| কোরআনের সংক্ষিপ্ত আলোচনা
প্রতি বছর মাহে রমযানকে সামনে রেখে আমরা কোরআন বুঝার জন্যে কিছু কর্মসূচী পালন করি। এই কর্মসূচির নাম ‘কোরআন বুঝার আন্দোলন’। দেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, মাদক, নকল ও ধুমপান বিরোধী আন্দোলন, শব্দ দূষণ বিরোধী আন্দোলন যদি সফলতার সাথে চলতে পারে এবং তার কিছু ইতিবাচক ফলও যদি অর্জিত হতে পারে তাহলে যে গ্রন্থের সাথে গোটা মানব সন্তানের উত্থান পতন সম্পৃক্ত সে গ্রন্থের বক্তব্যকে সাধারণ মানুষদের কাছে পৌঁছানোর জন্যে একটা সামাজিক আন্দোলন থাকা কি আসলেই অযৌক্তিক? আলহামদু লিল্লাহ গত কয়েক বছরের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি অংশ কোরআন বুঝার এ আন্দোলনে আমাদের শরীক হয়েছেন। এ আন্দোলনের জন্যে আমরা কিছু কিছু শ্লোগান ব্যবহার করেছি- যেগুলো আজো অসংখ্য হৃদয়ে কোরআনের আবেদন সৃষ্টি করে। আমরা বলেছি, ‘কোরআন পড়ন, কোরআন বুঝুন, কোরআন দিয়ে জীবন গড়ন’, ‘কোরআন আজকের জন্যে, কোরআন আগামীকালের জন্যে, কোরআন চিরদিনের জন্যে’, ‘কোরআন আমার জন্যে, কোরআন আপনার জন্যে, কোরআন সবার জন্যে’। আমরা বলেছি ‘দুনিয়ায় কোরআন মেনে চলুন, আখেরাতে কোরআন আপনার কাজে লাগবে’, ‘কোরআনকে কখনো আপনার প্রতিপক্ষ বানাবেন না, কেয়ামতে কোরআন যার বিপক্ষে যাবে সে সমূলে বিনাশ হয়ে যাবে।’ আমরা আরো বলেছি, ‘লোকে বলে কোরআন বুঝার সময় এসেছে, আমরা বলি কোরআন বুঝার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে’, হাঁট ঘাট মাঠ আবার শুরু হোক কোরআনের পাঠ’ এবং ‘কোরআন বুঝার এখনি সময়, হ্যাঁ এখুনি সময়।’ চার বছরের মাথায় এসে যখন আমরা কোরআন বুঝার আন্দোলনের কর্মসূচীগুলোর পাশাপাশি কোরআনের সাথে এ জাতির নির্মম তামাশার কথা ভাবি তখন মনে হয় কেউ যেন আমাদের কানে রসূলের যবানীতে কোরআনের এই আয়াতটি তেলাওয়াত করছে- ‘সেদিন আফসোস করে রসূল বলবে- হে আমার মালিক, নিসন্দেহে আমার জাতির লোকেরা এই কোরআনকে একটি পরিত্যাজ্য বিষয় মনে করে নিয়েছে।’ (সূরা আল ফোরকান ৩০) চারদিকের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সবাই যেন আজ শপথ করেছে যে, সমূদয় অবজ্ঞা অবহেলার কেন্দ্রবিন্দুই হবে আল্লাহর এই কিতাবটি। টেলিভিশনে ডিজিট্যাল রেভ্যুলেশনের সুবাদে শ’খানেক’ চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আমাদের ঈমানের বাতাসকে দুষিত করা হচ্ছে। যাবতীয় বিনোদন সংস্কৃতি, নাটক, চলচ্চিত্র ও প্রামান্য অনুষ্ঠান এমনকি শত কণ্ঠে ভেসে আসা ২৪ ঘন্টার খবর বাণিজ্যের লক্ষ্যও একটি। হাজার কোটী টাকার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রেনিক মিডিয়ায় চলছে অনৈতিকতার সর্ববিনাশী এক দুর্বৃত্বায়ন গ্লোবালাইজেশনের সুযোগে চলছে সর্বত্র আজ আল্লাহদ্রোহীতার ব্যাপক নর্তন কুর্দন। এগুলো আজ বিবেকবান মানুষদের ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছে। কোরআনের প্রতি চারদিকের এই সব অবজ্ঞা অবহেলা শুধু উদাসীনতা উন্নাসিকতাই নয়- এ যেন গোটা জনগোষ্ঠীর জাহান্নামের দিকে ধাবমান হওয়ার এক পাশবিক প্রতিযোগীতা। প্রতিযোগীতার এই মঞ্চের দর্শক শ্রোতা পেশাজীবী বুদ্ধিজীবী তথাকথিত সুশীল সমাজ সবাই যেন জেনে বুঝে ধীরে ধীরে ধ্বংসের কাছাকাছি এসে উপনীত হয়েছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ‘তোমরা যখন ধ্বংসের এই অগ্নিকুণ্ডের একান্ত প্রান্তসীমায় এসে দাঁড়িয়েছিলে তখন আমি এই কোরআন দিয়েই তোমাদের ধ্বংসের অতলান্ত খাদ থেকে উদ্ধার করেছি।