| স্বর্ণযুগে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ
▲ সহীহ বোখারী শরীফের একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামদের উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘তোমরা আরব উপদ্বীপে লড়াই করবে, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের বিজয় দেবেন। তোমরা পার্শিয়ানদের সাথে যুদ্ধ করবে, তাদের ওপর তোমরা বিজয়ী হবে। অতপর তোমরা রোমানদের সাথে যুদ্ধ করবে, সেখানেও তোমরা বিজয় লাভ করবে।’
ইতিহাস সাক্ষী, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই প্রিয় নবীর এই ভবিষ্যদ্বানী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
মোসনাদে আহমদ হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত আরেকটি হাদীসে রসূল (স.) বলেছেন, একদিন সে যামানা আসবে যখন দুনিয়ার জাতিসমূহ তোমাদের ওপর আক্রমণ করার জন্যে একজন আরেকজনকে এমনভাবে ডাকবে, (এবং তারাও এমনভাবে আসবে) যেমন খাবার গ্রহণকারী ব্যক্তি খাবারের টেবিলে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, সে সময় আমরা মুসলমানরা কি সংখ্যায় কম হয়ে যাবো? তিনি বললেন, না তোমরা তখন সংখ্যায় থাকবে অনেক বেশী, কিন্তু তোমাদের অবস্থা হবে বন্যার পানির উপরিভাগে ভেসে উঠে ঘাস, পাতা ও আবর্জনার স্তূপের ন্যায়। আল্লাহ তায়ালা দুশমনদের মন থেকে তোমাদের ভীতি দূরীভূত করে দেবেন এবং তোমাদের মনে তিনি দুর্বলতা ঢেলে দেবেন। একজন সাহাবী জানতে চাইলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ। কী কারণে সেই দুর্বলতা সৃষ্টি হবে? তিনি বললেন, সে দুর্বলতা হবে দুনিয়ার প্রতি মোহ ও মৃত্যুর ভয়।
এই হাদীস দুটোর মাধ্যমে প্রিয় নবী মুসলিম জাতির সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটো অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। একটি হচ্ছে বিজয়ের হাতছানি, আরেকটি হচ্ছে পতনের পূর্বাভাষ। প্রথম হাদীসটি ছিলো এমন এক সময়ের বর্ণনা, যখন মুসলমানরা পৃথিবীর কোথায়ও এতোটুকু আশ্রয় নেয়ার জন্যে একটুখানি যমীন খুঁজে পাচ্ছিলো না। হতেগোনা মুসলমানদের একটি ক্ষুদ্র জামায়াত। তাদের অস্তিত্বই যেখানে সংকটাপন্ন, সেখানে প্রিয়নবী তাদের রোম ও ইরানের শাহী তখত বিজয়ের সুসংবাদ দিচ্ছেন। আরেকটি বর্ণনা হচ্ছে এমন এক সময়ের যখন মুসলিম সেনারা রোম ও ইরানীদের সিংহাসনে আঘাত হানার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছিলো। চারদিকে যখন বিজয়ের ডংকা, ঠিক তখন প্রিয় নবী মুসলমানদের পতনের এই পূর্বাভাষ দিচ্ছেন।
▲ রসূলে আকরাম (স.) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামলের পর প্রায় সাত শ’ বছর ধরে মুসলমানরা বলতে গেলে দোর্দন্ড প্রতাপ নিয়ে বিশ্বের এক বিরাট অংশ শাসন করেছে। এশিয়া, আফ্রিকা মহাদেশের এক বিশাল ভূখন্ডের সাথে মুসলিম জাহানের ভৌগোলিক মানচিত্রের সাথে সংযুক্ত হলো স্পেন, পর্তুগাল, দক্ষিণ ফ্রান্স, সাইপ্রাস, সিসিলি, পূর্ব ইউরোপের যুগোশ্লাভিয়া, আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, সমগ্র বলকানসহ ইউরোপের একটি বিরাট ভূখন্ড। ধীরে ধীরে সেন্ট্রাল এশিয়া ও ককেসাস অঞ্চলের ছোটো বড়ো আরো অনেকগুলো রাষ্ট্র, তাতার ও মোংগলদের হাজার হাজার মাইল এলাকাও মুসলিম ভূখন্ডের অন্তর্ভুক্ত হলো। এই বিশাল ভূখন্ডে প্রায় সাত শ’ বছর ধরে যে সভ্যতার একচ্ছত্র শাসন বিদ্যমান ছিলো, তাদের একটি সমৃদ্ধ অতীত থাকবে এটা তো স্বাভাবিক। ইতিহাসের এই স্বভাবিকতার গতি প্রকৃতির সাথে এই বিশাল ভূখন্ডের অধিবাসীদের শত শত বছরের সাহিত্য সংস্কৃতি, কৃষ্টি কালচার, রাজনীতি অর্থনীতি, জ্ঞান বিজ্ঞানের সব কয়টি শাখা উন্নতির শীর্ষদেশে পৌছুবে-এটাও একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এই অঞ্চলের শত শত কোটী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জীবন্ত উপাখ্যান নিয়ে বিগত শতকগুলোতে কম বই পুস্তক তৈরী হয়নি। আরবে আজমে প্রাচ্য পাশ্চাতে এ পর্যায়ে যতো বই পুস্তক তৈরী হয়েছে তাও একটি স্বতন্ত্র গবেষণার বিষয়।
সবার আগে মুসলমানদের একথাটা বুঝতে হবে যে, আরেকবার তাদের দুনিয়ার নেতৃত্ব দিতে হলে সবার আগে জ্ঞানবিজ্ঞানের ময়দানে তাদের পশ্চাৎমূখী মানসিকতা ও পাশ্চাত্যের মানসিক গোলামীর শেকল সজোরে ছিড়ে ফেলতে হবে। মুসলমানরা আজ যেভাবে তথাকথিত পশ্চিমী সভ্যতা সংস্কৃতির সামনে মাথা নত করে রাতদিন শুধু ‘ইনপিউরিটি কমপ্লেক্সে’ ভুগছে, তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যেও তাদের সদর্পে এ জ্ঞানের ভূমন্ডলে এসে দাঁড়াতে হবে। শাসন ও বিচারের দন্ড হাতে নেয়ার আগে জ্ঞানের দন্ড শক্ত করে ধরতে না পারলে রাজনীতি অর্থনীতি উভয়টাই একদিন তাদের হাত থেকে ফসকে যাবে।
আমাদের স্বার্থক পূর্বসূরীরা এই মৌলিক সত্যটুকু ঠিকমতোই উপলব্ধি করেছিলেন, উপলব্ধি করেছিলেন বলেই আব্বাসীয় খলীফা মামুনুর রশীদ বিদেশী ভাষা থেকে জ্ঞান বিজ্ঞানের কোনো বই যদি কেউ আরবীতে অনুবাদ করে দিতেন তার হাতে তিনি পান্ডুলিপির ওযনে স্বর্ণমুদ্রা তুলে দিতেন। আমাদের ইতিহাসে এ ধরনের মামুনুর রশীদ কিন্তু একজনই ছিলেন না- ছিলেন অসংখ্য।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মুসলমানরা জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতি এই প্রেরণা কোথায় পেলো?
