|
আল কোরআন: মোমেনদের শেফা ও রহমত
১৯৬০ সালের কোনো এক সময়ের কথা, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী প্রতিষ্ঠান টুমচর মাদ্রাসার ছাত্র আমি। সন্ধ্যের পর মাদ্রাসার বড়ো হুযুর আমাদের মীযান মুনশা’ব পড়াতেন (এগুলো আরবী গ্রামারের প্রাথমিক বই)। পড়ার শেষে লজিং বাড়িতে পৌঁছুতে মাঝে মাঝে রাত হয়ে যেতো। পথে কিছু বেয়াড়া কুকুর প্রায়ই আমাদের জ্বালাতন করতো। কুকুরের প্রতি আমার ছিলো আবার ভীষণ ভয়। নেহায়াত ভয়ে ভয়েই আলো আঁধারে আমাকে পথ এগুতে হতো। একদিন কথা প্রসংগে বিষয়টি আমি আমার জান্নাতবাসী আব্বা হযরত মাওলানা মানসুর আহমদের খেদমতে আরয করলাম। তিনি আমাকে বললেন, এখন থেকে কুকুর দেখলেই তুমি সূরা আত তারেকের শেষ ৩টি আয়াত পড়বে। যতো বেয়াড়া কুকুরই হোক না কেন দেখবে কোরআনের আয়াতের বরকতে সে তোমার কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমি কোথায়ও বেপরোয়া কুকুর দেখলে কোরআনের এ আয়াতটি পড়ি। বিশ্বাস করুন কোরআনের এ আয়াতটির বরকতে কুকুরের প্রতি সব ভয়ই আমার এখন দূরীভূত হয়ে গেছে। আরেক দিনের ঘটনা, সম্ভবত আরো কয়েক বছর পরের কথা। একবার আমি মাথাব্যথায় বেশ কষ্ট পাচ্ছিলাম। আমার আবার একটু মাথাব্যথা হলেই তখন বমি হতো। এ কষ্টের কথা আমি আমার জান্নাতবাসিনী মার কাছে বললাম। মা আমাকে কোরআনে বর্ণিত সূরা আল বাকারার ২৭০ নং আয়াতটি বার বার পড়ে ডান হাতের আংগুল দিয়ে কপালের দু’দিকে চাপ দিতে বললেন। আলহামদু লিল্লাহ, আজ আমি আমার জান্নাতবাসীনী মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে পারি- আমার সে কষ্টকর মাথাব্যথা এখন পুরোপুরিই ভালো হয়ে গেছে। ১৯৯৫ সালের দিকে তাফসীর ফী যিলালিল কোরআনের পাতায় ব্যবহারের জন্যে আমি যখন ‘কোরআন শরীফ: সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’-এর মহান কাজটি শুরু করি তখন আল্লাহ সোবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাকে মাথাব্যথাজনিত অসুখ বিসুখ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দিয়েছেন। প্রিয় পাঠক, এ দুটো ঘটনা শুনে আপনি কি ভাবছেন, আপনি কি মনে করেন সূরা আত তারেকের শেষ তিনটি আয়াত ও সূরা আল বাকারার ২৭০ নং আয়াতটি কুকুর তাড়ানো ও মানুষের মাথাব্যথা দূর করার জন্যেই নাযিল হয়েছে। অথচ আলোচ্য আয়াতের কোথায়ও কুকুর শব্দটিও উচ্চারিত হয়নি, তেমনি উচ্চারিত হয়নি মাথাব্যথার কোনো আরবী প্রতিশব্দও। আমি জানি আমার মতো আপনিও একথা মনে করেন না যে, এ আয়াতগুলো এজন্যেই নাযিল করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও যে কোরআনের আয়াতগুলো মানুষের জীবনে অবিশ্বাস্য প্রভাব বিস্তার করে তাকে তো আমরা অস্বীকার করতে পারি না। কোরআনে কারীমের সূরা বনী ইসরাঈলের আয়াতটির প্রতি একবার লক্ষ করুন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এখানে বলেছেন- ‘আমি কোরআনে যা কিছু নাযিল করি তা হচ্ছে ঈমানদারদের জন্যে (তাদের রোগের) নিরাময় ও রহমত, কিন্তু এ সত্ত্বেও তা যালেমদের জন্যে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।’ এ থেকে দিনের আলোর মতো কথাটা আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, কোরআনে করীম শুধু মোমেন নরনারীর জন্যে আল্লাহ তায়ালার রহমতই নয়-কোরআনে কারীম তাদের জন্যে যাবতীয় মানসিক ও শারীরিক রোগ নিরাময়ের একটি সুন্দর ব্যবস্থাপত্রও বটে। যাদের কাছে এই মহান কিতাব নাযিল হয়েছে, প্রিয় নবীর সেই সাহাবায়ে কেরামরাও এই কিতাবের কথাগুলোকে ঠিক এভাবেই বুঝেছেন। আল্লাহর রসূলের জীবনের এমন অসংখ্য ঘটনা আছে যে, তিনি রোগব্যাধী নিরাময়ের জন্যে তাঁর পুণ্যবান সাথীদের কোরআনে কারীমের বিশেষ বিশেষ আয়াত পড়তে বলেছেন। অসুখ বিসুখে তিনি তাদের সূরা আল ফাতেহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আল ইখলাস, সূরা আল ফালাক ও সূরা আন নাস পড়তে বলেছেন। এমন সব ঘটনা হাদীসের কিতাবে অগণিত অসংখ্য। কোরআন নাযিলের পর থেকে আমাদের মুসলিম জাতির ইতিহাসের বিস্তৃত পাতা জুড়ে এই প্রাকটিসই সর্বত্র চালু ছিলো যে, মুসলমানদের ঘরে যেদিন