তেলাওয়াতের কোরআন শরীফ (কোলকাতা হরফে বড় অক্ষরে সুন্দর ও স্পষ্ট প্রিন্ট)

Original price was: ৳ 500.00.Current price is: ৳ 400.00.

একজন মুসলমানরে জন্যে সহীহ শুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে তার সর্বোত্তম এবাদাত, আর এ উত্তম এবাদাতরে জন্যে প্রয়োজন আধুনকি প্রযুক্তির স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ কোরআন মাজীদের প্রকাশনা ও পরবিশেনা। এ মহান উদ্দশ্যেকে সামনে রেখেই আমরা আপনার জন্যে কোরআনের এই মোবারক তোহফাটি পেশ করছি। এই কোরআনে আমরা জনসাধারণের সহজবোধ্য সুন্দর কলকাতা ফন্ট ব্যবহার করেছি। ঝকঝকে, স্পষ্ট ও নিখুঁত ছাপা। দৃষ্টিনন্দন কভার।

তেলাওয়াতের  কোরআন শরীফ

কোরআন তেলাওয়াত করার কথাটি স্বয়ং আল্লাহ সোবহানাহু ওয়া তায়ালাই আমাদের বলেছেন। কোরআনের একাধিক আয়াতে এই বিষয়টিকে মানবজাতির কাছে রসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য হিসেবেও তিনি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার এই ঘোষণার কারণেই যাদের সামনে কোরআন নাযিল করা হয়েছে তারা কোরআনের তেলাওয়াত করাকে তাদের দৈনন্দিন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছিলেন। আল্লাহর রসূল নিজেও একান্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁর ওপর নাযিল করা কিতাব তেলাওয়াত করতেন। শেষ রাতে প্রায়ই তিনি প্রথম রাকায়াতে সূরা আল বাকারা ও দ্বিতীয় রাকায়াতে সূরা আলে ইমরান তেলাওয়াত করতেন। দীর্ঘ তেলাওয়াতের কারণে প্রায়ই দেখা যেতো তাঁর কদম মোবারক ফুলে গেছে। কোরআনের নুযুল শেষ হয়ে এলে তিনি প্রতিদিনই কোরআনের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ তেলাওয়াত করতেন। ৭ দিনে কোরআনের যে অংশগুলো তিনি তেলাওয়াত করতেন তাই পরবর্তী সময়ে ‘মনযিল’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। নিজে কোরআনের বাহক হওয়া সত্ত্বেও তিনি সুকণ্ঠের অধিকারী সাহাবীদের পাশে বসিয়ে তাদের মুখ থেকে কোরআনের তেলাওয়াত শুনতেন, এ সময় প্রায়ই তাঁর চোখ থেকে অঝোরে অশ্রুধারা নামতো। যাদের চোখের সামনে হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের ওপর কোরআন নাযিল হয়েছিলো তারাও দিবানিশি এই কোরআনের তেলাওয়াত করতেন। এদের তেলাওয়াত নিয়ে শত শত ঘটনা আমাদের ইতিহাসে স্বর্ণের অক্ষরে লেখা আছে।

ইমাম আবু আবদুর রহমান সুলামী ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ কোরআন সাধক। তিনি ছিলেন একজন উঁচু পর্যায়ের তাবেয়ী। জীবনের ৪০টি বছর তিনি কুফার জামে মাসজিদে সবাইকে কোরআন শিখিয়ে কাটিয়েছেন। সাধারণ মানুষদের তিনি কোরআনের তেলাওয়াত, হেফয ও তাজওয়ীদ পড়াতেন। ভক্তরা তার কাছে এ দীর্ঘ সময় ধরে কোরআন শেখানোর কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) আমাকে রসূলের এই হাদীসটি শুনিয়েছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম ব্যক্তি যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ সত্য কথা হচ্ছে প্রিয় নবীর এই হাদীসটিই ৪০ বছর আমাকে এখানে বসিয়ে রেখেছে।

ষষ্ঠ শতকের মোজাদ্দেদ ইমাম ইবনে তাইমিয়া জীবনের শেষ সময়গুলোতে যালেম তাতারী শাসকের অত্যাচারে যখন জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিজের মালিকের দিদারের অপেক্ষা করছিলেন তখন এই কোরআন তেলাওয়াতই ছিলো তার একমাত্র সাথী। এটাই তাকে মৃত্যুর সামনে জীবনের প্রেরণা যুগিয়েছে। অতপর ৭৯ বার কোরআন খতম করার পর তিনি চিরদিনের জন্যে নিজের মালিকের দরবারে চলে গেলেন।