▲ ইসলামের ইতিহাসের প্রথম আবাসিক শিক্ষা কেন্দ্র ছিলো মদীনায় রসূলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জামেয়া আসহাবে সুফফা। এখানে শিক্ষার্থীরা সব ধরনের বিষয়েই শিক্ষা অর্জন করতো। ঐতিহাসিকরা লিখেছেন, এই আবাসিক শিক্ষা কেন্দ্রে একদিনের রেজিস্ট্রারেই চারশ’র বেশী ছাত্রদের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে। এদের জন্যে রসূলের পক্ষ থেকে রীতিমতো শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা ছিলো। হযরত উবাদা বিন সামেত (রা.) বলেছেন, রসূল (স.) আমাকে আদেশ দিয়েছেন, তুমি আসহাবে সুফফার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাদের লেখা শেখাও, কোরআন শেখাও। যারা এই আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার সুযোগ পেতো না তাদের বলা হয়েছে তারা যেন প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করে। একমাত্র মদীনা শহরেই জামেয়া সুফফার মতো আরো ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিলো। রসূল (স.) স্বয়ং সেগুলোর তত্ত্বাবধান করতেন।
এ সময়ের একটি চিত্তাকর্ষক ঘটনা বর্ণনা করেছেন সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রা.)।
একদিন রসূল (স.) মাসজিদে নববীতে তশরীফ আনলেন, দেখলেন সেখানে দু’ধরনের লোক বসে আছে। কিছু লোক সেখানে নফল নামাযসহ অন্যান্য এবাদাতে মশগুল আছে। আরেক দল লোক সেখানে ফেকার মাসয়ালা মাসায়েল শেখার কাজে ব্যাপৃত রয়েছে। তিনি বললেন, এদের উভয় দলই ভালো কাজ করছে। অবশ্য এদের একদলের কাজ একটু বেশী ভালো। এরপর তিনি বললেন, যারা আল্লাহর কাছে নফল নামাযের মাধ্যমে কিছু চাচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার মর্জি হলে তিনি তাদের কিছু দেবেন, মর্জি না হলে দেবেন না। হ্যাঁ, আর দ্বিতীয় দলটি। এরা নিজেরাও জ্ঞান অর্জন করছে এবং অন্যদেরও অজ্ঞতা অজ্ঞানতা দূর করছে। সত্যকথা হচ্ছে আমি নিজেও একজন শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। একথা বলতে বলতে তিনি জ্ঞানের মজলিসে গিয়েই বসলেন।
▲ সভ্যতাসমূহের বিগত দেড় হাজার বছরের ইতিহাসকে কয়েক মিনিটের মধ্যে সংকুচিত করে আপনি সামনে একবার ধরুন। মুসলমানরা যখন ষষ্ঠ শতকে সভ্যতার সিঁড়িতে পা রাখলো, তখন তারা রোমান ও ইরানী সভ্যতাকে তাদের শীর্ষদেশে দেখতে পেলো। মাত্র এক দেড়শ’ বছরের মধ্যেই সভ্যতার ব্যালেন্স বদলে গেলো। জ্ঞান বিজ্ঞানের এক বিরাট অংশ যখন তাদের আয়ত্বে এসে গেলো, তখন ধীরে ধীরে দুনিয়ার রাজনীতি অর্থনীতির সব চাবিকাঠিই বলতে গেলে মুসলমানদের হাতে চলে এলো। আবার এই মুসলমানরাই যখন আরাম আয়েশ আর বিলাসিতায় জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অবহেলা প্রদর্শন করলো, তখন শুরু হলো জ্ঞান বিজ্ঞানেরও হাত বদলের পালা। প্রাচ্যের বিজ্ঞান আবার পাশ্চাত্যে চলে গেলো। এ সময় মুসলমানরা নিষ্ঠুরভাবে শুধু স্পেন ও ইউরোপ থেকেই বিতাড়িত হলো না- তাদের কেন্দ্রীয় খেলাফত ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো। প্রায় ৮০ ভাগ মুসলিম ভূখন্ড জ্ঞান বিজ্ঞানের নতুন অধিকারী এই পাশ্চাত্যের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ গোলামীর শেকলে বন্দী হয়ে গেলো।
দীর্ঘ কয়েকশ বছর মানসিক ও রাজনৈতিক গোলামীর জীবন কাটানোর পর মুসলিম জনপদসমূহে এখন মনে হয় পুনরায় জাগরণের ঢেউ উঠেছ। এই ঢেউর ফলে সাগরে একদিন প্রচণ্ড জোয়ার আসবে। সে জোয়ারে এদের যাবতীয় পশ্চাৎমুখীতা ভেসে যাবে। জ্ঞানের সাগরে নতুন নতুন চর গজাবে। আবার সেখানে জ্ঞান বিজ্ঞানের মেলা বসবে- দেশে দেশে কোটী কোটী মুসলিম প্রজন্মের সাথে আমরাও পালা বদলের সে দিনটার অপেক্ষা করবো। কিন্তু এই অপেক্ষার সময় যে কতো তা কেউই বলতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে নব প্রজন্মের যোগ্যতা ও নিষ্ঠা- সর্বোপরি আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহের ওপর। আমরা যতোক্ষণ পর্যন্ত তার যমীন আবাদ করার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারবো ততোক্ষণ তিনি খামাখা আমাদের হাতে এই দুনিয়ার নেতৃত্ব তুলে দিতে যাবেন কেন? তেমন কিছু করলে এ যমীনের গোটা ব্যবস্থাপনাই তো একদিন তছনছ হয়ে যাবে। পরে আবাদ করার মতো কোনো যমীনই আর এখানে অবশিষ্ট থাকবে না।
▲ ছেলের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুবাদে কয়েক বছর আগে ‘প্যারেন্টস ডে’-তে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নিমন্ত্রণে আমাদের স্বামী-স্ত্রী দু’জনের ওখানে যাবার সুযোগ হয়েছিলো। কর্তৃপক্ষ ইউনিভার্সিটির ল’ ফ্যাকান্টীর বিখ্যাত কলেজ ট্রিনিটিতে তাদের। পুরনো লাইব্রেরী আমাদের দেখানোর ব্যবস্থা করেন। পুরনো বইর সংগ্রহশালায় ১১শ। খৃস্টাব্দের কিছু বইও আমরা দেখতে পেলাম। এতো যত্ন করে বইগুলো রাখা হয়েছে যে। আরো এক হাজার বছর পরও মনে হয় বইগুলো অক্ষতই থাকবে। পুরনো গ্রন্থের রাশি রাশি ভান্ডার দেখতে দেখতে আমি কিছুক্ষণের জন্যে ইতিহাসের এক ভিন্ন ট্রাজেডীতে হারিয়ে গেলাম। জ্ঞান বিজ্ঞানের এই পাশ্চাত্য তসকররাই বাগদাদে আমাদের ২০ লাখ বই পানিতে ফেলে দিয়ে অনেক দিন পর্যন্ত দজলা নদীর পানিকে কালো করে রেখেছিলো। স্পেনে ১৫ লাখ দুর্লভ বই পুস্তক আগুনে পুড়িয়ে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত কর্ডোভার আকাশকে ধুয়ায় আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো। বিশ্বব্যাপী জ্ঞানের নিলাম করে নিজের পসরা সাজিয়েছে এরা, আর আমরা তাই পড়ে ধন্য হই। থরে থরে সাজানো তাদের অবদান দেখে নিজেরা হিনমন্যতায় ভূগি।
আজ সময় এসেছে তাদের নদীতে ভাসিয়ে দেয়া ২০ লাখ বইর পানি মেশানো কালি ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়া ১৫ লাখ বইর ছাই ভস্ম থেকে হারানো দিনের জ্ঞান বিজ্ঞানকে উদ্ধার করে সম্মুখপানে এগিয়ে চলার। দুনিয়াকে আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে হবে আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞান নদীর পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে কিংবা আগুনে পুড়িয়ে দিয়েই শেষ করা যাবে না। তাছাড়া বই পুড়িয়ে কোনো জাতির জ্ঞান বিজ্ঞানের নেশা যে দমন করা যায় না সে কথাটাও তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে।
▲ আমাদের বর্তমান পুস্তকটির রচয়িতা হচ্ছেন আরব জগতের খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ ডঃ মোস্তফা হাসান আস সাবায়ী। বিদগ্ধ ইসলামী চিন্তাবিদ, সুসাহিত্যিক ডঃ সাবায়ী দীর্ঘদিন পর্যন্ত আরবজগতের বিখ্যাত ইসলামী আন্দোলন ‘ইখওয়ানুল মোসলেমুন’-এর সিরিয়া অঞ্চলের সেক্রেটারী জেনারেল ছিলেন। আরব জাতীয়তাবাদ ও সমাজবাদের কারখানায় উৎপাদিত বার্থ পার্টির ক্ষমতা দখলের আগে তিনি সিরীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি সিরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন। শিক্ষাবিদ ডঃ সাবায়ী অনেক দিন পর্যন্ত সিরীয় ইউনিভার্সিটির প্রধান হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
ডঃ সাবায়ী আরব দুনিয়ার সে কয়জন ইসলামী পন্ডিতদের একজন- যারা জ্ঞানে বিজ্ঞানে পশ্চাদপদ একটি জাতিকে উন্নতির সে সোপান দেখিয়েছেন সেখানে দাঁড়িয়ে একদিন মুসলমানরা দুনিয়ার মানুষের ফিজিক্স, ক্যামিস্ত্রী, বায়োক্যামিস্ত্রী, জুলোজী, জিউলোজী, বোটানী, ফার্মাসী, মেডিসিন, লিটারেচার ও এস্ট্রোনমীর শিক্ষা দিয়েছে।
ডঃ সাবায়ী আমাদের ইতিহাস থেকে সেসব উপাদানগুলো খুঁজে খুঁজে এক জায়গায় জড়ো করেছেন, যেগুলোর ভিত্তিতে আমরা ভবিষ্যতে আবারো এই সভ্যতার ভিত দাঁড় করাতে পারবো। নতুন প্রজন্মের হাতে ইতিহাসের উৎকৃষ্ট উপাদানগুলো তুলে দেয়ার এ কাজটি তিনি করেছেন আজ থেকে কয়েক দশক আগে। এ কয়েক দশকে পৃথিবীর অবস্থা অনেক বদলে গেছে। কিছু কিছু উদ্ধৃতি আপনার কাছে একটু পুরনো মনে হতে পারে, কিন্তু বৃহত্তর পরিমন্ডলে ইতিহাসের ঘটনাগুলো পড়লে মনে হবে এগুলো যেন আমাদের সামনেই ঘটেছে। আসলে বর্ণনার নিপুণতাই বইটিকে এই অপূর্ব সৌন্দর্য ও অভূতপূর্ব গ্রহণযোগ্যতা দান করেছে।
▲ এমনি একখানা সুন্দর বইর বাংলা অনুবাদ পাঠকদের হাতে তুলে দিতে পেরে আমি ভীষণ তৃপ্তিবোধ করছি। আজ থেকে প্রায় ৪ দশক আগে আমি প্রথম এই বইটির মূল কপি দেখি সেদিনই আমার মনে বইটি অনুবাদের আগ্রহ জাগে। মাত্র ৪ দশক দেরীতে হলেও বইটা পাঠকদের দিতে পারছি এটাই বড়ো কথা। বিশিষ্ট অনুবাদক মাওলানা এ বি এম কামাল উদ্দীন শামীম বইটার জন্যে অনেক পরিশ্রম করেছেন। তিনি এবং তার সাথে আরো যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।
বইটির ভূমিকা একটু বড়োই হয়ে গেলো। মূল বইটির দিকে যাবার আগে মনে হয় এ কয়টা কথা আমাদের কাজে লাগবে।
বিনীত
হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ লন্ডন শাবান ১৪২৭ হিজরী আগস্ট ২০০৬ ইংরেজী |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৪
সাইজ: ৫.৫ × ৮. ৫ ইঞ্চি কভার: হার্ড কভার প্রিন্ট: সাদা কালো কাগজ: ৫৫ গ্রাম অফসেট ওজন: ০.৩ কেজি |
| অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।
ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে) |
| শর্তাবলি:
যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে ফর্মা মিসিং হয় কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয় এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি। |

স্বর্ণযুগে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ
৳ 100.00
আজ সারা দুনিয়ায় মুসলমানদের দিকে তাকালে সংগত কারণেই আমরা অনেকেই নিরাশ হই। ধ্বংসের অন্ধকার থেকে উদ্ধার পাওয়ার লক্ষ্যে বর্তমানের আলোকে আগামী দিনের কর্মসূচী তৈরী করার জন্যে আমাদের অতীতের দিকে তাকাতেই হবে। এমনি এক সোনালী অতীতের নকশা এঁকেছেন বর্তমান শতাব্দীর একজন বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ সিরিয়ার প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মোস্তফা আস সাবায়ী।
- Book Author: হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ





Reviews
There are no reviews yet.