সাত রঙে তাজবীদসহ হাফেজী কোরআন মাজীদ

৳ 600.00

সাত রঙে তাজওয়ীদসহ হাফেজী কোরআন মাজীদ

(আর্ট পেপারে প্রিন্ট)

 

একজন মুসলমানরে জন্যে সহীহ শুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে তার সর্বোত্তম এবাদাত, আর এ উত্তম এবাদাতরে জন্যে প্রয়োজন আধুনকি প্রযুক্তির স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ কোরআন মাজীদের প্রকাশনা ও পরবিশেনা। এ মহান উদ্দশ্যেকে সামনে রেখেই আমরা আপনার জন্যে কোরআনের এই মোবারক তোহফাটি পেশ করছি। এই কোরআনে আমরা জনসাধারণের সহজবোধ্য সুন্দর কলকাতা ফন্ট ব্যবহার করেছি।ঝকঝক, স্পষ্ট ও নিখুঁত ছাপা। দৃষ্টিনন্দন কভার।

হেফজুল কোরআনের

বরকতময় অধ্যায়

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

 

কখন কিভাবে আমি প্রথম কোরআনের বর্ণমালা হাতে নিয়েছি যে কথা আজ আর মনে নেই, তবে কোরআনের পরিবেশে লালিত একটি পরিবারে বড়ো হওয়ার কারণে কোরআনের বর্ণমালা হাতে নিয়ে আমি যে শুধু আমাদের বাড়ির আংগিনায় কোরআনের চর্চা দেখেছি তাই নয়- কোরআনের চর্চা দেখেছি আমি সর্বত্র। বাড়ির ভেতরে যেমন কোরআনের চর্চা ছিলো, তেমনি ছিলো বাড়ির বাইরেও। আব্বার মুখে দাদার কথা শুনেছি, শুনেছি দাদার দাদার কথা। তারা ছিলেন ৩ প্রজন্মের ৩ জন সাক্ষী, তবে যে জিনিসটি তাদের উভয়কে একই দহলিজে এনে বসিয়েছে তা ছিলো কোরআনের চর্চা।

 

আমার বুযুর্গ পিতা হযরত মাওলানা মানসুর আহমদ, তার পিতা কোরআন সাধক হাফেজ মুসলিম ও তার পিতা পীরে কামেল আবদুল্লাহ মিয়াজী। আবদুল্লাহ মিয়াজী ছিলেন এ অঞ্চলের নানা সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের পুরোধা। আবদুল্লাহ মিয়াজীর পিতা আলিমুদ্দীন মিয়াজী ও তার পিতা ছিলেন এ ৬ প্রজন্মের আদি পুরুষ কোরআনের দা’য়ী জামালুদ্দীন মিয়াজী। তিনি ও তার কিছু সাথী মধ্য এশিয়া থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ এলাকায় এসেছিলেন। কোরআন প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে এসে তারা এখানেই নিজেদের আস্তানা বানিয়েছিলেন।

 