কোরআনে তেলাওয়াতের এই মহামর্যাদার কারণেই প্রিয় নবী বলেছেন, কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে আমার দস্তরখান, তোমরা কখনো একে বিনষ্ট করো না। তিনি আরো বলেছেন, যে হৃদয়ে কোরআন নেই তা একটি বিরান ঘরের মতো। কোরআনের অনুসারীরা যেন নিজ নিজ হৃদয়কে বিরান ঘর না বানায় সে জন্যেই আল্লাহর নবী বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর তেলাওয়াত করবে তার জন্যে ১০ নেকী লেখা হবে। এই আক্ষরিক হিসেবের ব্যাখ্যাটা তিনি এভাবে দিয়েছেন যে, কেউ যদি ‘আল্লাহ’ শব্দটি তেলাওয়াত করে তাহলে তাঁর আমল নামায় লেখা হবে ৪০টি নেকী, ‘আলিফ’ অক্ষরের জন্যে ১০, দুইটি ‘লাম’ অক্ষরের জন্যে ২০, সর্বশেষে রয়েছে ‘হা’ অক্ষরটি, এর জন্যে  থাকবে ১০টি নেকী। এ জন্যই সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীদের অধিকাংশ লোকই মনে করতেন সহজে বেশি নেকী অর্জন করার ক্ষেত্রে কোরআন তেলাওয়াতের চেয়ে কার্যকর কোনো এবাদত নেই। হাদীসের ভাষায়-‘আফদালুল এবাদতে তেলাওয়াতুল কোরআন’ সর্বোত্তম এবাদত হচ্ছে কোরআনের তেলাওয়াত করা।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সম্পর্কে বলা হয়, তিনি বলেছেন- আমি একশ’বার রাব্বুল ইযযতকে স্বপ্নে দেখেছি, প্রতিবারই আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি, হে মালিক প্রভু, আমাকে মেহেরবানী করে বলে দাও কোন্ এবাদতটি তোমার কাছে বেশি প্রিয়। প্রত্যেকবারই জবাব এসেছে, ‘আফদালুল এবাদতে তেলাওয়াতুল কোরআন’। আমি জানি একথা শুনে আমাদের যুক্তিবাদী বন্ধুরা এ স্বপ্নের অথেনটিসিটী ও নির্ভরযোগ্যতা সূত্র খুঁজবেন, কিন্তুআমরা যদি ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের এ স্বপ্নকে নেহায়েত একটি প্রতীকী বিষয় বলে মনে করি, তাহলেও বলতে হবে তা প্রিয় নবীর হাদীসের ব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছু নয়।

এ তথাকথিত যুক্তিবাদী গবেষকরাই এক সময় কোরআনী পরিভাষার ‘তেলাওয়াত’ শব্দটির সাথে ‘কোরআনের অর্থ’ বুঝার বিষয়টিকে জুড়ে দিয়ে সাধারণ মানুষদের কোরআনের তেলাওয়াতের আগ্রহকে দারুনভাবে আহত করেছেন। আমি এ কথার সাথে শত ভাগ একমত যে, কোরআন আল্লাহ তায়ালা মানুষদের কাছে শুধু তেলাওয়াত করার জন্যেই পাঠাননি-তিনি এই মহান গ্রন্থপাঠিয়েছেন এ জন্যে যে, মানুষ এই গ্রন্থের প্রতিটি অক্ষর তেলাওয়াত করবে, একে বুঝার চেষ্টা করবে, সর্বশেষে এ অনুযায়ী জীবন গঠনে নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করবে; কিন্তুতাই বলে আল্লাহর একজন নিবেদিত বান্দা যদি সুন্দর করে কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করেন, তবে প্রিয় নবীর হাদীস অনুযায়ী প্রতি অক্ষরে তার হিসেবের খাতায় ১০ নেকী করে লেখা হবে না-এমনও তো নয়। যারা কোরআন বুঝার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে এ কথা বলেন যে, না বুঝে কোরআন পড়লে কোনো সওয়াব হবে না। তাদের নিয়তের ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না, কিন্তুএকথা ঠিক যে তাদের এই আধুনিক কোরআন গবেষণা দেশের হাজার হাজার পাঠকদের কোরআনের তেলাওয়াতের ব্যাপারে কিছুটা হলেও নিরুৎসাহিত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের বিভিন্ন কোরআন কেন্দ্রিক প্রোগ্রামে কিছু লোক হতাশ কণ্ঠে আমাকে বলেছেন, তারা নিজেরা কোরআন বুঝেন না- কিছু কিছু ‘গবেষক’ তাদের বলেছেন, কোরআন না বুঝে তেলাওয়াত করলে কোনো সওয়াব হয় না। তারা যেহেতু কোরআনের ভাষা বুঝেন না তাই তাদের অনেককেই এখন কোরআন পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ‘অর্থ না বুঝে কোরআন তেলাওয়াত করলে কোনো সওয়াব হবে না’-দরকারে বেদরকারে বারবার যারা একথাটা বলে অসংখ্য নর-নারীকে কোরআনের সুমধুর তেলাওয়াত থেকে মাহরূম রেখেছে, যারা এ মানুষগুলোর মনে কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি করেছে- কেয়ামতের মহাসমাবেশে আল্লাহ তায়ালার সামনে এরা কোরআনের সুপারিশ আশা করবে কি করে?