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩) আমাদের প্রিয় জন্মভূমি চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের ক্ষুদ্র এই ভূখন্ড বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সমূদয় মানব গোষ্ঠীকে আমরা বিনয়ের সাথে এটুকু নিবেদন করবো যে, অশান্ত এই বিয়াবানে আসুন আমরা সবাই মিলে শান্তির কিছু মাইলফলক বসিয়ে যাই, আর কোরআনের এই মাইলফলকগুলো ধরেই আমরা সবাই সম্মুখ পানে এগিয়ে চলবো। এই পথে আমাদের – শেষ মনযিল হচ্ছে জান্নাত। কোরআনের পথ ধরে শাস্তির এমনি কিছু মাইলফলক বসাতে বসাতেই একদিন। শাহাদাতের পরম সৌভাগ্য অর্জন করেছেন আমাদের কালের বিদগ্ধ কোরআনের পন্ডিত সাইয়েদ কুতুব শহীদ। কোরআন সাধনার এই মাইলফলক সমূহের তিনি নাম দিয়েছেন ‘মায়ালেম ফীত তারীক’। সাইয়েদ কুতুব শহীদের আল্লাহপ্রদত্ব বিশাল জ্ঞান সমুদ্রের নির্যাস হচ্ছে বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ তাফসীর ‘ফী যিলালিল কোরআন’। কোরআনের ছায়াতলে কোরআন অনুধাবনের এক নিরস্তর সাধনার নাম ‘তাফসীর ফী যিলালিল কোরআন’। এই মহান তাফসীরের ভূমিকায় তিনি কোরআনের সাথে দুনিয়াবাসীর ঔধত্বপূর্ণ আচরনকে সমূদ্রের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত ধ্বংসের সামনে শিশুদের খেলাধুলার সাথে তুলনা করেছেন। এমনি এক ভয়ংকর অবস্থায় মিল্লাতের জাগ্রত বিবেক আল্লামা ইকবালও সৃষ্টিকূলের মালিক আল্লাহ তায়ালাকে ডেকে বলেছিলেন, ‘হে আমার রব, আজকের খেলতামাশার মধ্যে আগামীকালের যে শংকা ও উৎকণ্ঠা মুসলমানদের দিকে ধেয়ে আসছে- তা দেখার তুমি তাদের তাওফীক দাও। ইহুদীবাদ নিয়ন্ত্রিত বিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি, মিউজিক ও এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাষ্ট্রির এ সর্বগ্রাসী সুনামী দেখে মনে হচ্ছে এই কোরআনটাই যেন এদের এগিয়ে যাওয়ার পথে একমাত্র বাধা। তাই যতো দ্রুত ছলে বলে কৌশলে এরা কোরআনকে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে বিদায় করতে পারবে, ততোই তারা উন্নতির চূড়ান্ত সোপানে পৌঁছতে পারবে। ব্যক্তি সমাজ রাষ্ট্র থেকে কোরআন বিতাড়নের এই ষড়যন্ত্রে আমরা দেশীয়রাও কিন্তু বিদেশীদের চাইতে কম যাইনা। মুসলিম জাতির দেড় হাজার বছরের কোরআনের সাথে পথ চলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা যে মানবীয় প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল এটা মনে হয় তাদের মতো আমরাও কেউ টের করতে পারিনি। কোরআন বুঝার আন্দোলনের কর্মসূচীতে আমরা বলেছিলাম সামগ্রিকভাবে কোরআনই হচ্ছে মানব সন্তানের সর্বশেষ ও নিরাপদ আশ্রয়। কোরআনের অনুসারী এক বিলিয়নের ওপর যাদের সংখ্যা- তাদের জন্যে এ ভূখন্ডে বেঁচে থাকারও এ হচ্ছে একমাত্র অবলম্বন। তাই আসুন আমরা সবাই কোরআনের দিকে ফিরে আসি। হতাশা, ব্যথা, বঞ্চনা ও অস্বস্তির কথা কোরআনের কাছেই বলি এবং পথ চলি কোরআনের প্রদীপ্ত আলোয়। আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের সমগ্র চেষ্টা সাধনার মূল কথাই হচ্ছে, ‘কোরআন পড়ুন, কোরআন বুঝুন, কোরআন দিয়ে জীবন গড়ন’। আল্লাহ তায়ালা জানেন, পুরো একটি যুগে আমরা জেনে বুঝে একদিনের জন্যেও এ পর্থ থেকে বিচ্যুত হইনি। আজ আপনার হাতে ‘কোরআনের সংক্ষিপ্ত আলোচনা’ বিষয়ক যে বইটি আছে তা আমাদের সে কর্মসূচীরই একটি অংশ- যাকে সম্বল করে আমরা ১২ বছর আগে আমাদের যাত্রা শুরু করেছিলাম। ‘কোরআনের সংক্ষিপ্ত আলোচনা’ সাইয়েদ কুতুব শহীদের একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। কোরআনের সূরাগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যায় মনোনিবেশ করার আগে তিনি এর প্রতিটি সূরার জন্যে একটি স্বতন্ত্র মুখবন্দ লিখেছেন। এতে তিনি সূরার মূল প্রতিপাদ্য, ঐতিহাসিক পটভূমিকা ও সূরার সংক্ষিপ্ত কথাগুলো তুলে ধরেছেন- যা কোরআন অনুধাবনের জন্যে একান্ত জরুরী। বিষয়গুলোকে এই প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র একটি পুস্তকে পরিবেশন করতে পেরে আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের শোকর আদায় করছি। কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিবেদিত কর্মীদের হাতে বইটি দিতে পারছি এটাই আজ আমার বড়ো আনন্দ, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার এই ক্ষুদ্র আনন্দকে আখেরাতের বড়ো আনন্দ দিয়ে ভরে দিন- এই দোয়া রেখেই একান্ত বিনয়ের সাথে আমি আপনার হাতে অর্পণ করছি সাইয়েদ কুতুব শহীদের অমর গ্রন্থ ‘কোরআনের সংক্ষিপ্ত আলোচনা’। একদিকে কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত আমাদের মতো দু একটি প্রতিষ্ঠানের সামান্য কিছু কর্মসূচী- অপরদিকে কোরআনের সাথে এ জাতির নিষ্ঠুর তামাশা দেখে প্রিয় পাঠক আমি জানিনা আপনার মনে কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে, ‘আমি কিন্তু আমার যাবতীয় যন্ত্রনা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা অভিযোগ আরশের মালিক আল্লাহ তায়ালার কাছে পেশ করে দিয়েছি।’ (সূরা ইউসুফ ৮৬)
হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ রবিউস সানি ১৪২৮ এপ্রিল ২০০৭ |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৮
সাইজ: ৫.৫ × ৮.৫ ইঞ্চি কভার: হার্ড কভার প্রিন্ট: সাদা কালো কাগজ: ৫৫ গ্রাম অফসেট ওজন: ০.৬ কেজি |
| অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।
ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে) |
| শর্তাবলি:
যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে ফর্মা মিসিং হয় কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয় এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি। |

কোরআনের সংক্ষিপ্ত আলোচনা
৳ 360.00
কোরআনের সংক্ষিপ্ত আলোচনা বইটি হচ্ছে সাইয়েদ কুতুব শহীদের কলম নিসৃত জ্ঞানসমৃদ্ধ আলোচনা। কোরআনের প্রতিটি সূরার তাফসীর লেখার আগে শহীদ মোফাসসের গোটা সূরার একটি সার নির্যাস সূরার শুরুতে পেশ করেছেন। তার এ মূল্যবান আলোচনা একজন কোরআন সাধককে সহজেই কোরআনের জটীল মর্মার্থের কাছে পৌঁছে দেবে। এমনি একটি সুন্দর গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ পেশ করতে পেরে আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করছে।
- Book Author: হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ


![B. Gr-Output [Converted] বিস্ময়করগ্রন্থ আল কোরআন](https://alquranacademypublications.com/wp-content/uploads/2026/02/B.-Gr-Output-Converted-300x400.jpg)


Reviews
There are no reviews yet.