আমার এক দাদার কাছে তাদের আগের প্রজন্মের এই ৩ জন সাধক পুরুষের বিচিত্র জীবন কাহিনী আমি শুনেছি। সেটা সম্ভবত মোঘলদের ভারত বিজয়ের শুরুর দিকের ঘটনা হবে। বৃহত্তর নোয়াখালীর অধিকাংশ অঞ্চলই তখন ছিলো বনে জংগলে ঢাকা। আমার পূর্বপুরুষরা এখানে এসে শুধু বন জংগলই আবাদ করেননি, তারা কোরআনের আলো দিয়ে এখানকার মানুষদের মনমানসিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধও আবাদ করেছেন। তাদেরই পূণ্য সান্নিধ্যে এসে এ অঞ্চলের মানুষরা ধীরে ধীরে কোরআনের ভূবনে পা রাখতে শুরু করেছে। দাদার মুখে শোনা এ কাহিনী থেকে একটি কথা আমি ঠিক মতোই উপলব্ধি করেছি যে, আমাদের বর্তমান প্রজন্ম সে মহান ব্যক্তিদের মতো কোরআনের সাধনা করতে না পারলেও সবার ধমনীতে প্রবাহমান এমন কিছু রক্তবিন্দু রয়েছে, যা আমাকে কোরআনের কাছে নিয়ে এসেছে, অনেকটা ধাক্কা দেয়ার মতো! আল্লাহ তায়ালা দয়া করে তাদের মতো আমাকেও কোরআনের আলো দেখিয়েছেন; কিন্তু আমি তো জানি না, আমার পরবর্তী বংশধরদের ধমনীতে পূর্বপুরুষদের এই রক্তধারা কতোটুকু প্রবাহমান থাকবে, দুনিয়ার অন্য দু’দশটি মানুষের মতো আমিও কোরআনের সিঁড়িতে বসে তাদের জন্যে শুধু স্বপ্নের জালই বুনে যাচ্ছি। কে জানে আমার বিলেত পড়ুয়া সন্তান- সুমাইয়া, মাসুদ, জামিলা, ইকবাল, যোবায়দা ও তাদের পরবর্তী বংশধররা কতোটুকু কোরআনকে ভালোবেসে আমার স্বপ্নপূরণে এগিয়ে আসবে- আমি তো সারা জীবন তাদের কোরআন দিয়েই আগলে রাখার চেষ্টা করেছি। একমাত্র আলেমুল গায়ব আল্লাহ তায়ালাই জানেন তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য কতোটুকু ধরে রাখতে পারবে। আমি দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তরগুলোকে কোরআনের জন্যে উন্মুক্ত করে দিন।

 

ছয় পুরুষের কোরআনের দায়ীদের সাথে আল্লাহ তায়ালা আমার আব্বা ও আম্মাকেও জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। তাদের স্নেহ ও ভালোবাসার পরশ কোরআনের পথে আমার পথ চলাকে নিসন্দেহে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

মকতবের চাটাইয়ে ছোটো বেলায় কালো কালো হরফে কোরআনের লেখাগুলোকে যখন আমার সামনে পেশ করা হচ্ছিলো, তখন আমার সাথে আরো কয়েক ডজন কিশোর কিশোরী আমার আব্বারই তত্বাবধানে কোরআনের পাঠ শুরু করে দিয়েছে। আজ ৬ দশক পর যখন সে স্মৃতির আমি রোমন্থন করছি, জানি না আমার সে সব কোরআনের সাথীরা এখন কে কোথায় আছেন। কামনা করি, আমার সাথীদের আল্লাহ তায়ালা কোরআনের সুশীতল ছায়াতলে রাখুন। আমাদের বাড়ির আংগিনায় কোরআনের যে সব পাঠ হতো তাতে কোরআনের নাযেরানা, কোরআনের হেফজ প্রক্রিয়া সবই অন্তর্ভুক্ত ছিলো। বালক বালিকারা দুলে দুলে কোরআন পড়ছে, আলিফ, বে, তে, ছে (ওই সময় এভাবেই সবাই বলতো) আ-নাকুম, জা-নাকুম থেকে ধীরে ধীরে তারা কায়েদা বোগদাদী ও সেপারা মুখস্ত করা শুরু করলো। পরবর্তী পর্যায়ে নাযেরানায় যারা ভালো করতো তাদের হেফজের জন্যে বাছাই করা হতো। এভাবেই বাড়ির আংগিনা জুড়ে গড়ে উঠলো কোরআনের এক বিরাট পাঠশালা। এক সময় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির সর্বত্র গড়ে উঠা এসব পাঠশালায় তৈরী হতে লাগলো হাজার হাজার লাখ লাখ হাফেজে কোরআন। এই হাফেজদের সিনাতেই রক্ষিত হলো আল্লাহ তায়ালার আখেরী কালাম- কোরআনুল কারীম।

 