দেশ থেকে আজকাল এমনি নানা কারণে কোরআনের সুমধূর তেলাওয়াত প্রায় নির্বাসিত হয়ে গেছে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়ও এখন আগের মতো কোরআন চর্চা হয় না। কোরআনের তেলাওয়াত দিয়ে এখন আর গ্রামের শিশু কিশোরদের সকাল শুরু হয় না। কোরআনের আয়াত দিয়ে এখন আর তাদের পড়ন্ত বিকেল ও সন্ধ্যার মুহুর্তগুলো কাটে না। এ অবস্থায় সবাই মিলে এক সাথে কোরআনের ব্যাপক চর্চা না করতে পারলে মধ্য এশিয়ার মতো এক সময় কোরআন তেলাওয়াত ও তার চর্চা আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যাবে।

আমরা জানি, কোরআন শুধু দুলে দুলে তেলাওয়াত করার জন্যে নাযিল করা হয়নি, কিন্তুকোনো নিষ্ঠাবান কোরআনপ্রেমী যদি কোরআনের ভালোবাসায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আখেরী কালাম কোরআন মাজীদ তেলাওয়াত করে তাহলে তাকে অবশ্যই প্রিয় নবীর হাদীস মোতাবেক প্রতি অক্ষরে ১০ নেকী করে দেয়া হবে, একথাটিও আমাদের সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে। এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই আল কোরআন একাডেমী লন্ডন দুনিয়ার মানুষদের কাছে কোরআন ও কোরআনের বাণী পৌঁছে দেয়ার ছিটে ফোঁটা কিছু খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। একাডেমী এ যমীনের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে কোরআনের ‘মোসহাফ’ কোরআনের সহজ-সরল বাংলা অনুবাদ, কোরআন বুঝার নির্ভরযোগ্য উপকরণ হিসেবে বিশ্বমানের কয়েকটি তাফসীর, বেশ কিছু সীরাত গ্রন্থও বেশ কয়েক ডজন সাহিত্য উপহার দিয়েছে।

কোরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াতের জন্যে আল কোরআন একাডেমী ইতিমধ্যেই বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় বিষয়ভিত্তিক রঙ্গীন কোরআন পাঠকদের উপহার দিয়েছে, কিন্তুতার সাজসজ্জা ও পরিবেশনার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই তা সংগ্রহ করতে পারছেন না। সত্যি কথা হচ্ছে, তাদের কথা চিন্তা করেই আমরা আপনাদের খেদমতে তেলাওয়াতের এই কোরআনটি পেশ করছি। আমরা এতেও আগের মতো বাঙালি পাঠকদের সুবিধার জন্যে আরবী হরফে কলকাতা ফন্ট ব্যবহার করেছি। আমরা আরো আনন্দিত যে, এই প্রথমবারের মতো লক্ষ লক্ষ বাংগালী পাঠকদের জন্যে কোরআনের এই মূল্যবান কপিটি ইউরোপে ছাপতে পেরেছি। আশাকরি এর উন্নত ছাপা, বাঁধাই ও পরিবেশনা প্রবাসী পাঠকদের ভালো লাগবে।

আল্লাহ তায়ালার লাখ লাখ শোকর, গ্রন্থটি ছাপার আগে আমরা এর নোকতা, হরকত ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথেই চেক করতে পেরেছি, তারপরও আমরা আমাদের বিজ্ঞ পাঠক, সম্মানীত ওলামায়ে কেরাম ও মর্যাদাবান হাফেজে কোরআনদের বিশেষভাবে অনুরোধ করবো, এই গ্রন্থেরকোথায়ও কোনো মুদ্রণ জনিত দোষ-ত্রুটি নযরে এলে মেহেরবানী করে তা আমাদের জানাবেন। কোরআনের স্বার্থেই আমরা ইনশাআল্লাহ তা ঠিক করে দেবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কোরআন পড়া, কোরআন বুঝা, কোরআন দিয়ে জীবন গড়া ও অন্য মানুষদের কাছে কোরআন পৌঁছানোর তাওফীক দান করুন। আমীন!

 

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

চেয়ারম্যান

আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

মহররম ১৪৩৮, অক্টোবর ২০১৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪৮

সাইজ: ৭.২ × ৯.২ ইঞ্চি

কভার: হার্ড কভার

প্রিন্ট: সাদা কালো

কাগজ: ৬১ গ্রাম অফসেট

ওজন: ১.২ কেজি

অর্ডার করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা হয়।

ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা। (অফিস ডেলিভারি ও হোম ডেলিভারি দু’ব্যবস্থাই রয়েছে)

শর্তাবলি:

যদি কোনো পৃষ্ঠা ছেড়া ফাটা থাকে

ফর্মা মিসিং হয়

কভার উল্টা অথবা ছেড়া হয়

এসব ক্ষেত্রে আমরা এক্সচেঞ্জ দিয়ে থাকি।

Book Type

Hardcopy, PDF Book

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “তেলাওয়াতের কোরআন শরীফ (কোলকাতা হরফে বড় অক্ষরে সুন্দর ও স্পষ্ট প্রিন্ট)”

Your email address will not be published. Required fields are marked *