে দেখেছি। তারাও তাদের বাপদাদাকে নিশ্চয়ই এভাবে দেখে থাকবেন।

 

আবার এক হাজার বছর পর হযরত খিযির আবার সেখানে গিয়ে হাযির হলেন, এবার গিয়ে দেখলেন, সেখানে ফসলের সমারোহ তো দূরে থাক- কোনো মাঠেরই অস্তিত্ব নেই। সামনে ধুধু করছে মরুভূমির এক বিশাল প্রান্তর। অদূরে দেখলেন, মরুদ্যানে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে কয়েকজন রাখাল। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন- বলতে পারো এ মরুভূমিটি এখানে কতো বছর থেকে আছে? রাখাল দল তো শুনেই অবাক, বলে কি লোকটি। মরুভূমির বয়স জিজ্ঞেস করছে। কিছুটা হতবাক হয়ে লোকটির দিকে তাকিয়ে তারা বললো, শুনুন, আমরা আমাদের বাপ দাদাদের এ মরুভূমিতে পশু চরাতে দেখেছি, তারাও নিশ্চয়ই তাদের পিতা পিতামহকে এভাবেই পশু চরাতে দেখে থাকবেন। মরুভূমির বয়সের কথা আমরা জানবো কি করে?

 

ভূমন্ডলের একটি নিকৃষ্ট এলাকা, ব্যবধান মাত্র ৩ হাজার বছর। এই ৩ হাজার বছরেই এতো পরিবর্তন? আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হযরত খিযিরকে নাকি এ লম্বা হায়াত দেয়ার পেছনে এটাও ছিলো একটি কারণ যেন- তিনি নিজের চোখে দেখতে পারেন ‘আল্লাহ তায়ালা এভাবেই মানুষদের মাঝে সময়ের বিবর্তন ঘটান’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৪০)। কিন্তু আমাদের সাধারণ মানুষদের কালের বিবর্তন দেখার জন্যে কয়েক হাজার বছরের হায়াত তো আর নসীব হবে না। অবশ্য হযরত খিযিরের মতো সময়ের বিবর্তন দেখার জন্যে এক হাজার বছর অপেক্ষা করতে না পারলেও ইতিহাসের বিমূর্ত আয়নায় হাজার বছরের আগের সে সময়টা তো আমরা দেখে নিতে পারি।

 

আপনার হাতে যে পুস্তকটি আছে তা হাজার বছর আগেকার এমনি এক সময়ের আয়না, যখন এ ভূমন্ডলের মানুষগুলো ছিলো আমাদের ভাষায় সভ্যতা বিবর্জিত- অনেকটা সাধারণ জনগোষ্ঠী, কিন্তু এ সত্ত্বেও মনে হয় তারা ছিলো আমাদের তুলনায় বেশী সহনশীল বেশী সংস্কৃতিপরায়ণ। আমাদের সময়ের বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির যে অভাবনীয় কল্যাণ আমরা দেখেছি তার লক্ষ ভাগের একভাগও তো তাদের করায়ত্ত ছিলো না। তারপরও তাদের পৃথিবীকে তারা এতোকিছু দিলেন কি করে?

 

যে হাজার বছর আগের ভারতীয় উপমহাদেশ, চীনসহ- এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ জুড়ে বিস্তৃত গোটা মুসলিম অধ্যুষিত যে জনপদের কথা এই বইতে স্থান পেয়েছে- তা সে সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপট না জানা থাকলে ‘হাজার সাল পহলে’ বইটার যথার্থ মূল্যায়ন আমরা কখনো করতে পারবো না।

 

সময়টা ছিলো চতুর্থ হিজরী শতক। মাত্র চারশ বছর আগে আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসার জন্যে একজন নবী পাঠিয়ে তাদের ওপর দয়া করেছেন। এই নবী দুনিয়াতে এসে আল্লাহর বান্দাদের ব্যক্তিগত জীবনের ছোটো খাটো বিষয় থেকে রাষ্ট্রের বড়ো বড়ো বিষয় পর্যন্ত- সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষের সমাজে মানুষ হয়ে বাঁচার জন্যে তিনি তাদের ব্যক্তিগত আচার আচরণ, সামাজিক বিধি বন্ধন, অর্থনৈতিক লেন দেন, রাজনৈতিক দায় দায়িত্বসহ আন্তঃ রাষ্ট্রীয় পরিমন্ডলে যুদ্ধ ও শান্তির নিয়ম কানুনসহ সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন। এই মহা মানুষের মহা পরশে দেখতে দেখতে মাত্র ২৩ বছরে গোটা ভূমন্ডলের চেহারাটাই সম্পূর্ণ বদলে গেলো। মানবতা যেন তার লুণ্ঠিত সম্পদ ফিরে পেলো। এই মানবতার জয়গান নিয়ে এরা যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই মানুষ নতুন এক সভ্যতা, নতুন এক সংস্কৃতি খুঁজে পেয়েছে।

 

বিখ্যাত কয়েকজন ঐতিহাসিক ও পরিভ্রাজকের নিরপেক্ষ ও সাহসী কলম থেকে সে সময়ের যে চালচিত্র ফুটে উঠেছে তাকেই ভাষার পোশাক পরিয়েছেন মনীষী সাইয়েদ মানাযির আহমদ গিলানী। তার আল্লাহর প্রদত্ত মেধা ও কলমের আঁচড়ে কথাগুলো এতোই জীবন্ত হয়ে উঠেছে যে পড়তে পড়তে মনে হয় আমি নিজেই বুঝি বসরা, বোখারা, ইস্তাম্বুল ও সমরকন্দের অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছি।

 

বিশিষ্ট অনুবাদক হাফেয মওলানা আবু নায়ীম ১৫-১৬ বছর আগেই নাকি এ দূর্লভ গ্রন্থের অনুবাদ করেছেন। হাজার বছরের ঘটনা- অনুবাদ হয়েছে মাত্র পনেরো বছর আগে- সময়ের হিসেবে খুব বেশী কি বেমানান?

 

বিনীত-

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

লন্ডন

আগস্ট ২০০৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০

সাইজ: ৫.৫ × ৮. ৫ ইঞ্চি

কভার: হার্ড কভার

প্রিন্ট: সাদা কালো

কাগজ: ৫৫ গ্রাম অফসেট

ওজন: ০.৩ কেজি

অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।

ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে)

শর্তাবলি:

যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে

ফর্মা মিসিং হয়

কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয়

এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “হাজার সাল পহলে”

Your email address will not be published. Required fields are marked *