হ্যাঁ আমি আমাদের বাড়ির আংগিনায় আমার শৈশবের কোরআন হেফজের স্মৃতিটুকু রোমন্থন করছিলাম। আমার আব্বা মরহুম আমার ভাইদের সবাইকে একে একে কোরআনের হাফেজ বানাতে চেয়েছিলেন, আর তাদের হাফেজ বানানোর স্বপ্ন থেকেই তিনি তার বাড়ির বাইরে একটি হাফেজী মাদরাসা স্থাপন করলেন। ৬০ সালের দিকে আমি যখন ঐতিহ্যবাহী টুমচর মাদরাসায় দাখেল ক্লাসের ছাত্র, তখন কিছু দিনের জন্যে আমিও আব্বার প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় ভর্তি হলাম। আমার বড়ো ভাই হাফেজ মওলানা তোফায়েল আহমদ তখন এই মাদরাসার প্রধান। মাদরাসার ছাত্র সংখ্যা ছিলো ৫০-এর মতো। কাঠের রেহালে কোরআনের সুন্দর একটি কপি রেখে দুলে দুলে সবাই কোরআন মুখস্ত করতো, প্রতি দিনের সবকের পর হাফেজ সাহেব ছাত্রদের কাছ থেকে আগের মুখস্ত করা অংশগুলোর ‘দাওর’ শুনতেন। আজকের পাঠ শেষ হলে তিনি সবাইকে পরের দিনের সবক দিতেন, সেটা সবাই বাড়ির পরিবেশে বসে মুখস্ত করে নিয়ে আসতো। পরের দিন আবার একই কায়দায় চলতো হেফজ তথা কোরআন মুখস্ত করার দৈনন্দিন কর্মসূচী। এভাবে ২/৩ বছর দিবানিশি প্রচেষ্টার ফলে একজন ছাত্র কোরআনের হাফেজ হয়ে বেরুতো। গত ৬০ বছরে আমার মরহুম আব্বার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা থেকে সর্বমোট কতো লোক হাফেজী পড়া শেষ করেছে সে হিসাব আমরা কেউই বলতে পারবো না। এমনি করে বাংলা দেশের আরো হাজার হাজার হাফেজী মাদরাসা থেকে এই সময়ে আল্লাহর কতো লক্ষ বান্দা কোরআনের হাফেজ হয়ে বেরিয়েছে আমাদের দেশের কোনো সরকারী বেসরকারী সংস্থা তার পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করেনি। ফলে ইতিহাসের এ সমৃদ্ধ পরিসংখ্যানের পাতা আমাদের কাছে চির দিনের জন্যে অজানাই থেকে গেলো। অথচ এ অর্ধ শতকে আমাদের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল মাদরাসা থেকে যতো লোক ডিগ্রী লাভ করেছে, নানা বর্ণিল সমাবর্তনের মাধ্যমে তাদের নাম ধাম সব কিছুই ন্যাশনাল আর্কাইভে জমা করে রাখা হয়েছে। দুনিয়ার কিছু বৈষয়িক জ্ঞানের ওপর ডিগ্রীধারীদের চেয়ে কি ওই সোনার সন্তানদের মূল্য কম, যারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থটিকে নিজেদের বক্ষে ধারণ করে রেখেছে। এ বি সিডি কিংবা কখগঘ-র বিদ্যায় শিক্ষিত হওয়ার চেয়ে কি ওদের দাম কম- যারা যুগ যুগ ধরে আল্লাহর কিতাবকে জিইয়ে রেখেছে, আকাশে বাতাসে সর্বত্র কোরআনের সুবাস ছড়িয়ে দিয়েছে। কতো কিছুর জন্যেই তো দেশের নতুনপ্রজনন্মকে আমরা পুরস্কার দেই, কিন্তু আল্লাহর কিতাবের ৬ হাজার ৬ শ ৬৬ আয়াত যারা হেফজ করলো, তাদের জন্যে তো আজ পর্যন্ত এ ধরণের কোনো জাতীয় পুরস্কার ও বিশেষ সম্মাননার ব্যবস্থা করা হলো না। বিগত ছয় দশকে আমার গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের চেহারা পাল্টেছে, পাল্টেছে শহরের সে কলেজেরও- যেখানে আমি পড়েছি। আমূল পরিবর্তন এসেছে সে দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়েরও, যেখান থেকে আমি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছি: কিন্তু চেহারা বদলায়নি সেই প্রতিষ্ঠানটির যেখানে আমি আমার কোরআনের প্রথম পাঠ নিয়েছি।

 