নবজাতক আসতো, আবার যখন পরিবারের একটি সদস্য রোগব্যধীতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতো তখন তাদের উভয়ের জন্যে কোরআনই ছিলো অব্যর্থ মহৌষধ। আমার আজো সে স্মৃতি মনে আছে, আমাদের পাশের ঘরে আমারই এক আত্মীয় সারারাত ধরে প্রসব বেদনায় কাঁদছিলেন। ভোরের দিকে আমার আব্বা মরহুম মহিলার স্বামীকে কোরআনে কারীমের সূরা আর রা’দের ৩১ নং আয়াতটি পড়ে তার পেটে হাত রাখতে বললেন, মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত ব্যথা বেদনার অবসান হয়ে গেলো। সুন্দর ফুটফুটে একটি আদম সন্তান দুনিয়ায় এসেই সবাইকে আল্লাহর কিতাবের এই ঔষধী গুণটি দেখিয়ে দিলো। আমি এর আগেও একাধিকবার এ কথাটা বলেছি যে, কোরআন কোনো বিজ্ঞানের গ্রন্থ নয়- কিন্তু কোরআন মানব জীবনের জন্যে বিজ্ঞানের যে সব মৌলিক সূত্র ও তথ্য বর্ণনা করেছে তা চিরন্তন ও স্বাশ্বত। কোরআন কোনো মেডিক্যাল সায়েন্সের বই নয়-কিন্তু কোরআনের পাতায় রোগ ব্যধী নিরাময়ের যে সব নোসখা দেয়া হয়েছে তা অব্যর্থ। এগুলো সবই হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার কথার অবিশ্বাস্য ফলাফল। এটা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব ভাষা। এটা হচ্ছে তাঁর নিজস্ব কথা। তাই মানব জীবনে এর প্রভাব থাকবেই। এই প্রভাবকে অস্বীকার করে আমরা হয়তো একটু আধুনিক সাজতে পারবো ঠিকই; কিন্তু মানব জীবনে কোরআনের শব্দ ও আয়াতের প্রভাবকে কখনো খাটো করতে পারবো না। আমাদের এমনিই কিছু ম্যানিয়া আছে, আমরা সব কিছুকে যুক্তি ও তর্কের পাল্লায় ওযন করে দেখতে চাই, আর এ অর্থহীন যুক্তি তর্কে পড়ে আমরা সেই মৌলিক জিনিসটাই আজ হারাতে বসেছি- যার ওপর মানব সন্তানের সমস্ত সৃষ্টি সভ্যতার ভীত নির্ভর করে, আর তা হচ্ছে মানুষের মানবীয় মূল্যবোধ। আজ সম্ভবত সে জিনিসটারই বড়ো প্রয়োজন। আমরা এই পুস্তকে হাদীসের কিতাব ও অন্যান্য পরীক্ষিত সূত্রে প্রমাণিত কোরআনের এমন সব আয়াতগুলোকে বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করে পেশ করেছি, যেগুলো কোনো না কোনোভাবে মানুষের রোগ নিরাময়ের সাথে জড়িত। এর অর্থ এ নয় যে, আল্লাহর কোরআনের অন্য কোনো আয়াত পড়লে মানুষের কোনো উপকার হবে না, আল্লাহর কিতাবের যে কোনো অংশ আপনার যে কোনো রোগের জন্যেই আপনি পড়তে পারেন। ইনশাআল্লাহ আপনি উপকৃত হবেন। এটা হচ্ছে কোরআনের এমন একটি মোজেযা যা মুসলমানদের নিত্যসংগী। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফীক দিন- যাতে করে আমরা কোরআনকে কোরআনের মতো করেই বুঝতে পারি এবং এই মহান গ্রন্থের ছত্রে ছত্রে নিজেদের জন্যে আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ তালাশ করার পাশাপাশি আমাদের মানসিক ও শারীরিক রোগ শোকেরও ব্যবস্থাপত্র খুঁজে নিতে পারি।
সবার সুস্বাস্থ্য কামনায়- হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
সাইজ: ৫.৫ × ৮.৫ ইঞ্চি কভার: হার্ড কভার প্রিন্ট: সাদা কালো কাগজ: ৫৫ গ্রাম অফসেট ওজন: ০.২ কেজি |
| অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।
ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে) |
| শর্তাবলি:
যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে ফর্মা মিসিং হয় কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয় এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি। |
![Shefa O Rahmat [Converted] আল কোরআন: মোমেনদের শেফা ও রহমত](https://alquranacademypublications.com/wp-content/uploads/2026/02/Shefa-O-Rahmat-Converted-600x968.jpg)
আল কোরআন: মোমেনদের শেফা ও রহমত
৳ 50.00
আল্লাহ তায়ালার এই শেষ কিতাবটি মানবসন্তানের জন্যে যেমনি তার অপরিসীম দয়া ও অনুগ্রহ- তেমনি এই কিতাব হচ্ছে মোমেনের যাবতীয় শারীরিক ও মানসিক ব্যাধীর অব্যর্থ নিরাময়। উৎসাহী পাঠকদের সুবিধার্থে কোরআনের এ আয়াতগুলোকে তার সহজ সরল বাংলা অনুবাদের সাথে এই গ্রন্থে আমরা একত্রে পেশ করেছি। সুন্দর কভার ও পরিচ্ছন্ন ছাপা।
- Book Author: হাফেজ মুনীর উদ্দীন আহমদ





Reviews
There are no reviews yet.