| মুসলিম ইতিহাসের গৌরবগাথা
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা কোরআনে হাকীমে সূরা আলে ইমরানে মানবজাতির উত্থান পতন সম্পর্কে একটি মৌলিক কথা বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- ‘এভাবেই আমি মানুষদের মাঝে (তাদের উত্থান পতনের) দিনগুলোকে পালাক্রমে অদল বদল করাই।’ (আয়াত ১৪০)
সহীহ বোখারী শরীফে বর্ণিত একটি হাদীসে বলা হয়েছে, রসূল (স.) বলেছেন, যখন কিসরা মারা যাবে তার জায়গায় দ্বিতীয় কোনো কিসরা পয়দা হবে না। যখন কায়সার মারা যাবে তার জায়গায় দ্বিতীয় কায়সার পয়দা হবে না। প্রিয় নবী এ কথাটা বলেছিলেন এমন এক সময় যখন কায়সার ও কিসরার ইরানী ও রোমান সভ্যতা উন্নতির শীর্ষদেশে অবস্থান করছিলো। পৃথিবীর একটি প্রাণীও তখন এটা বিশ্বাস করতে পারছিলো না যে, আসলেই একদিন এমন কিছু ঘটবে। কিন্তু ইতিহাস দেখতে পেলো, সত্যিই মুসলমানদের হাতে কায়সার কিসরার সাম্রাজ্য রাজপ্রাসাদ ও বিপুল ঐশ্যর্য খান খান হয়ে গেলো। প্রিয়নবীর কথাই যথার্থ প্রমাণিত হলো, ইরানে অগ্নীপূজক বাদশার পরাজয়ের পর আজ পর্যন্ত আর কোনো অগ্নীপূজক বাদশাহ সে সিংহাসনে আরোহণ করেনি। রোমে সেই রোমান বাদশাহর পরাজয়ের পর সেখানেও আজ পর্যন্ত কোনো রোমান বাদশাহ ক্ষমতার আসনে বসতে পারেনি। চড়াতে চান
কোরআনে কারীমের এই আয়াতটির আলোকে আমরা চাইলে এই মানব জাতির উত্থান পতনের কিছু খন্ড চিত্র সহজেই দেখে নিতে পারি। রোমান ও ইরানী সভ্যতা যখন তবুক, কাদেসীয়া ও ইয়ারমুকে একে একে মুসলিম বাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত হচ্ছিলো, তখন কি কেউ ভাবতে পেরেছিলো যে, মাত্র কয়েকশ’ বছরের ব্যবধানে দুর্ধর্ষ তাতার ও ইউরোপীয় ক্রুসেডারদের হাতে বাগদাদ ও বায়তুল মাকদেসের নির্মম পতন ঘটবে!
জেরুজালেমের সেই বর্বর হত্যাযজ্ঞের কিছুকালের ব্যবধানেই সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর হাতে বায়তুল মাকদেস পুনরায় মুক্ত হলো- আজ আবার কয়েকশ বছর পর ঈসা ও মূসা নবীর স্মৃতি বিজড়িত সেই পবিত্র নগরী মুক্তির জন্যে আর্তনাদ করছে। ফিনকি দিয়ে মানুষের রক্ত ঝরছে সেখানে প্রতিদিন। আরেক সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর অপেক্ষায় মৃত্যুর সাথে লড়ছে সেখানকার লক্ষ লক্ষ অসহায় নারী ও শিশু।
বর্তমান পুস্তকটি উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন পাকিস্তানের সাবেক মুফতিয়ে আযম হযরত মওলানা মোহাম্মদ শফি (র.)-এর এক অবিস্মরণীয় সংগ্রহ। বইর শুরুতে তিনি এই বইটির ঐতিহাসিক পটভূমিকা স্ববিস্তারে বর্ণনা করেছেন, তার কথাগুলো তার কলমেই ভালো মানায় বলে আমি আর সেদিকে যাবো না। বইটির মূল পান্ডুলিপি দেখে আমি আমার নিজের প্রতিক্রিয়াটুকুই শুধু আপনাদের কাছে ব্যক্ত করতে পারি।
অতীতের গৌরবগাথা প্রত্যেকটি জাতির জীবনেই জ্ঞানের একটি মূল্যবান উপাদান। হিসেবে স্বীকৃত। জাতি হিসেবে আগামী কালের পৃথিবীতে কিছু অবদান রাখতে চাইলে। স্বাভাবিকভাবেই তার অতীতের প্রসংগ আসবে। কোনো জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যত গড়ায় অবশ্যই সে সম্প্রদায়ের ওপর আস্থা রাখা যাবে, যাদের শত শত বছর ধরে দুনিয়ার মানুষের সভ্যতা সংস্কৃতি নির্মাণের ঐতিহ্য রয়েছে। সেদিক থেকে বিচার করতে গেলে মুসলমানদের চাইতে সমৃদ্ধশালী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক দ্বিতীয়। কোনো জাতি এই ভূখন্ডে জন্মগ্রহণ করেনি। আমরা মুসলমানরাই দিনের বেলায় যুদ্ধ। করে রাতের আঁধারে শত্রুপক্ষের সেনাপতিকে ডাক্তার সেজে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে। দিয়েছি। আমরা মুসলমানরাই ফোরাত নদীর পাড়ে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি কুকুর ছানাকেও তার প্রাপ্য সেবা দিয়েছি। সমস্ত রাজক্ষমতা হাতে থাকা সত্ত্বেও মসজিদের জন্যে নেয়া একখন্ড যমীন একজন গরীব মহিলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরাই তাকে ফেরৎ দিয়েছি। মানবতার কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও উৎকর্ষের জন্যে আমাদের তুলনা আমরাই। মানব সন্তানের সমগ্র ইতিহাসে এ পর্যায়ে আমাদের কোনো প্রতিপক্ষ নেই। আমরাই এখানে আমাদের পক্ষ।
এ বইটির পাতায় পাতায় যেমন আমাদের ইতিহাসের শীর্ষস্থানীয় আলেম, ওলামা মাশায়েখ ও ফেকাহবিদদের বীরত্ব ও সাহসিকতার শত শত উদাহরণ ছড়িয়ে আছে, তেমনি আছে দ্বীনবিমূখ কতিপয় বিলাসী খলিফা, আমীরুল মোমেনীন, সুলতান ও রাজা বাদশাহদের কলংকজনক কাহিনী।
এসব মর্দে মোজাহেদরা দুনিয়ার শাসকদের অমানুষিক অত্যাচার ও নির্যাতনের সামনেও ‘অত্যাচারী শাসকদের সামনে হক কথা বলা সর্বোত্তম জেহাদ’- প্রিয় নবীর এই বিখ্যাত হাদীসের যথার্থ হক আদায় করেছেন। আল্লাহ তায়ালা জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ আসনগুলো তাদের জন্যে বরাদ্দ করুন।
সর্বজন স্বীকৃত আলেম, মোফাসসেরে কোরআন ও মুফতি মোহাম্মদ শফি (র.) তার কিছু স্মৃতিকথা, কিছু তার ইতিহাসতত্ত্ব নিয়ে যে বইটি তৈরী করেছেন তা সত্যিই অপূর্ব। ঘটনা ও বর্ণনা বিন্যাস একে চমকপ্রদ একটি সুখপাঠ্য গ্রন্থে পরিণত করেছে।
আল কোরআন একাডেমী লন্ডন কোরআন গবেষণাধর্মী ও সৃজনশীল পুস্তকের পাশাপাশি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সিরিজটি কেন প্রকাশ করতে যাচ্ছে, একবার বইটি পাঠ করলে আশাকরি পাঠক তা সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন।
বছর খানেক আগে বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক হাফেজ আবু নায়ীম যখন আমাকে এই বইগুলোর কথা বললেন, তখন এগুলোর প্রকাশনা নিয়ে আমি নিজেই কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলাম। পরে যখন সাহস করে একবার বইগুলো নিজে পড়লাম, তখন বুঝতে পারলাম- এ বইগুলো মনে হয় আমাদের আরো আগে বের করা উচিৎ ছিলো। বিলম্বে প্রকাশের দুঃখ থাকলেও বইগুলো হাতে পাওয়ার পর আমার অনাবিল স্বস্থির সাথে আমি আপনাকে শরিক করতে পারছি এটাই আমার বড়ো আনন্দ।
বিনীত হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ লন্ডন |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৩
সাইজ: ৫.৫ × ৮. ৫ ইঞ্চি কভার: হার্ড কভার প্রিন্ট: সাদা কালো কাগজ: ৫৫ গ্রাম অফসেট ওজন: ০.৪ কেজি |
| অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।
ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে) |
| শর্তাবলি:
যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে ফর্মা মিসিং হয় কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয় এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি। |

মুসলিম ইতিহাসের গৌরবগাঁথা
৳ 120.00
মুসলমানদের গৌরবময় একটি ইতিহাস যে আছে এটা কে না জানে। কোনো জাতির ভবিষ্যত নির্মাণে তার অতীত গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে বলে সবাই তার অতীত নিয়ে গর্ব করে। বর্তমান শতাব্দীর শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন মুফতি মোহাম্মদ শফি (র.) ইতিহাসের সমৃদ্ধ অতীত সিঞ্চন করে আমাদের সে সোনাঝরা দিনগুলোর কাহিনীই শুনিয়েছেন।
- Book Author: হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ





Reviews
There are no reviews yet.