দেশের হাজার হাজার হেফজ মাদরাসার জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে আসলেই আমাদের নিরাশ হতে হয়। এ বিষয়টিকে আমরা কেউই কখনো গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখিনি। আজ আমি যখন হেফজুল কোরআনের সাথে জড়িত ৬ দশকের এসব স্মৃতি রোমন্থন করছি, তখন আমাদের এ জাতিটার দুর্ভাগ্য দেখে এদের জন্যে আমার মনে করুণা হয়। কোনো রকম সরকারী আনুকল্য না পেয়েও যারা যুগ যুগ ধরে আল্লাহর কিতাব হেফজ করার মহান কাজে এগিয়ে এসেছে- তাদের এতোটুকু স্বীকৃতি দিতেও আমরা কোনোরকম উদারতা দেখাতে পারিনি। দেশের এক কোটি ছেলে মেয়ের হাতে যখন নতুন বছরের প্রথম দিন আমরা বই তুলে দেই, তখনো তো আমরা এদের সবার হাতে- সবার হাতে না হলেও এই হাফেজী শিক্ষার্থীদের হাতে এ ধরণের এক কপি সুন্দর কোরআন তুলে দিতে পারি। এমনি একটি সুন্দর কোরআনের কপি যেটা হাতে নিলে কিছুক্ষণ সময় তাদের কোরআনের সাথে কাটাতে ইচ্ছা করবে; কিন্তু মনে হয় এসব ভাবার মতো আমাদের কারোই সময় নেই।

 

হাফেজী শিক্ষার্থীদের হাতে এমনি একটি সুন্দর কোরআন তুলে দেয়া- যুগ যুগ থেকে যে স্টাইলের কোরআন পড়ে হাজার হাজার ছেলে মেয়ে হাফেজ হচ্ছে, ঠিক ওই স্টাইলের সাথে আরো কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস তথা সহীহ শুদ্ধ করে কোরআন শেখার তাজওয়ীদের নিয়মনীতিগুলো বিভিন্ন রঙের সাথে মিলিয়ে যদি তাদের জন্যে একটি কোরআন ছাপা যায়, তাহলে আমি মনে করি তারা আগ্রহভরে বর্ণিল সাজে সজ্জিত হওয়ার কারণে বিশেষ করে কোরআন হেফজের সাথে জড়িত ছাত্র ছাত্রীরা এই কোরআনটিকে পছন্দ করবে। কোরআনের পাতায় তাজওয়ীদের কালার স্থাপন পরিকল্পনা বাংলাদেশে সম্ভবত এই প্রথম। বিশেষ করে হাফেজী কোরআনে তাজওয়ীদের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র রঙের সংস্থাপন আমাদের বাংলাভাষীদের কাছে একটি নতুন সংযোজন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ প্রচেষ্টাটুকু কবুল করুন।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে সব শুভানুধ্যায়ীরা এমনি একটি কোরআনের কপি পেতে চেয়েছিলেন- আল্লাহর শোকর তাদের জন্যে কোরআনের পথে আরেকটি মাইল ফলক আমরা স্থাপন করতে পেরেছি। এখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে এর পর্যাপ্ত কপি সংগ্রহ করে হাফেজী মাদরাসার ছাত্র ছাত্রীদের উপহার দিতে পারবেন। ইদানীং দেশের বিশিষ্ট শিল্প পরিবার আকিজ গ্রুপ এই কাজটি শুরু করেছেন। আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের কঠিন দিনে আমাদের সবার আমলের খাতাটিকে এভাবেই কোরআনের রংগে সাজিয়ে দিন, কোরআন দিয়ে আল্লাহ তায়ালা আমাদের মাফ করে দিন। আমীন!!

 

মায়াস সালাম

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

লন্ডন

শা’বান ১৪৪৪, মার্চ ২০২৩

স্পেসিফিকেশন:

 

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪০

সাইজ: ৫.৫ × 8.25 ইঞ্চি

কভার: হার্ড কভার

প্রিন্ট: ৪ কালার

কাগজ: ৭০ গ্রাম আর্ট পেপার

ওজন: ০.৯ কেজি

ডেলিভারি তথ্য: অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।

ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে)

রিটার্ন পলিসি শর্তাবলি:

যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে

ফর্মা মিসিং হয়

কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয়

এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি।

 

নির্ধারিত কোরআন মাজীদগুলো ব্যতীত অন্যান্য বইয়ে ৪০% ছাড়

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “সাত রঙে তাজবীদসহ হাফেজী কোরআন মাজীদ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *